• বুধবার ১২ জুন ২০২৪ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ২৯ ১৪৩১

  • || ০৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

আজকের খুলনা

বলাৎকারের পর হত্যা করা হয় কয়রার শিশু খালিদ হাসানকে

আজকের খুলনা

প্রকাশিত: ৩০ জানুয়ারি ২০২৪  

২৪ ঘন্টার মধ্যে কিশোর খালিদ হাসানকে (৬) হত্যার রহস্য ভেদ করেছে কয়রা থানা পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে জাহিদ হাসান সুমন (১৭) নামে এক কিশোর অপরাধীকে। সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছে বলাৎকারের পর হত্যা করা হয় শিশু খালিদ হাসানকে। 
গত ২৬ জানুয়ারি নানা বাড়ি থেকে নিখোঁজের ৯ ঘণ্টা পর শুক্রবার রাত ১২টার দিকে উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের তেঁতুলতলার চর গ্রামের খোকন গাজীর বাড়ির পেছনের মৎস্য ঘেরের পাড় থেকে শিশু খালিদ হাসানের লাশটি উদ্ধার করে এলাকাবাসী। নিহত শিশুটি নানা বাড়িতে বেড়াতে এসে হত্যাকান্ডের শিকার হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মোঃ কামাল হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে কয়রা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। শনিবার হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িত জাহিদ হাসান সুমনকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সে মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের তেঁতুলতলা গ্রামের জামাল শিকারীর ছেলে ও কয়রা কপোতাক্ষ কলেজে দ্বাদশ ১ম বর্ষের ছাত্র। 

পুলিশ জানায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাহিদ হাসান তার অপরাধ স্বীকার করেছে। গত রোববার গ্রেফতার কিশোর আদালতে হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। কয়রার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আজাহারুল ইসলাম এই জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি অনুযায়ী, ২৬ জানু দুপুরে জাহিদ হাসান তার বন্ধু (ছোট) আব্দুল­াহ, রমজান এবং মোশারেফ হাজী একত্রে ভিকটিম খালিদের নানার দোকানে বসে গল্প করছিল। গল্প শেষে বাড়ি ফেরার সময় খালিদ সুমনের সাথে তাদের বাড়িতে যায়। সুমনের বাড়িতে তার মা ও বোন না থাকায় সুমনের মনে কাম ইচ্ছা জাগে। তখন বাড়ির সামনে রাস্তার পাশে সুমনের দাদার থাকার খালি ঘরের মধ্যে খালিদকে নিয়ে প্রবেশ করে তার ওপর যৌন নিপীড়ন চালায় (বলাৎকার)। ঘটনার পর খালিদকে ছেড়ে দিলেও এই ঘটনা সবাইকে বলে দেবে ভেবে সুমন ভয় পায়। লোকলজ্জার ভয়ে খালিদকে পরে ঘরের ভিতর নিয়ে হাত দিয়ে তার গলার শ্বাসনালী স্বজোরে চেপে ধরে রাখে। খালিদ নিস্তেজ হয়ে গেলে তার মাথা ধরে হ্যাচকা মোচড় মারে। খালিদ নড়াচড়া বন্ধ করে দিলে তাকে উক্ত খাটের নিচে রেখে মোটরসাইকেল চালক রমজানকে ডেকে তাদের ফার্মের ১৫টি মুরগি নিয়ে চৌকুনী বাজার বিক্রি করে পুনরায় বাড়িতে এসে দেখে তার মা বোন বাড়িতে ফেরেনি। তখন পুনরায় খালিদকে খাটের নিচ থেকে বের করে। খালিদের শরীরে হাত দিয়ে দেখে সামান্য নড়াচড়া করছে। বেঁচে আছে সন্দেহে পুনরায় ঘরের বেড়ার লাইলনের সুতা ব্লেড দিয়ে কেটে খালিদের গলায় পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পুনরায় খালিদের মৃতদেহ খাটের নিচে লুকিয়ে রেখে জাহিদ তাকে খোঁজার লোকজনের সাথে মিশে নিজে খোঁজার অভিনয় করে। এই সময় জাহিদের মা বোন ও প্রতিবেশী নানী তাদের বাড়িতে খালিদকে খুঁজতে আসে। তাদের সাথেও স্বাভাবিকভাবে কথা বলে। সন্ধ্যার পর জাহিদের মা বোন বাড়ির বাইরে গেলে মাগরিবের নামাজের পরে খালিদের লাশ ঘর থেকে বের করে তাদের বাড়ির উত্তর পাশের ঘেরের মধ্যে দিয়ে হেঁটে সোজাসুজি মনিরুলের মৎস্য ঘেরের দক্ষিণ পাশের ভেড়িবাঁধের উপর ফেলে রাখে। কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশু লাশ দেখে শরীরের চিহ্ন ও কিছু লক্ষণ দেখে বোঝা যাচ্ছিল এটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। আশে পাশের সকল খোঁজ খবর নিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে জানতে পারি পাশের এক ছেলের সাথে বের হয় শিশুটি। সেই ছেলেকে খোঁজাখুঁজির পরে তার বন্ধুদের মাধ্যমে তাকে আনার পর তার আচরণ অস্বাভাবিক মনে হয়, সে কাঁপতে থাকে। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই কিশোর নিজের দোষ স্বীকার করে। ওসি আরও বলেন, নিহত শিশুর বাবার করা অজ্ঞাত মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে সে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা