• শনিবার ১৫ জুন ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ১ ১৪৩১

  • || ০৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

আজকের খুলনা

ছুটির দিনে সুন্দরবনে পর্যটকদের ঢল

আজকের খুলনা

প্রকাশিত: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩  

নৈস্বর্গিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি সুন্দরবন। বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট এই সুন্দরবন। প্রতিদিনই দেশি বিদেশি অসংখ্য পর্যটক সুন্দরবন দেখতে আসেন। ২৪ ঘন্টায় সুন্দরবনের ৬ টি রুপ, সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত, গাছ গাছালী, জীববৈচিত্র্য-সব কিছুই পর্যটকদের মুগ্ধ করে। পদ্মাসেতুর কারণে রাজধানী থেকে সুন্দরবনের দূরত্ব মাত্র চার ঘন্টায় নেমে আসায় সুন্দরবনে পর্যটকের সংখ্যা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। শীত কমে আসায় এবং ছুটির দিন হওয়ায় সুন্দরবনের করমজল, দুবলার চর, হিরনপয়েন্ট, কোকিলমুনি, কচিখালি, জামতলা, হারবারিয়া-সব স্থানেই এখন পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়।

সূত্র জানিয়েছে, সুন্দরবনের খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা অংশে ছোট বড় কমপক্ষে ১৪ টি পর্যটন স্পট রয়েছে। এরমধ্যে বাগেরহাট অংশে করমজল পর্যটন কেন্দ্রে সবচেয়ে বেশি পর্যটক এসে থাকেন। সমুদ্র বন্দর মোংলা থেকে নৌপথে এক ঘন্টা দূরত্বের করমজল পর্যটন কেন্দ্রে রয়েছে কুমির, কচ্ছপসহ বন্য প্রাণীর কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র, চিড়িয়াখানা, বনের ভিতরে দীর্ঘ কাঠের ব্রীজ ওয়াকওয়ে, সুউচ্চ ওয়াচ টাওয়ার প্রভৃতি। ওয়াচ টাওয়ার থেকে সুন্দরবনের বড় একটি অংশ এক নজরে দেখা যায়। ওয়াকওয়ে দিয়ে হাঁটার সময় চোখে পড়ে বানর আর হরিণের দল। বানরগুলো নির্ভয়ে সামনে চলে আসে। জামতলায় রয়েছে প্রশ্বস্ত সমুদ্র সৈকত। কয়েক বছর ধরে জেগে ওঠা ডিমের চরে পর্যটকেরা মনের আনন্দে নিরাপদে পশুর নদীতে পা ভিজিয়ে হেঁটে বেড়ান। দূবলঅর চরে শুঁটকি পল্লী পর্যটকদের মুগ্ধ করে। কটকা, কচিখালি, হিরণপয়েন্ট, শেওলারচর, হারবাড়িয়া প্রভৃতি স্থানের সৌন্দর্যও মনোমুগ্ধকর।

সুন্দরবনের ট্যুরে অপারেটর রয়েল এর স্বত্ত্বাধিকারী নাজমুল হাসান বলেন, ছুটির দিনে সুন্দরবনে পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে। পর্যটকদের যে সকল সুযোগ সুবিধা দেয়া হয় তা মূলত ট্যুরিস্ট লঞ্চে। পর্যটকেরা লঞ্চেই রাত্রি যাপন করেন। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত তাদের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। এবার পর্যটকদের ভিড় একটু বেশিভ

সুন্দরবনের ট্যুরিস্ট লঞ্চ ‘মা রবা’র মালিক গোলাম রহমান বিটু বলেন, পর্যটকদের আমরা সর্বোচ্চ সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকি। পর্যটকেরা দুই রাত তিন দিন এর প্যাকেজ ট্যুরে সুন্দরবন ভ্রমন করেন। বর্তমানে ট্যুরিস্ট লঞ্চ ভেদে এ জন্য পর্যটকদের মাথা পিছু ৮ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। লঞ্চে নানারকম মুখরোচক খাবার, বার বি কিউ পার্টি, র‌্যাফেল ড্র, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রসঙ্গত, প্রতিবছর সুন্দরবনে দেড় থেকে দুই লক্ষ পর্যটক এসে থাকেন। বাংলাদেশে সুন্দরবনের আয়তন ৬ হাজার ৫১৭ বর্গ কিলোমিটার। যার শতকরা ৮০ ভাগ স্থানে পর্যটকেরা প্রবেশ করতে পারেন না। বর্তমানে সুন্দরবনের প্রায় ৫৩ শতাংশ এলাকা অভয়ারণ্য এর অন্তর্ভুক্ত। ১৯৯৭ সালের ৬ ডিসেম্বর সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো। সুন্দরবনে এখন ৩৩৪ প্রজাতির উদ্ভিদ, ১৬৫ প্রজাতির শৈবাল, ১৩ প্রজাতির অর্কিড এবং ৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণী পাওয়া যায়। বন্যপ্রাণীর মধ্যে ৪২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৩৫ প্রজাতির সরীসৃপ, ৮ প্রজাতির উভচর, ৩১৫ প্রজাতির পাখি, ২১০ প্রজাতির মাছ, ২৪ প্রজাতির চিংড়ি, ১৪ প্রজাতির কাঁকড়া আছে।

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা