• বৃহস্পতিবার   ০৭ জুলাই ২০২২ ||

  • আষাঢ় ২৩ ১৪২৯

  • || ০৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

আজকের খুলনা

বটিয়াঘাটা সহ দুই জেলায় ৩৩ ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সিলগালা

আজকের খুলনা

প্রকাশিত: ৩১ মে ২০২২  

অনিবন্ধিত ৩৩টি প্রাইভেট ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। গতকাল সোমবার বটিয়াঘাটা, নড়াইল ও মেহেরপুরে বিভিন্ন ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। 

বটিয়াঘাটা : বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিকের ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার লাইসেন্সসহ বৈধ কাগজপত্র দেখতে সরেজমিনে পরিদর্শন করেন বটিয়াঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ মিজানুর রহমান। জনবল না থাকায় সোমবার সকাল ১০টায় বটিয়াঘাটায় ৫টি বেসরকারি ক্লিনিকের মধ্যে ৪টি ক্লিনিক সিলগালা করা হয়। ক্লিনিকগুলো হলো বটিয়াঘাটা বাসস্ট্যান্ডের সোনালী ক্লিনিক, গল­ামারি ছফুরা ক্লিনিক, জিরো পয়েন্ট সুন্দরবন নার্সিং হোম এ্যান্ড ক্লিনিক ও খারাবাদ নোভা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার। অন্যদিকে জিরোপয়েন্টে এম আর ক্লিনিক, সুন্দরবন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বটিয়াঘাটার সূর্য ডায়াগনস্টিক সেন্টার, করুণা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সোনালী ডায়াগনস্টিক সেন্টার, এম আর ডায়াগনস্টিক সেন্টার, খারাবাদ ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে বৈধ কাগজপত্র প্রস্তুত করে উপজেলা স্বাস্থ্য দপ্তরে দাখিলের নির্দেশ দেন। অভিযান চলাকালীন সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, আরএমও ডাঃ অভিজিৎ মলি­ক, সেনিটারি ইন্সপেক্টর মাসুম রেজাসহ বটিয়াঘাটা উপজেলাধীন বটিয়াঘাটা, লবণচরা ও হরিণটানা থানার পুলিশ সদস্য।

নড়াইল: নড়াইলে ২৪টি অনিবন্ধিত ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ ও সিলগালা করেছে প্রশাসন। সোমবার দুপুর পর্যন্ত অনুমোদন না থাকা এসব ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ ও সিলগালা করা হয়। এছাড়া জেলায় নিবন্ধিত ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে ৬৪টি।

জানা গেছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী জেলার অনিবন্ধিত কিছু সংখ্যাক ক্লিনিক ও ডায়গনস্টিক সেন্টার নিজে থেকেই বন্ধ করে দিয়েছে। আর বাকিগুলো জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও জেলা পুলিশের সমন্বয়ে অভিযান চালিয়ে বন্ধ করা হয়েছে। বন্ধ ও সিলগালা করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নড়াইল সদর উপজেলার ছয়টি হচ্ছে, শেখ এক্স-রে, ফিরোজা এক্স-রে, নড়াইল ডেন্টাল পয়েন্ট, আনছার ডেন্টাল কেয়ার, ইউনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও গাজী ক্লিনিক।
লোহাগড়া উপজেলার ৮টি হচ্ছে, লোহাগড়া ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আনিকা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, নাসরিন ডেন্টাল কেয়ার, বন্ধন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, পিয়ারলেস ডায়াগনস্টিক স্টোর/পাইলস কিওর সেন্টার, খান জেনারেল হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার-পাইলস চিকিৎসালয় এবং আলিফা ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
কালিয়া উপজেলার ১০টি হচ্ছে, রোকেয়া এক্স-রে এ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, চিত্রা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মধুমতি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, রাসনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, হাজী খান রওশন আলী হাসপাতাল এ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মুক্তিযোদ্ধা ওমর ফারুক ক্লিনিক, সম্রাট ক্লিনিক, জিয়া জেনারেল হাসপাতাল ও এফ এম ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
নড়াইল জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার সুবত্র হালদার বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করে সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, জেলায় অনিবন্ধিত সব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া লাইসেন্স নবায়ন না করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নবায়নের জন্য নির্দিষ্ট সময় বেধে দেওয়া হয়েছে।
মেহেরপুর: মেহেরপুরের মুজিবনগরে অভিযান চালিয়ে পাঁচটি অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সোমবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে অনুমোদন না থাকা এসব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করা হয়। এছাড়া বাকি যেসব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স নবায়ন করা নেই তাদের লাইসেন্স নবায়নের জন্য নির্দিষ্ট সময় বেধে দেওয়া হয়েছে।
সিলগালা করা প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে, জারা নার্সিং হোম এ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সিয়াম ডায়াগনস্টিক এ্যান্ড ল্যাব, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মুজিবনগর স্টার ক্লিনিক ও ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং হাজী ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগানস্টিক সেন্টার। এসব প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পাওয়ার আগ পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা ও থানা পুলিশের একটি টীম নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন মুজিবনগর উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আসাদুজ্জামান।
মেহেরপুর জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মেহেরপুর জেলায় মোট ৩৩টি ক্লিনিকের মধ্যে লাইসেন্স রয়েছে ২৮টির। এছাড়া ৬১টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে লাইসেন্স রয়েছে ৪৭টির।
মেহেরপুর সিভিল সার্জন ডাঃ জওয়াহেরুল আনাম সিদ্দিকী বলেন, সব অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ না করা পর্যন্ত এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা