• শনিবার   ০৪ ডিসেম্বর ২০২১ ||

  • অগ্রাহায়ণ ২০ ১৪২৮

  • || ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৩

আজকের খুলনা

এক সেকেন্ডের জন্যও ‘বিরক্ত’ হওয়ার সুযোগ নেই: সিয়াম

আজকের খুলনা

প্রকাশিত: ২১ নভেম্বর ২০২১  

সকল অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আসছে বছরের প্রথম সপ্তাহেই মুক্তি পেতে যাচ্ছে চিত্রনায়ক সিয়াম আহমেদ অভিনীত নতুন সিনেমা ‘শান’।শুটিং শুরুর সময় থেকেই আলোচনার তুঙ্গে ছিলো সিনেমাটি, এরপর ছবির ফার্স্ট লুক পোস্টার এবং টিজারে সেই আগ্রহের পারদ ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। অবশেষে মুক্তি পেতে যাচ্ছে সেই সিনেমাটি। সিনেমাটি নিয়েই কথা হয় ছবির নায়কের সঙ্গে। সেই আলাপচারিতার চুম্বকাংশ তুলে ধরা হলো পাঠকদের জন্য।

অবশেষে ৭ জানুয়ারি মুক্তি পাচ্ছে আপনার অভিনীত ‘শান’ সিনেমাটি। অনেক আগেই শুটিং শেষ হওয়া এবং কয়েকবার মুক্তির ঘোষণা দিয়েও পিছিয়ে যাওয়া; সবকিছু মিলিয়ে কেমন অনুভূতি অনুভব করছেন?

সিয়াম: প্রথমত আমি এই সিনেমার একজন শিল্পী মাত্র। সিনেমা মুক্তি দেওয়ার বিষয়গুলো পরিচালক কিংবা প্রযোজকদের ওপরেই নির্ভর করে। আর গত দুই বছর ধরে দেশে করোনা মহামারি চলছে, এটা সবারই জানা। যার কারণে সবকিছু স্বাভাবিক হলে একটা সঠিক সময়ের অপেক্ষায় ছিলেন প্রযোজক। এখন তো দেশের অবস্থা মোটামুটি স্বাভাবিকই বলা চলে, অনেক সিনেমা মুক্তির ঘোষণা আসছে, আমরাও একটা সময় বেছে নিয়ে ঘোষণা দিলাম। এখন দেখা যাক কি হয় সামনে! যাদের জন্য আমরা এতটা পরিশ্রম করে একটা ভালো কাজ করেছি, সেই দর্শক কতটা ভালোবাসা দেখান আমাদেরকে!

তবে এটা বলতেই হবে, আমি যেখানেই গিয়েছি হোক সেটা কোনো অনুষ্ঠান কিংবা দাওয়াত বা শুটিং; সবার একটাই প্রশ্ন ছিলো, ভাইয়া ‘শান’ কবে আসবে? এই ছবিটা নিয়ে দর্শকের মধ্যেও অনেক বেশি আগ্রহ দেখেছি। যারা সিনেমা দেখতে পছন্দ করেন, যারা করেন না; তারাও আমাদের ছবির টিজার দেখে অনেক প্রশংসা করেছেন, ছবিটি দেখার অপেক্ষায় আছেন বলে জানিয়েছেন। তাদের সবার অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। যারা অধীর আগ্রহে ছবিটির জন্য অপেক্ষা করছেন, সেইসব দর্শকের জন্য এটা আমাদের উপহার।

ছবিটি সম্পর্কে দর্শকের উদ্দেশ্যে কি বলতে চান?

সিয়াম: এই ছবিটি আমাদের সবার কাছের একটি ছবি। এই কাজটার সঙ্গে প্রায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে যুক্ত থাকা এবং এটি পরিচালকের প্রথম সিনেমা। শুধু তাই নয়, যারা আমার সঙ্গে জুটি হিসেবে পূজাকে দেখতে চান, তাদের জন্য ‘দহন’ এর পর আমাদের কামব্যাক সিনেমা।

ছবিটি সিনেমা হলে নিয়ে যাওয়ার আগে আমরা এরমধ্যে কয়েকবার প্রিভিউ করেছি। এই সিনেমা সংশ্লিষ্ট এবং সংশ্লিষ্টের বাইরেও যারা দেখেছেন তারা সবাই একটা জায়গায় একমত হয়েছেন যে, এই ছবিটি দেখে দর্শকরা এক সেকেন্ডের জন্যও বোরিং ফিল করবে না। দৃশ্যগুলোর প্রতিটা মুহূর্তই দর্শকদের কানেক্ট করে রাখবে, যার কারণে দর্শকের বোরড হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ‘শান’ এর আসল ফ্লেভার পেতে হলে সিনেমা হলে বসে ছবিটি দেখতে হবে। আমরা চাই দর্শকরা হলে আসুক, ছবিটি দেখুক। কাজ ভালো লাগলে তারা এপ্রিশিয়েট করুক, খারাপ হলে আরও ভালো করার সাজেশন দিক।

এটা আমার, আপনার সবার ছবি, দেশের ছবি। দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় নিয়ে ছবির গল্প, যেটার সঙ্গে অনেক দর্শকই তাদের নিজেদেরকে মেলাতে পারবে। সেই কষ্ট, বীভৎসতার বিরুদ্ধে একদল কর্মী যুদ্ধ করে, তখন মনে হবে দর্শকরাই যেন যুদ্ধ করছেন! আমরা দর্শকদের জন্যই কাজ করি। একটা ভালো আউটপুটের জন্য যা করা দরকার আমরা সেটাই করে যাচ্ছি। প্রত্যেকটা প্রজেক্টের জন্য যথেষ্ঠ পরিশ্রম করেছি, কষ্ট করেছি। আর কতটা কষ্ট করেছি সেটা পর্দায় দেখলেই বোঝা যাবে। ছবি দেখার পর যখন দর্শকরা হাততালি দিবে সেটাই হবে আমাদের প্রাপ্তি।

করোনার পর সিনেমার হল খুলেছে, একের পর এক সিনেমা মুক্তির ঘোষণা আছে। দর্শক কতটা হলমুখী হবে বলে মনে করেন?

সিয়াম: করোনার কারণে আমরা যে একটা ধাক্কা খেলাম, সেটা কাটিয়ে উঠতে এখন বেশ কয়েকটা সিনেমা ব্যাক টু ব্যাক রিলিজ হওয়া দরকার, যেটা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। বড় বাজেটের সিনেমা হোক কিংবা ভালো কন্টেন্টের সিনেমা হোক; সবাই কিন্তু আসছে, এটা খুবই পজেটিভ আমাদের জন্য।

অনেকেই সিনেমা হল খোলার অপেক্ষায় ছিলেন, ভালো সিনেমা হলে সিনেমা দেখতে চান। এখন তো সিনেপ্লেক্স খুলেছে, ভালো সিনেমা হলে বসেই ছবি দেখতে পারবেন। নিজের দেশের সিনেমা দেখুন। সিনেমা না দেখলে দেশের সিনেমার জন্য কন্ট্রিবিউট করার যে একটা জায়গা আছে সেটা কিন্তু থাকে না। আমরা সবাই অনেক প্রত্যাশা নিয়ে আছি। আশা করছি একটা উৎসবমুখর পরিবেশ হবে।

যতটুকু জানি, এই ছবিটি নিয়ে আপনার নিজেরও প্রত্যাশা অনেক, পরিশ্রমও করেছেন অনেক বেশি... সিয়াম: একজন শিল্পীর জন্য তার প্রতিটা কাজই কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রিয়। তারপরেও ‘শান’ নিয়ে দর্শকদের এত বেশি আগ্রহ এবং আমাদের সবার এফোর্ট; সবকিছু মিলিয়ে এই সিনেমাটি নিয়ে আমি নিজেও অনেক বেশি এক্সাইটেড। এটা আমার প্রথম অ্যাকশন সিনেমা। সবাই অ্যাকশন বলতে শুধু মার-কাটকেই বুঝে থাকেন, এই সিনেমাতে এর বাইরেও নতুন অনেক কিছু দেখতে পাবেন দর্শকরা।

অ্যাকশন মানেই শুধু কাটা-কাটি,মারামারি নয়, এটা হচ্ছে মেধার সঙ্গে মেধার লড়াই, সাহসের লড়াই, দেশের জন্য লড়াই। এটুকু বলতে পারি, নাবালক থেকে বৃদ্ধ সবাইকে নিয়ে সিনেমা হলে বসে দেখার মত সিনেমা এটা, কেউ এক সেকেন্ডের জন্য বোরিং ফিল করবেন না। সিনেমা হলে না দেখলে এই ছবির আসল মজাটাই বোঝা যাবে না। যারা দেখবেন না, তারা হয়তো অনেক কিছু মিস করবেন, পরে হয়তো আফসোসও করতে পারেন।

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা