• রোববার ২৩ জুন ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ৯ ১৪৩১

  • || ১৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

আজকের খুলনা

খুলনায় তীব্র দাবদাহে ঘেরে মারা যাচ্ছে চিংড়ি

আজকের খুলনা

প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০২৩  

একদিকে অনাবৃষ্টি অন্যদিকে তীব্র দাবদাহে খুলনা অঞ্চলে আশঙ্কাজনক হারে মারা যাচ্ছে বাগদা চিংড়ি। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন চাষিরা। আর উৎপাদন কম হলে রফতানিতেও তার প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত এক মাস ধরে চলতে থাকা স্মরণকালের ভয়াবহ দাবদাহে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে খুলনা অঞ্চলের চিংড়ি চাষিরা। খুলনার বটিয়াঘাটা, দাকোপ, পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলায় বিভিন্ন ঘেরে চিংড়ি মারা যাচ্ছে এই প্রচণ্ড দাবদাহে। জেলার অধিকাংশ সনাতন পদ্ধতির অগভীর চিংড়ি ঘেরের চিত্র একই।

সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও চিংড়ি ঘেরে দেখা দিয়েছে ভাইরাস। পোনা ছাড়ার তিন মাস পরেও চিংড়ি বিক্রয় উপযোগী হচ্ছে না। ঘেরে জাল ফেললে উঠে আসছে মরা চিংড়ি কিংবা চিংড়ির খোলস। মৌসুমের শুরুতে অতিরিক্ত দামে পোনা কিনে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন চাষিরা। ঋণ করে অনেকের বিনিয়োগ করার অর্ধেক টাকাও ফেরত পাবেন না বলে আশঙ্কা করছেন।

দাকোপ উপজেলার বাজুয়া ইউনিয়নের ঘের মালিক শামীম মোড়ল বলেন, ’দুই এনজিও থেকে টাকা লোন করে পোনা ছেড়েছিলাম। তিন মাস পরেও জাল ফেললে মাছ উঠছে না। নিচে মাছ মরে পরে আছে হয়তো। ঘেরের মধ্যে মাছের খোলস ভেসে উঠছে। টাকা তো উঠবেই না, লোনের টাকা কীভাবে শোধ দেব সেই চিন্তায় আছি।’

চিংড়ি চাষি শফিকুল ইসলাম বলেন, ২০ হাজার পোনা ছেড়েছিলাম। মরতে মরতে এখন কয়টা আছে কে জানে? উপজেলা মৎস্য অফিস কিংবা জেলা মৎস্য অফিস কেউই আমাদের খোঁজ নেয় না। আমাদের একটু খোঁজ নিলে হয়তো আমরা আরেকটু ভালো ফলন পেতাম।

মাছ এভাবে মরে গেলে উৎপাদন অনেকটা কমে যেতে পারে দেশের অন্যতম চিংড়ি উৎপাদনের জেলা খুলনা থেকে। আর তার প্রভাব পড়তে পারে রফতানি খাতেও। রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান মডার্ন সি ফুডের স্বত্বাধিকারী মো. রেজাউল হক বলেন, রফতানি তো নির্ভর করে উৎপাদনের ওপর। আমাদের রফতানি এমনিতেই অনেকটা কমে গেছে। এরপর যদি উৎপাদন কাঙ্ক্ষিত না হয়, তাহলে রফতানি আরও কমে যাবে।
 
মৎস্য অধিদপ্তর খুলনা বিভাগের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এ বছর অতিরিক্ত গরম পড়ায় চিংড়ি চাষ ব্যাহত হচ্ছে। তবে আমরা বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছি, যাতে চিংড়ি চাষ বাধাগ্রস্ত না হয়। ঘেরগুলোর গভীরতা বাড়ানোর জন্য আমরা কাজ করছি। এ ছাড়া চাষিদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি যাতে তারা ভালোভাবে চিংড়ি চাষ করতে পারে। এসব উদ্যোগের ফলে অনেকটা কমে আসবে চিংড়ি চাষিদের এসব ক্ষতি।

খুলনা জেলায় এ বছর ২০ হাজার ৪৩০টি ঘেরে বাগদা চিংড়ির চাষ হয়েছে বলেও জানান এ মৎস্য কর্মকর্তা।  

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা