শুক্রবার   ২২ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৭ ১৪২৬   ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

সংগ্রাম হত্যা মামলায় রাহাতসহ আরো ২ জনের আদালতে দায় স্বীকার

রূপসা প্রতিনিধি

আজকের খুলনা

প্রকাশিত : ১১:১৪ এএম, ৯ অক্টোবর ২০১৯ বুধবার

রূপসার চাঞ্চল্যকর সারজিল ইসলাম সংগ্রাম হত্যাকান্ডের মোটিভ উদঘাটন করেছে খুলনা জেলা ডিবি পুলিশ। গ্রেফতার করেছে এজাহারভুক্ত প্রধান আসামী রাহাত শিকদারসহ ৬ জনকে। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছোরা ও চাপাতি। আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে ৩ আসামী।

পুলিশ জানায়, পুলিশ সুপার, খুলনা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ‘ক’ সার্কেল এর নিবিড় তত্ত্বাবধানে রূপসার আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর সংগ্রাম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনে জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ মো. তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে মামলার তদন্তকারী অফিসারসহ ডিবির একটি বিশেষ টিম মাঠে নামে।

গত ৬ অক্টোবর রাত পৌনে ৯টায় ডিবি পুলিশের একটি টিম চট্রগ্রাম থেকে সংগ্রাম হত্যা মামলার এজাহরভূক্ত ১নং আসামী রাহাত শিকদারকে গ্রেফতার করে। পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে আসামি রাহাত শিকদার এর বাড়ি হতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ০২ টি ছোরা, ০২ টি চাপাতি উদ্ধার করা হয়।

পরে রাহাতের স্বীকারোক্তিসহ প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে ৭ অক্টোবর হত্যা ঘটনার সাথে জড়িত খুলনা মহানগরীর টুটপাড়া তালতলা এলাকার নওয়াব সরদারের ভড়াটিয়া মৃত তাছেম মোল্যার ছেলে আলমগীর মোল্যা (৩৭) ও রূপসার বাগমারা গ্রামের নজরুলের বাড়ির ভাড়াটিয়া মো. মুসা সরদারের ছেলে বায়েজিদ সরদার (১৯) কে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আলমগীরের গ্রামের বাড়ি পিরোজপুর জেলার জিয়ানগর থানা এলাকায় এবং বায়েজিদের গ্রামের বাড়ি জেলার দাকোপ থানার নলিয়ান সুতোরখালী গ্রামে।

এদিকে ৭ অক্টোবর আসামি রাহাত শিকদার ও আলমগীর মোল্যা বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মনিরুজ্জামান এর আদালতে সারজিল ইসলাম সংগ্রাম হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। এছাড়া হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত আসামি বায়েজিদ সরদারকে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ আদালত আজ ১০অক্টোবর রিমান্ড শুনানীর দিন ধার্য করেছে।

এর আগে ডিবি পুলিশের এ টিম’টি প্রযুক্তি নির্ভর তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলার মোটিভ উদঘাটন পূর্বক হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত আসামি সুমন মোল্যাকে গত ২৮ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করেন। উক্ত আসামি হত্যার দায় স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

ডিবি জানায়, মামলার এজাহারনামীয় ১ নং আসামিসহ এ পর্যন্ত ৬ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে ডিবি পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই হত্যার রহস্য উদঘাটিত হওয়ায় ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।

অপরদিকে মামলার মোটিভ উদঘাটন সংক্রান্তে খুলনা জেলা পুলিশ সুপার আজ দুপুরে প্রেস ব্রিফিং করেন।

প্রসঙ্গত, মোবাইল চুরির জের ধরে গত ২৬ সেপ্টেম্বর বেলা আনুমানিক ১টা ৫০ মিনিটে রূপসা থানাধীন বাগমারা হিমায়ন বরফ কলের সন্নিকটে আলামিন মল্লিক এর চায়ের দোকানের সামনে সারজিল ইসলাম সংগ্রামকে (২৯) ধারালো অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত ৯/১০ জন কুপিয়ে হত্যা করে। এ সংক্রান্তে ভিকটিমের মা সাবিনা ইয়াসমিন মিলি বাদী হয়ে রূপসা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। মামল নং-২১। তারিখ-২৬/০৯/২০১৯। ধারা- ৩০২/৩৪।

মামলার আসামীরা হলো খুলনা মহানগরীর মহিরবাড়ির খালপাড় এলাকার আবুল শিকদারের ছেলে (বর্তমানে বাগমারা রশিদার বাড়ির ভাড়াটিয়া) রাহাত শিকদার (২৫), একই এলাকার আলমগীর হাওলাদারের ছেলে (বর্তমানে বাগমারা বাবুর বাড়ির ভাড়াটিয়া) সোহেল হাওলাদার ওরফে গেদন সোহেল (২৫), রূপসার বাগমারা গ্রামের (রশিদার বাড়ির ভাড়াটিয়া) মৃত ইউনুচ শেখ এর ছেলে ইব্রাহীম শেখ (২৫), উপজেলার গোয়ালবাথান গ্রামের সেলিম শেখ এর ছেলে অমিত শেখ (২৫), নগরীর দক্ষিণ টুটপাড়া এলাকার মো. সোবহান হাওলাদারের ছেলে (বর্তমানে বাগমারা রফিকুলের বাড়ির ভাড়াটিয়া) সাজু ওরফে সাধু (২৬) ও নগরীর মহিরবাড়ি খালপাড় এলাকার সিরাজ (২৬)। এছাড়া এ মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো ৪/৫ জন রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলা সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পুলিশ সুপার খুলনা মহোদয় মামলার তদন্ত জেলা গোয়েন্দা খুলনার উপর ন্যস্থ করলে গোয়েন্দা শাখার এসআই (নিঃ)/ মুক্ত রায় চৌধুরী, পিপিএমকে তদন্তকারী অফিসার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।