• শনিবার   ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ২২ ১৪২৯

  • || ১৩ রজব ১৪৪৪

আজকের খুলনা

ডিএনএ পরীক্ষায় মিললো পরিচয়:উদ্ধারকৃত কঙ্কাল খুলনার রাজীবের

আজকের খুলনা

প্রকাশিত: ১৮ জানুয়ারি ২০২৩  

যশোরের পুরাতন কসবা কাজীপাড়া নিরিবিলি এলাকা থেকে উদ্ধার হওযা ড্রাম ভর্তি কঙ্কাল খুলনার রাজীব হোসেন কাজীর (৩২)। তিনি দিঘলিয়ার চন্দোলি মহল গ্রামের ফারুক হোসেনের ছেলে। ডিএনএ থেকে শনাক্ত করা হয়েছে কঙ্কালটি। আটক হয়েছে রাজিব খুনে জড়িত সালাম হোসেন (৫৫)। সে নড়াইল লোহাগড়ার মঙ্গলহাটা গ্রামের মৃত নুর মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় রিকসা চালক। বর্তমানে যশোর শহরতলীর কিসমত নওয়াপাড়ার আবদার ড্রাইভারের বাড়ির ভাড়াটিয়া। ৬ বছর আগে খুন করে লাশটি গুম করে সালাম চক্রটি। হত্যার পর মরদেহের অস্তিত্ব নষ্ট করতে পুরাতন কসবা নিরিবিলি এলাকার বজলুর রহমানের পরিত্যক্ত টয়লেটের রিং স্লাবের কুয়ার ভেতরে ফেলে দেয়া হয়। পিবিআই যশোরের তদন্তে উঠে এসেছে এসব তথ্য।

।। ২০১৬ সালের ২৯ মার্চ রাত অনুমানিক ৮টায় রাজীব তার বাবাকে ফোন করে তাদের খুলনার বাড়িতে আসছেন বলে জানান। কিন্তু রাজীব খুলনায় তাদের বাড়িতে যাননি।।
গত বছরের ৩০ মে দুপুরে কঙ্কালটি উদ্ধার হওয়ার পর থেকে সর্বত্র আলোচিত ছিল হত্যার ঘটনাটি। সবার একই কথা ছিল ওই কঙ্কালটি কোন হতভাগ্যের। এদিকে পুলিশের পরিস্কার ধারণা ছিল এটি ৩ থেকে ৪ বছর আগের হত্যাকান্ড। ওইদিন দুপুর ১২টার দিকে কাজীপাড়া নিরিবিলি এলাকার বজলুর রহমানের একটি জমিতে নির্মাণ কাজ করছিলেন কয়েকজন শ্রমিক। তারা ওই জমিতে পাইলিংয়ের সময় একটি পুরোনো ড্রাম দেখতে পান। পরে ওই ড্রামের ভেতরে ও আশপাশে চুনের আবরণ দেখতে পান। পচা দুর্গন্ধও আসতে থাকে ড্রাম থেকে। এতে তাদের সন্দেহ হয়। বিষয়টি তারা প্রথমে জমির মালিক বজলুরে রহমানকে জানান। পরে জমি মালিক ও স্থানীয়রা দুর্গন্ধ ও ড্রামের বিষয়টি পুলিশকে জানালে কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ড্রাম খুলে মানুষের কঙ্কাল দেখতে পান। এরপর থেকেই এটি হত্যাকান্ডের আলামত বহন করছে বলে পুলিশ দাবি করে। অজ্ঞাত কাউকে অপহরণ করে হত্যা পর এখানে লাশ গুম করা হয়েছে। ঘটনাটি আমলে নিয়ে পিবিআই যশোর ছায়া তদন্ত অব্যাহত রাখে। তদন্তের সময় টিমের সদস্যরা জানতে পারে দিঘলিয়ার রাজীব হোসেন কাজী তার চাচা হাসমতের বাড়িতে থেকে যশোরের পুরাতন কসবা আবু তালেব সড়কের সজিবুর রহমানের অফিস ও বাসায় কাজ করতেন। ২০১৬ সালের ২৯ মার্চ রাত অনুমানিক ৮টায় রাজীব তার বাবাকে ফোন করে তাদের খুলনার বাড়িতে আসছেন বলে জানান। কিন্তু রাজীব খুলনায় তাদের বাড়িতে যাননি। রাজীব বাড়িতে না গেলে বাবা ফারুক হোসেন ছেলে রাজীবের মোবাইল ফোন বন্ধ পান। এরপর বাবা ভাই হাসমতের সাথে যোগাযোগ করেন। হাসমত জানান, ২৯ মার্চ থেকে রাজীবকে তারাও পাচ্ছেন না। কয়েকদিন পর রাজীবের মা মাবিয়া বেগম ছেলের খোঁজে যশোরে আসেন। রাজীবে মা মাবিয়া বেগম ও চাচা হাসমত অফিস মালিক সজীবের বাসায় গিয়ে রাজিবের খোঁজ করলে সজীব জানান, রাজীব কোথায় গেছেন তিনি জানেন না। তিনি বলেন, তারা যেন মামলা মোকদ্দমা করে ছেলেকে উদ্ধারের ব্যবস্থা করে। রাজীবের মা ও চাচা সজীবের অফিস এবং বাড়িতে ও সম্ভাব্য সকল জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে কোন সন্ধান না পেয়ে নিরুপায় হয়ে পড়েন।

এরপর পিবিআই যশোর তথ্য পায়, গত বছরের ৩০ মে পুরাতন কসবা নিরিবিলি পাড়ার বজলুর রহমানের যে পরিত্যক্ত পুরাতন টয়লেটে ড্রামের মধ্যে কঙ্কাল পাওয়া যায়, সেই জমির আগের মালিক ছিলেন রাজীবের অফিস মালিক শেখ সজীবুর রহমান। রাজীব নিখোঁজ হওয়ার কিছুদিন পর সজীব তার অফিস ভেঙ্গে ফেলেছিলেন। রাজীবের বাবা ফারুক হোসেন, তার ভাই হাসমত ওই তথ্য জেনে যশোরে আসেন। পিবিআইয়ের ছায়া তদন্তে ফারুক হোসেন পিবিআই যশোর অফিসে এসে পুলিশ সুপারের কাছে তার ছেলেকে শনাক্ত করণের জন্য অনুরোধ জানান। এই সংক্রান্তে পিবিআই যশোর কার্যালয়ে একটি জিডি করা হয়। জিডি নাম্বার ১৪৬। জিডির সূত্র ধরে পিবিআই যশোরের এসআই জিয়াউর রহমান নিহত রাজীবের বাবা ফারুক হোসেন এবং মা মাবিয়া বেগমকে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশ গ্রহণ করে কঙ্কালের সাথে তাদের পরিচয় শনাক্তের জন্য নির্দেশনা পান। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকার সিআইডি ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়। ডিএনএ পরীক্ষায় ড্রামের মধ্যে পাওয়া মানবদেহের কঙ্কালের সাথে ফারুক হোসেন ও তার স্ত্রী মাবিয়ার ডিএনএর মিল পাওয়া যায়। কাজেই পরিস্কার হয় ড্রামের ভেতরে পাওয়া কঙ্কাল তাদের ছেলের। আর এটা হত্যকান্ড বলেও পরিস্কার হয়। এরপর ১৭ জানুয়ারি যশোর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়। যার নাম্বার ৩৪।

পিবিআই যশোর জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার রেশমা শারমিনের নেতৃত্বে পুলিশ পরিদর্শক শামীম মুসা, এসআই স্নেহাশিস দাশ, এসআই জিয়াউর রহমান, এসআই ডিএম নূর জামালসহ একটি চৌকস দল তদন্ত ও আটক অভিযান শুরু করেন। তারা ১৬ জানুয়ারি রাজীব হত্যায় জড়িত সালাম হোসেনকে আটক করেন।

পিবিআই পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন জানান, জিজ্ঞাসাবাদে সালাম জানিয়েছে অন্য অসামিরা রাজীবকে হত্যা করে। আর রিকসা চালক সালামের সহযোগিতায় মৃতদেহ গোপন করার জন্য ড্রামে ভরে তার রিকশায় করে পুরাতন কসবা নিরিবিলি এলাকার শেখ সজিবুর রহমানের অফিসের টয়লেটের কুয়ার মধ্যে ফেলে দেয়া হয়। আসামি সালামকে ১৭ জানুয়ারি বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার দালালের আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালতে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। মৃতদেহ বহনের কাজে ব্যবহৃত রিকশাটিও জব্দ করা হয়েছে। হত্যাকান্ডে জড়িত অন্য অসামিদের আটক অভিযানসহ মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা