• সোমবার   ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||

  • আশ্বিন ১২ ১৪২৮

  • || ১৯ সফর ১৪৪৩

আজকের খুলনা

পাল্টে গেছে পরিস্থিতি, বিএনপি চলছে জামায়াতের প্রেসক্রিপশানে

আজকের খুলনা

প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১  

এতোদিন মনে করা হতো বিএনপির কাঁধে জামায়াত ভর করেছে, রাজনৈতিক কৌশলগত কারণে জামায়াতকে আশ্রয় প্রশ্্রয় দিচ্ছে বিএনপি। কিন্তু পরিস্থিতি এখন পাল্টে গেছে। জামায়াতের কাঁধে ভর করে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়ার নীলনকশা করছে দলটি। লন্ডনে পলাতক তারেক রহমানের নির্দেশনা পাওয়ার পর জামায়াতের সাথে দফায় দফায় দর কষাকষির বৈঠক চলছে। কর্মকৌশল ঠিক করতে জামায়াত নিজেরাও এ নিয়ে গোপনে বৈঠকের পর বৈঠক করছে। রাজধানীতে এমনই এক বৈঠক থেকে সম্প্রতি গ্রেফতার হয়েছেন দলের শীর্ষ নেতা অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ৯ জন। 


নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়ার মোহে অন্ধ হয়ে ভয়ংকর নীলনকশা আঁকছে স্বাধীনতা বিরোধী বিএনপি-জামায়াত জোট। বিএনপি জানে, অতীতের কুকীর্তি, দূর্ণীতি, জনসমর্থনহীনতাসহ নানা কারণে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই তাদের। তাই রাজপথের সকল আন্দোলনে সুপার ফ্লপ বিএনপি চাইছে, প্রথমে জামায়াতের গোপন স্কোয়াডগুলোর সহায়তায় দেশব্যাপী সহিংসতা, নাশকতা, আগুন সন্ত্রাসের মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে। এভাবে ধ্বস নামানো হবে দেশের শিল্প ব্যবসা বাণিজ্যে। এরপর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমুর্তি ক্ষন্ন করা হবে। নানা ধরণের অপপ্রচার চালিয়ে বিশ^ দরবারে বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করা হবে। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে বিএনপি-জামায়াত তাদের ঘরানার তথাকথিত কিছু বুদ্ধিজীবীকে রিক্রুট করে বিভিন্ন দেশে পাঠিয়েছে। 


সব ষড়যন্ত্র চলছে লন্ডনে তারেক রহমানের কিংসস্টোন সড়কের ভাড়ায় বাসায় বসে। জামায়াত নেতারা অতি সংগোপনে সেখানে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বৈঠকে মিলিত হন। খানাপিনা-মদ্যপান সবই চলে ওই বৈঠকগুলোতে। এ তথ্য যুক্তরাজ্যের পুলিশের গোপন শাখা ও স্থানীয় মিডিয়ার কাছে রয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। সম্প্রতি এমন একাধিক বৈঠকের পর তারেক রহমান দেশে তার অতি বিশ^স্ত বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নির্দেশ দেন, জামায়াতের সাথে সমন্বয় করে সব কার্যক্রম পরিচালনা করতে। তাকে এও বলে দেয়া হয়, জামায়াতের তৈরী করা ফরম্যাট বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মেনে চলতে হবে। 


তারেক রহমানের স্বেচ্ছাচারী এ সিদ্ধান্তে দলের ভিতরে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিএনপির নেতারা এতোদিন মনে করতেন, জামায়াতকে আমরাই আশ্রয় দিয়ে টিকিয়ে রেখেছি। জামায়াতের রাজনৈতিক ভবিষ্যত বিএনপির হাতে। এখন জামায়াতের প্রেসকিপশানে চলতে হবে-এটা কোনোভাবেই মানতে পারছেন না তারা। নাম প্রকাশ করা যাবে না এমন শর্তে বিএনপির একজন কেন্দ্রিয় নেতা বলেন, দলের ৯৯ শতাংশ নেতা কর্মী চাইছেন যুদ্ধপরাধের দায়ে অভিযুক্ত স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতের সাথে সকল সম্পর্ক চুকিয়ে ফেলতে। শুধু মাত্র তারেক রহমানের স্বেচ্ছাচারিতা ও একগুয়েমীর কারণে জামায়াতকে বিএনপির জোট থেকে বাদ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। জামায়াতকে ছাড়তে পারলে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের পাশাপাশি প্রধান প্রতিবেশী ভারতেরও সমর্থন পাওয়া যাবে। জামায়াত পাশে না থাকলে উদার ও বামপন্থী দলগুলোকে নিয়ে বৃহত্তর ঐক্য গঠন করা যাবে। ‘জামায়াত-বিএনপি বা খালেদা-নিজামী’ বলে জনমনে সৃষ্ট নেতিবাচক পাবলিক পারসেপশনও দূর হবে বলে মনে করছে বিএনপি।


বিএনপির ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির সদস্য শামা ওবায়েদ সম্ভাব্য অস্থিতিশীলতার প্রতি ইংগিত দিয়ে বলেন, জামায়াতের সঙ্গে জোট থাকা না থাকার বিষয়ে দলের হাইকমান্ড সিদ্ধান্ত নেবে। তবে বৈশ্বিক রাজনীতির পাশাপাশি তালেবানের উত্থানের পর দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নতুন রাজনীতির সঙ্গে অবশ্যই আমাদের সমন্বয় করতে হবে। নব্বইয়ের দশকের সঙ্গে ২০২১-এর তুলনা করলে ভুল হবে। 
জামায়াতের পক্ষ নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ২০ দলীয় জোটের শরিক দল জামায়াতকে নিয়ে নানামুখী আলোচনা হলেও তারা থাকবে কি থাকবে না সে সিদ্ধান্ত দলের স্থায়ী কমিটি নেবে। তবে এখন পর্যন্ত তারা ২০ দলীয় জোটের শরিক দল আছে। তিনি জানান, বৃহত্তর ঐক্য প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিতে বিএনপি কাজ করছে। 


বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার মনে করেন, ‘জামায়াতকে বিদায় করে কোনো বেনিফিট পাওয়া গেলে ভাল। কিন্তু ওরা (জামায়াত) এত দিন ধরে আছে। তাই যা করার সেটা আলোচনা করেই নিষ্পত্তি করা উচিত।’


জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম বলেন, বিএনপির সাথে আমাদের প্রকাশ্যে বৈঠক না হলেও নানা কথাবার্তা হয়, আলাপ অঅলোচনা হয়। ২০ দলীয় জোটে বিএনপির পাশে জামায়াত আছে।
 

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা