• সোমবার   ০৩ অক্টোবর ২০২২ ||

  • আশ্বিন ১৮ ১৪২৯

  • || ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

আজকের খুলনা

তেরখাদায় সুদখোর সালমা ও ভূয়া সীলমোহর মূলহোতাকে গ্রেফতার দাবি

আজকের খুলনা

প্রকাশিত: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২২  

র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার রিপন বিশ্বাসের নেতৃত্বে ভূয়া সীলমোহর সিন্ডিকেটে প্রতারক চক্রের মাধ্যমে সুদখোর সালমা বেগমের খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন তেরখাদা উপজেলার বারাসাত ইউনিয়নের হাড়িখালী গ্রামের কায়েস ফকিরের স্ত্রী লাভলী বেগম। স্বেচ্ছা ধারের তিন লাখ টাকার সুদাসল অন্তত ১৪ লাখ টাকা দিলেও পরিশোধ হয়নি সুদখোরের দেনা। ভূয়া সীলমোহর সিন্ডিকেটের রিপন বিশ্বাস ও তেরখাদা কথিত সাংবাদিক মফিজুল ইসলাম জুম্মনের সাথে মিলে অসহায় এই পরিবারটির বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত চক্রটি। অবিলম্বে এসব দুষ্ক্রীতকারীদের গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অসহায় লাভলী বেগম। আজ শুক্রবার (০৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এমনি অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০১৮ সালে তেরখাদা উপজেলার বারাসাত ইউনিয়নের হাড়িখালী গ্রামের আসলাম মোল্লার স্ত্রীর সালমা বেগম নিজে তাদের বাড়ীতে এসে উপকারের কথা বলে এক লাখ টাকা ঋণ দেয়। কিন্তু ওই টাকা সময় মতো পরিশোধ করতে চাইলেও সে নেয়নি। বরং কৌশলে সুদ হিসেব করতে থাকে সুদখোর সালমা বেগম। এর কিছুদিন পর দশ-বিশ হাজার টাকা করে পর্যায়ক্রমে তিন লাখ টাকা ঋণ দেয় সে। এক বছর পর ২০১৯ সালের এসে সুদ-আসলে ৬ লাখ টাকা দাবি করে সুদখোর সালমা বেগম। এরপর পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করে, গোয়ালের পাঁচটি গরুসহ বাড়ীর ঘটিবাটি বিক্রি করে অন্তত ১৪ লাখ টাকা পরিশোধ করেছি। তাতেও ক্ষ্যান্ত হয়নি সুদখোর সালাম বেগম। একপর্যায়ে লাভলী বেগমের ভাই পুলিশ সদস্য মফিজুর রহমানের স্বাক্ষরিত দু’টি চেকের পাতা চুরি করে নিয়ে যায় সুদখোর সালমা বেগম, যদিও তখন জানতে পারিনি কেউ। গত বছরের ১৪ জানুয়ারি লাভলী বেগমের ভাই পুলিশ সদস্য মফিজুর রহমানের সেই চেক দু’টির খোঁজ না পাওয়ায় খুলনার সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় তার ভাই সাধারণ ডায়েরি করেন (যার নং-৭৩২, ১৪-০২-২০২১)। সাধারণ ডায়েরির পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে যেয়ে চেকের পাতা দু’টি নিষ্ক্রীয় করা হয়েছিল। কিন্তু নিষ্ক্রীয় দু’টি চেকের বিপরীতে বিশ লাখ টাকার চেক জালিয়াতির মামলা করে সুদখোর সালমা বেগম।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, তার এই বিপদের মধ্যে ঘোলাজলে মাছ শিকার করতে আসে তেরখাদা চিহিৃত প্রতারক রিপন বিশ্বাস। মামলার ভয় দেখিয়ে রিপন বিশ্বাস তাদের কাছে এক লাখ টাকা দাবি করে। আমি টাকা দিতে অপারগ হওয়ায় সুদখোর মহিলা সালমা বেগমের সাথে মিলে ভূয়া স্ট্যাম্প তৈরি করে রিপন বিশ্বাস। সেই ভূয়া তিনটি স্ট্যাম্পের মাধ্যমেই হয়রানিমুলকভাবে তার বিরুদ্ধে বিশ লাখ টাকার দাবি করছে। রিপনের আশ্রয়দাতা হিসেবে তেরখাদার সাংবাদিক মফিজুল ইসলাম জুম্মনের কথা জানতে পেরে, তার কাছেও যান। কিন্তু তিনিও কোন সুরাহা করেননি। বরং কথিত এই হলুদ সাংবাদিকই প্রতারক রিপন বিশ্বাস ও সুদখোর সালমা বেগমকে ছত্রছাঁয়া দিচ্ছে। আপনারা জানেন, গত ২৮ আগস্ট সরকারী-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের ২৯টি ভূয়া সীলমোহরসহ রিপন বিশ্বাসকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৬। সুদের বেঁড়াজাল থেকে বাঁচতে সুদখোর সালাম বেগম ও ভূয়া সীলমোহর সিন্ডিকেটের মূলহোতা কথিত হলুদ সাংবাদিককে অবিলম্বে গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করছে অসহায় লাভলী বেগম। 

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা