• মঙ্গলবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||

  • ফাল্গুন ১৪ ১৪৩০

  • || ১৬ শা'বান ১৪৪৫

আজকের খুলনা

ইসলামে মানবাধিকারের বিধান

আজকের খুলনা

প্রকাশিত: ১০ ডিসেম্বর ২০২৩  

বিশ্বজুড়ে সব মানুষের জন্মগত অধিকার হচ্ছে মানবাধিকার। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, দেশ, কাল, পাত্র নির্বিশেষে এটি একটি বৈষম্যহীন অধিকার। আর এই প্রেক্ষাপটেই আজ রোববার (১০ ডিসেম্বর) বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে- ‘বিশ্ব মানবাধিকার দিবস’।

ইসলামে মানবাধিকার একটি সুপ্রতিষ্ঠিত বিষয়। মানবাধিকারের বিষয়টি ইসলামের দৃষ্টিতে সর্বত্র সমান। মানবজাতিকে ইসলাম গৌরব, শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ইসলাম মানুষকে সমান অধিকার, একতা, ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করেছে। ইসলামে বংশ মর্যাদা, শ্রেণীবিভেদ, জাতিগত বিভেদ ও বর্ণবিভেদ হতে সতর্ক করেছে। দাস-দাসী ও অধীনস্তদের প্রতি সুন্দর ও ন্যায়ানুগ ব্যবহার করতে শিক্ষা দিয়েছে।

সমগ্র মানবজাতি একই পিতা-মাতার সন্তান। সৃষ্টিতে ও মৌলিক গুণাবলিতে মানুষ যেসব অধিকার ধারণ করে, তাই মানবাধিকার বা মানুষের মৌলিক অধিকার। মানবাধিকারের প্রাথমিক বিষয়গুলো হলো স্বাভাবিক জন্মের অধিকার; বেঁচে থাকার অধিকার বা স্বাভাবিক জীবনধারণের অধিকার; মৌলিক প্রয়োজনীয় বস্তু ও বিষয় তথা খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষাসহ নিরাপদ জীবনযাপন ও উন্নত ভবিষ্যৎ গঠনের অধিকার; সম্মানজনক জীবন ও স্বাভাবিক মৃত্যুর অধিকার। এসব অধিকার মহান স্রষ্টা আল্লাহ তাআলাই মানুষকে দিয়েছেন। ইসলাম প্রকৃতির অনুকূল ও মানবিক ধর্ম। তাই সব মানুষ জন্মগতভাবেই এসব অধিকার লাভ করে থাকে।

ইসলাম সব মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করেছে। স্বামী-স্ত্রী, সন্তান, পিতা-মাতা, ভাইবোন, আত্মীয়-অনাত্মীয়, নারী-পুরুষ, শিশু–বৃদ্ধ, ধনী–গরিব, জাতি ও ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সব মানবসন্তানই মানবাধিকারে সম অধিকারী। মানুষের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার জন্যই আল্লাহ তাআলা অসংখ্য নবী–রাসূল পাঠিয়েছেন, অনেক কিতাব নাজিল করেছেন; শরিয়তের বিধান দিয়েছেন।

ইসলামি শরিয়তের বিধানে মানবাধিকার সংক্রান্ত পাঁচটি প্রধান ধারা নির্ধারণ করা হয়েছে। যথা: জীবন রক্ষা, সম্পদ রক্ষা, বংশ রক্ষা, জ্ঞান রক্ষা ও ধর্ম রক্ষা। মূলত মানবতার সুরক্ষা বা মানবাধিকার প্রতিষ্ঠাই ইসলামের মূল লক্ষ্য এবং মুখ্য উদ্দেশ্য।

ইসলামের শিক্ষা হলো সব মানুষ একই উপাদানে তৈরি, সবাই এক আল্লাহর বান্দা। সব মানুষ একই পিতা–মাতার সন্তান; সব মানুষ একই রক্তে–মাংসে গড়া; তাই সাদা–কালোতে কোনো প্রভেদ নেই

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব সর্বশেষ নবী ও রাসূল হজরত মুহাম্মাদ (সা.) মানবতার মুক্তির বার্তা নিয়েই এ জগতে এসেছিলেন। তিনিই মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। ‘আইয়ামে জাহেলিয়াত’ বা অন্ধকার ও অজ্ঞানতার যুগে পাপাচার, যুদ্ধবিগ্রহ, সহিংসতা, শিশুহত্যা ও কন্যাশিশুকে জীবন্ত মাটিচাপা দেওয়ার মতো অমানবিক প্রথার প্রচলন ছিল। ইসলামই কোরআন–সুন্নাহর বিধানে মানবতাবিরোধী সব কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করেছে। মানবতাবিরোধী অপরাধ বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অপরাধকে ‘কবিরা গুনাহ’ বা মহাপাপ রূপে আখ্যায়িত করেছে এবং এর জন্য দুনিয়ায় চরম শাস্তি ও পরকালে কঠিন আজাবের ঘোষণা দিয়েছে।

ইসলামের শিক্ষা হলো সব মানুষ একই উপাদানে তৈরি, সবাই এক আল্লাহর বান্দা। সব মানুষ একই পিতা–মাতার সন্তান; সব মানুষ একই রক্তে–মাংসে গড়া; তাই সাদা–কালোতে কোনো প্রভেদ নেই। সব মানুষ আখেরি নবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) এর উম্মত। কবরে ও হাশরে সবাইকে একই প্রশ্ন করা হবে। ইসলাম ইবাদতে যেমন নারী ও পুরুষকে সমমর্যাদা দিয়েছে, সম্পদের দিয়েছে যথার্থ অধিকার। 

পবিত্র কোরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তাদের নারীদের জন্যও রয়েছে অধিকার, যেরূপ রয়েছে তাদের কর্তব্য’। (সূরা: বাকারা, আয়াত: ২২৮)

কোরআন আল্লাহ তাআলা আরো বলেন, ‘এই কারণেই বনি ইসরাইলের প্রতি আমি এই বিধান দিলাম যে নরহত্যা অথবা দুনিয়ায় ধ্বংসাত্মক কার্য করা; হেতু ব্যতীত কেহ কাহাকেও হত্যা করলে সে যেন দুনিয়ার সব মানুষকেই হত্যা করল, আর কেহ কারো প্রাণ রক্ষা করলে সে যেন সব মানুষের প্রাণ রক্ষা করল’। (সূরা: মায়িদাহ, আয়াত: ২৭)

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা