• বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাই ২০২৪ ||

  • শ্রাবণ ১০ ১৪৩১

  • || ১৭ মুহররম ১৪৪৬

আজকের খুলনা

বাইডেনের সঙ্গে শেখ হাসিনার সেলফির পর বিএনপি পশ্চাৎযাত্রা শুরু

আজকের খুলনা

প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩  

ভারতের নয়াদিল্লিতে জি-২০ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সেলফিসহ ছবি তোলার পর বিএনপির পশ্চাৎযাত্রা শুরু করে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বিএনপির প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেছেন, জি টুয়েন্টি সম্মেলনে শেখ হাসিনার সাথে জো বাইডেনের সেলফি দেখে বিএনপির এখন কি হবে? দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আগামী নির্বাচন পর্যন্ত এ শান্তি সমাবেশ চলবে। বিএনপির নেতা-কর্মীরা এখন অন্ধকার দেখছে। মিছিল শেষ করে হাত-পা গুটিয়ে শুয়ে পড়েছে। একটারও রাতে ঘুম আসবে না। রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত শান্তি সমাবেশে এ কথা বলেন। বিএনপি জামায়াতের সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, নৈরাজ্য, অপরাজনীতি ও অব্যাহত দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

গতকাল ঢাকায় বর্তমান সরকারের পদত্যাগের একদফা দাবিতে গণমিছিল করে বিএনপি। সরকারের পদত্যাগের দাবিতে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎভাবে আন্দোলনে থাকা রাজনৈতিক দল- জোটগুলোও এই কর্মসূচি পালন করে। অপর দিকে ঢাকায় ২টি শান্তি সমাবেশে করে আওয়ামী লীগ। যার একটি হয়েছে ঢাকার বঙ্গবন্ধুর এ্যাভিনিউয়ের আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে। অপর দিকে রাজধানীর টাউন হল চত্বরে বিএনপি-জামায়াতের জনজীবনে নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে শান্তি সমাবেশ মিছিল করে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ। দুপুর থেকেই বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউয়ের শান্তি সমাবেশে বৃষ্টি উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগের দলীয় ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা জমায়েত হতে শুরু করেন। বিকেল হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু এ্যাভিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের এলাকা দলীয় নেতা-কর্মীতে ভরে যায়। সেখানে সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনসহ মহানগরের নেতারা। আর ঢাকা মহানগর উত্তরের সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। শনিবার বিকেলে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ আয়োজিত শান্তি সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ এম এ সাত্তার। আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দলের সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, সহসভাপতি সাদেক খান, সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি, সাংগঠনিক সম্পাদক মো: আজিজুল হক রানা। সমাবেশ শেষে আসাদ এভিনিউতে মিছিলের মাধ্যমে কর্মসূচি সমাপ্ত হয়।

বাংলাদেশ বৃহৎ শক্তির বলয়ে চলে গেছে। এ বলয় বন্ধুত্বের, শত্রুতার নয় এমন উল্লেখ করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, আজকে নতুন একটা খবর আছে, জি-২০ সম্মেলন হচ্ছে দিল্লীতে। আটলান্টিকের ওপারে হোয়াইট হাউসে থেকে নিষেধাজ্ঞা দিবে এ আশায় ছিলো বিএনপি। কিন্তু কী দেখা গেল? বাইডেন নিজেই সেলফি তুললেন শেখ হাসিনার সঙ্গে, সাথে পুতুলও ছিলেন। শেখ হাসিনার সাথে জো বাইডেনের সেলফি দেখে বিএনপির এখন কি হবে? পতনযাত্রা নয়, পশ্চাৎযাত্রা। এখন কেবলই পেছনের দিকে যেতে হচ্ছে। কোথায় গেল তাদের উত্তাল তরঙ্গের ঢেউ? তাদের গণমিছিলের যে হাল দেখলাম তাতে মনে হয় না জনগণ আর গণমিছিলে আসবে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আগামীকাল ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট আসছেন বাংলাদেশে। এখন শুধু আসবে। এখন নেগেটিভ আসবে না, সব পজিটিভ।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আজকের পদযাত্রায় জনগণ নেই, জনগণ বিএনপির সাথে নেই। বাংলাদেশ বৃহৎ শক্তির শক্তিকেন্দ্র । এই বলয় বন্ধুত্বের বলয়, এখানে কোন শত্রুতা নেই। বাংলাদেশের জাতির পিতা বলেগেছেন, সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্রুতা নেই। তিনি বলেন, বিএনপি সারা দেশে মিথ্যার মহামারী ডেকে এনেছে। তাদের গ্রামের নেতাকর্মীরাও মিথ্যা বলে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, এখন কী খবর? সিঙ্গাপুর থেকে শলাপরামর্শ নিয়ে এসেছেন, সেই আন্দোলন এখন ভুয়া। ২১ দফা, ১ দফা, ২৭ দফা, বিএনপির আন্দোলন ভুয়া। কোন জনসমর্থন নেই।

তিনি আরো বলেন, অবস্থা বেগতিক, বিএনপির জন্যে সামনে কিছু দেখে না। বিএনপি দিনের আলোর মধ্যেও অমানিশার অন্ধকার দেখে। তাদের আন্দোলনে কোন জনসমর্থন নেই।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি উপরে উপরে আন্দোলন করছে, আর তলে তলে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একেক আসনে টাকাওয়ালা ২-৩ জন প্রার্থী, যার যতো টাকা, লন্ডনে পাঠাচ্ছে। আর মনোনয়নের জন্যে লন্ডনে পাড়ি জমাচ্ছে। বিএনপি নির্বাচনে না আসললে তারেক রহমান মনোনয়ন বাণিজ্য করবে কি করে? নির্বাচন না করলে তারেক রহমান টাকা পাবে কই!

তিনি বলেন, আজকের পদযাত্রায় জনগণ নেই, জনগণ বিএনপির সাথে নেই। বাংলাদেশ বৃহৎ শক্তির শক্তিকেন্দ্র। এই বলয় বন্ধুত্বের বলয়, এখানে কোন শত্রুতা নেই। বাংলাদেশের জাতির পিতা বলেগেছেন, সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্রুতা নেই।

বিএনপি সরকারের উন্নয়ন চোখে দেখছে না মন্তব্য করে সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী বলেন, ফার্মগেট থেকে এয়ারপোর্ট মাত্র ১০ মিনিটে। আগে আড়াইঘন্টায়ও বিমানবন্দরে যাওয়া যেতো না। কী সুন্দর রাস্তা। সামনে বাংলাদেশে শত সেতু উদ্বোধন করা হবে। দক্ষিণ এশিয়ায় নদীর নীচে টানেল হচ্ছে। উন্নয়ন দেখে বিএনপি নেতাদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।

এ দিকে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল চত্বরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি বলেন, বিএনপির আন্দোলনের হাট ভেঙে গেছে, নেতাদের দম ফুরিয়ে গেছে। তিনি বলেন, আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে তারা ড. ইউনূসের ওপর ভর করেছিল। বিভিন্ন সময় বিভিন্নজনের ওপর ভর করা বিএনপি যে কখন কবিরাজদের কাছে যায়, সেটাই দেখার বিষয়।

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা