• শুক্রবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ||

  • আশ্বিন ১৪ ১৪৩০

  • || ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৫

আজকের খুলনা

হুমায়ুন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী ও নুহাশ পল্লী

আজকের খুলনা

প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০২৩  

আজ ১৯ জুলাই, নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১২ সালের এই দিনে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াইয়ে হার মানেন জনপ্রিয় এ কথাশিল্পী। মৃত্যুর পর গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী গ্রামে তার নিজ হাতে গড়া স্বপ্নের নুহাশপল্লীতে সমাহিত করা হয়। তবে হিমু, মিসির আলির মতো অসংখ্য জনপ্রিয় চরিত্র তৈরি করে এখনও পাঠকের মনে বেঁচে আছেন হুমায়ুন আহমেদ। 

হুমায়ুন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নুহাশপল্লীতে খতমে কুরআন, দোয়া মাহফিলের আয়োজন এবং তার কবরে শ্রদ্ধা জানানো হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হুমায়ুন ভক্তরা চলে আসেন এই নুহাশ পল্লীতে। এদিন নুহাশ পল্লীতে শোক আর স্মৃতির ভিড়ে বিভোর থাকেন ভক্তরা। 

নুহাশ পল্লীতে যার মধ্যে হুমায়ুনের স্পর্শ খুঁজে ভক্তরা

হুমায়ুন আহমেদের স্বপ্নের নুহাশপল্লী মূল ফটক পেরিয়েই সবুজ ঘাসে আবৃত বিরাট মাঠ, পাশেই পাকা বসত ঘর/বাংলো (যেখানে হুমায়ূন আহমেদ বাস করতেন)। তার পাশেই হুমায়ুন আহমেদের ম্যুরাল ও অর্গানিক ফর্মে ডিজাইন করা ডিম্বাকৃতির একটি সুইমিংপুল। এরপর একটু সামনে এগোলেই হাতের ডান পাশে রয়েছে বিভিন্ন গাছের বড় উদ্যান। 

নুহাশ পল্লীর অন্যতম আকর্ষণ প্রাচীন আদলে নির্মিত আধুনিক দুটি ঘাট বাঁধানো বৃহৎ আকারের ‘লীলাবতী দীঘি’। এ দীঘির চারপাশের পাড়জুড়ে বিভিন্ন ধরনের গাছ রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে দাবা খেলা ও নামাজ পড়ার কক্ষ। বৃষ্টি বিলাসের সামনের দিকে সবুজ মাঠের মাঝ বরাবর একটি বড় গাছের উপর কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ছোট ছোট দুটি কুটির ঘর, যেগুলোতে উঠার জন্য রয়েছে বিভিন্ন রঙে রাঙ্গা সিঁড়ি। পানির সরোবরে পাথর দিয়ে তৈরি করা হয়েছে রূপবতী মৎস্যকন্যা। এর পাশে বিরাট রাক্ষসের মূর্তি। এ ছাড়া, কনক্রিট দিয়ে তৈরি ডাইনোসরের মতো প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীদের অনুকীর্তি, দাবার গুটির প্রতিকৃতি, হরেকরকম কবুতর ও ঘর, মাটির তৈরি ঘর। এসব দেখে দেখে স্মৃতির অতল গহ্বরে হারিয়ে যায় ভক্তরা। 

কবর জেয়ারত ও ফুলেল শ্রদ্ধা 

মৃত্যুবার্ষিকীতে প্রতিবছর হুমায়ুন আহমেদের পরিবার, ভক্ত, প্রকাশকসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো মানুষ উপস্থিত হয়। তারা কবর জেয়ারত ও লেখকের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। 

হিমুদের কার্যক্রম 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল থেকে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও একদল হিমু-রুপা খালি পায়ে হেঁটে ক্যান্সার সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করতে করতে নুহাশ পল্লী আসবে। তারা সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এ ছাড়াও, দেশের বিভিন্ন জায়গায় (হিমু পরিবহনের জেলাভিত্তিক কাউন্টার) আয়োজন করবে বলে জানান হিমু পরিবহনে সদস্যরা। 

কোরআন খতম ও এতিমদের খাওয়ানো

লেখকের মৃত্যুবার্ষিকীতে নুহাশ পল্লীতে কোরআন খতম দেওয়া হয়। দুপুরে দুই শতাধিক এতিমদের খাওয়ানো হয়। 

মৃত্যুবার্ষিকীতে বৃষ্টি

হুমায়ুন আহমেদ বৃষ্টি খুব পছন্দ করতেন এটা সবারই জানা। তার অসংখ্য লেখায় বৃষ্টির গুণগান করেছেন। মজার তথ্য প্রতি মৃত্যুবার্ষিকীতেই বৃষ্টির পরশে ভিজে যায় নুহাশপল্লীর বিস্তৃত এলাকা। সেই বৃষ্টিতে ভিজে স্মৃতিচারণ করে অনেক ভক্তরা। 

নুহাশপল্লীতে প্রবেশ করতে প্রাপ্তবয়স্কদের গুণতে হয় ২০০ টাকা। তবে লেখকের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীতে প্রবেশ করতে কোন টিকিট লাগে না। 

হুমায়ূনপুত্র নিষাদ, নিনিত, স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন প্রতিবছর মৃত্যুবার্ষিকীতে নুহাশ পল্লীতে আসেন। এবারও তারা আসবেন। 

নুহাশ পল্লীর ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম বুলবুল বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও লেখকের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পরিবারের সদস্য, প্রকাশক ও আগত ভক্তদের নিয়ে কবর জেয়ারত ও ফুল দেওয়া হবে। এরপর দুপুরে দুইশো এতিমদের খাওয়ানো হবে। 

উল্লেখ্য, হুমায়ূন আহমেদের শরীরে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মরণব্যাধী ক্যান্সার ধরা পড়ে। এরপর তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যান। সেখানে ২০১২ সালের ১৬ জুলাই তিনি চলে যান লাইফ সাপোর্টে। ১৯ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ২৩ জুলাই দেশে ফিরিয়ে আনা হয় হুমায়ূন আহমেদের লাশ। ২৪ জুলাই তাকে দাফন করা হয় তার গড়ে তোলা গাজীপুরের নুহাশপল্লীর লিচুতলায়।

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা