• শুক্রবার ২৬ এপ্রিল ২০২৪ ||

  • বৈশাখ ১৩ ১৪৩১

  • || ১৬ শাওয়াল ১৪৪৫

আজকের খুলনা

শর্ত না মানলে থোক বরাদ্দ পাবে না ইউনিয়ন পরিষদ

আজকের খুলনা

প্রকাশিত: ৩ অক্টোবর ২০২২  

স্থানীয় সরকার বিভাগের লোকাল গভর্ন্যান্স সার্পোট প্রজেক্ট-৩ (এলজিএসপি-৩) এর অগ্রগতি ও অর্জন বিষয়ে জেলা পর্যায়ে অবহিতকরণ কর্মশালা রবিবার (২ অক্টোবর) দুপুরে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় বলা হয়, যে সব ইউনিয়ন পরিষদ তিনটি শর্তের একটি শর্ত পালনেও ব্যর্থ হবে, তারা মৌলিক থোক বরাদ্দের (বিবিজি) ৭৫ শতাংশ অর্থ পাবে না।  

স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক মৌলিক থোক বরাদ্দ (বিবিজি) এর অর্থ দুই কিস্তিতে এবং দক্ষতাভিত্তিক বরাদ্দের (পিবিজি) অর্থ এক কিস্তিতে ছাড় করা হয়। মৌলিক থোক বরাদ্দ প্রাপ্তির শর্তে পূর্ববর্তী বছরের আপত্তিহীন অডিট প্রতিবেদন দাখিল করতে হয়। এছাড়া জনঅংশগ্রহণমূলক বার্ষিক পরিকল্পনা ও বাজেট এবং সময়মতো ষান্মাসিক রিপোর্টও জমা দিতে হয়। 

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. ইউসুপ আলী।

কর্মশালায় খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপ-প্রধান তথ্য কর্মকর্তা জিনাত আরা আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা সরদার মাহবুবার রহমান, প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম নজরুল ইসলাম, সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ফারুক আহমেদ, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মামুন রেজা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, এনজিও, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও স্টেকহোল্ডাররাও এতে অংশ নেন। 

বক্তারা বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার ইউনিয়ন পরিষদকে শক্তিশালী করতে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য এলজিএসপি-৩ এর বাস্তবায়ন। এই প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে অগ্রাধিকারভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত এই প্রকল্পের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদকে সরাসরি থোক বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

 মৌলিক থোক বরাদ্দের ২৫ শতাংশ অর্থ সব ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে সমহারে বিতরণ করা হয়। অবশিষ্ট ৭৫ শতাংশ অর্থ, অডিটে উত্তীর্ণ ইউনিয়ন পরিষদের জনসংখ্যার ওপর ভিত্তি করে ৯০ শতাংশ এবং আয়তনের ওপর ভিত্তি করে ১০ শতাংশ হারে বরাদ্দ দেওয়া হয়। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৫৯, ৬০ ও ৬১ এর বিধান অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদের অডিট বা নিরীক্ষা কাজ সম্পাদিত হয়ে থাকে। সরকারি অডিটের পাশাপাশি বেসরকারি অডিট ফার্ম দ্বারাও এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

উল্লেখ্য, এলজিএসপি-৩ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের চেষ্টা চলছে। এলজিএসপি-৩ এর আওতায় প্রতিটি বিভাগ থেকে দুটি করে মোট ১৬টি পৌরসভাকে পাইলট ভিত্তিতে সম্প্রসারিত থোক বরাদ্দ দেওয়অ হচ্ছে। প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের আওতায় স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক ৩২টি সূচকের ভিত্তিতে ১০০ নম্বরের ফরমে আর্থিক ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক, যেমন- রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, রাজস্ব আদায়ের হার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, জনগণের অংশগ্রহণ, পরিকল্পনা ও বাজেট প্রণয়ন এবং প্রতিবেদন দাখিলের বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের দক্ষতা পরিমাপ করা হয়।

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা