ব্রেকিং:
ফেসবুকে অবমাননাকর পোস্ট: সেই পরিতোষ সরকার গ্রেফতার সাম্প্রদায়িক অপশক্তির তৎপরতা প্রতিরোধের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • বুধবার   ২০ অক্টোবর ২০২১ ||

  • কার্তিক ৫ ১৪২৮

  • || ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

আজকের খুলনা

তারেকের সামনেই তুমুল হট্টগোলের মধ্য দিয়ে শেষ বিএনপির সিরিজ বৈঠক

আজকের খুলনা

প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১  

ভার্চুয়ালি উপস্থিত তারেক রহমানের সামনেই তুমুল হট্টগোল, বাক বিতন্ডা, বৈঠকস্থল থেকে বের হয়ে যাওয়াসহ নানা ধরণে অপ্রীতিকর ঘটনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে দ্বিতীয় দফায় বিএনপির ৩ দিনের সিরিজ বৈঠক। গেল বৃহষ্পতিবার রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলের নির্বাহী কমিটির সদস্য, জেলা ও মহানগরের সভাপতিদের নিয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। তৃণমূলের আমন্ত্রিত ১০৮ নেতার মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ৮৬ জন। কমপক্ষে ২০ জন তৃণমূলের নেতা বৈঠক বর্জন করেন। গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিকাল পৌনে ৪টায় এ বৈঠক শুরু হয়ে চলে প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বৈঠকে উপস্থিত রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের একাধিক জেলা সভাপতি জানিয়েছেন, কোনো প্রকার ফলপ্রসূ সিদ্ধান্ত বা দিকনির্দেশনা প্রদান ছাড়াই সিরিজ বৈঠক শেষ হয়েছে। আমাদের কাছে ভবিষ্যত করণীয় বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। আমরা সরাসরি বলেছি, জামায়াতকে বাদ দিতে হবে। অযথা জোটে দলের সংখ্যা বাড়ানো নিয়েও আমরা আপত্তি জানিয়েছি। তৃণমূলের সাথে কেন্দ্রের দূরত্ব ঘোচানোর কথা বলেছি। দল থেকে দ্বিমুখি নীতির নেতাদের বের করে দেয়ার দাবি জানিয়েছি আমরা। দলের সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের দাবি জানানো হয়েছে।

বৈঠকে আমাদের ৬৫ জন নেতা তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। তারা প্রায় সবাই শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলন পরিচালনার পক্ষে মত দিয়েছেন। সরকারের সাথে কোনো প্রকার বৈরীতায় না গিয়ে রাজপথের আন্দোলনকে বেগবান করার ইচছা প্রকাশ করেছেন। খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে আমরা আইনগত লড়াইয়ের কথা বলেছি।  এখন থেকেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার দাবি তুলেছি আমরা। তবে, আমাদের সব দাবি ও বক্তব্য চরমভাবে উপেক্ষিত হয়েছে। স্কাইপেতে সংযুক্ত বৈঠকের সভাপতি তারেক রহমান তৃণমূলের মতামতের তোয়াক্কা না করেই সরাসরি বলেছেন, তিনি যা বলবেন, সেভাবেই দল চলবে। খালেদা জিয়ার মুক্তি আইনী লড়াইয়ে হবে না। এজন্য সরকারকে নানাভাবে বেকায়দায় ফেলতে হবে। অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে হবে। নির্বাচন করে ক্ষমতায় যাওয়া যাবে না। তিনি আরো বলেন, লন্ডন থেকে বিএনপি পরিচালিত হচেছ। এ জন্য মোটা অংকের ফান্ড তৈরী করতে হবে। দলে যারা বড় বড় ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি আছেন, তাদের দলের জন্য আরো বেশী অর্থ খরচ করত হবে। রাজনীতিতে টাকার কোনো বিকল্প নেই।  এসময় তারেক রহমানের শিষ্ঠাচার বহির্ভুত কথা বার্তায় তৃণমূলের নেতারা স্থম্ভিত হয়ে যান।

তারেক রহমানের এসব বক্তব্যের সাথে সাথেই বৈঠকে তুমুল হট্টগোল ও উত্তেজনার ‍সৃষ্টি হয়। অনেক নেতাই বৈঠকস্থল ছেড়ে চলে যান। কেন্দ্রিয় নেতাদের সাথে বাক বিতন্ডাও হয়। পরে সিনিয়র নেতাদের অনুরোধে তারা আবার ফিরে আসেন।

আবার শুরু হওয়া বৈঠকে পিরোজপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন বলেন, জামায়াতের সঙ্গে জোট করা চলবে না। তাই অবিলম্বে এ বিষয়ে একটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম সজল বলেন, ‘ওয়ান ম্যান শো’ দলগুলোর সঙ্গে জোট করে কোনো লাভ হবে না।

রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চান বলেন, সহিংসতা ও নাশকতার পথ থেকে বিএনপিকে সরে আসতে হবে।

নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম বলেন, দলকে পুনর্গঠন করতে হবে। আর দলকে পুনর্গঠন করতে গিয়ে বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন নানা ধরনের অবৈধ লেনদেন করছে-এসব দূর করতে হবে। 

নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু বক্কর সিদ্দিক আক্ষেপ করে বলেন আন্দোলন সংগ্রামে কেই কারাগারে গেলে দল তাদের কোনো খবর রাখে না। পাশে দাঁড়ায় না।

বৈঠকে লন্ডন থেকে স্কাইপেতে সংযুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মূল মঞ্চে ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

শেষদিন সাংগঠনিক বিভাগ রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলের নির্বাহী কমিটির সদস্য, জেলা ও মহানগরের সভাপতিরা অংশ নেন। এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর টানা তিন দিন কেন্দ্রীয় নেতাদের মতামত নেন দলের নীতিনির্ধারকরা। এরপর দ্বিতীয় দফায় প্রথম দিন ২১ সেপ্টেম্বর সাংগঠনিক বিভাগ ঢাকা ও ফরিদপুর, দ্বিতীয় দিন ২২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর, ময়মনসিংহ, কুমিল্লার জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা সভাপতিদের পরামর্শ নেয় বিএনপি। দুই দফার ধারাবাহিক বৈঠকে ৪৯১ জন অংশ নেন। তাদের মধ্যে ৩০০ জন বক্তব্য রাখেন।

বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সংগঠনের অবস্থা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য কী করা যেতে পারে সেই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সেই সঙ্গে গণতন্ত্রের নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যারা আলোচনা করেছেন তাদের সব বক্তব্য লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এর পরে আমাদের দলের নীতিনির্ধারণীয় সভায় সেগুলো নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। তখন আপনারা জানতে পারবেন আমরা কী ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করব। বৈঠকে অপ্রীতিকর ঘটনার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা