• মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪ ||

  • শ্রাবণ ১ ১৪৩১

  • || ০৮ মুহররম ১৪৪৬

আজকের খুলনা

ঘূর্ণিঝড় রেমালে যেসব এলাকার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত

আজকের খুলনা

প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০২৪  

চলতি বছরের মে মাসে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় রেমালের ক্ষত এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দারা। এই ক্ষতি বাড়িয়ে দিয়েছে বেড়িবাঁধের ভাঙন। খুলনা, পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুর ও সাতক্ষীরাসহ উপকূলের বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় হাজার হাজার মানুষ এখনও পানিবন্দি হয়ে আছেন।

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে খুলনার দাকোপ, কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য বলছে, এই জেলার ৪৬.৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য বলছে, ঝড়ের সময় খুলনার ৫৫টি পয়েন্টে বাঁধ ভেঙে এবং জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে অসংখ্য গ্রাম। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। বিধ্বস্ত হয়েছে প্রায় ৭৭ হাজার বাড়িঘর। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৫২ হাজার ২০০ মানুষ। এছাড়া ফসলের মাঠ, ঘের-পুকুর নোনা পানিতে ভেসে গেছে।
এদিকে আরেক উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় ৩৬.৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। ফলে নোনা পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। নষ্ট হচ্ছে ফসল। ভেসে গেছে পুকুর ও ঘেরের মাছ।
শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিএম মাকসুদুল আলম জানান, রেমালের সময় নদ-নদীতে ৫ থেকে ৭ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছিল। গাবুরা ইউনিয়নের সোরা গ্রামের মালিবাড়ির দৃষ্টিনন্দন এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেয়। ওই বেড়িবাঁধ জোয়ারের পানির তোড়ে ধসে পড়ে। এতে আতঙ্কে রয়েছেন ইউনিয়নের সোরা, ডুমুরিয়া গ্রামসহ পাশের কয়েকটি গ্রামের প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজার মানুষ। অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানান এই জনপ্রতিনিধি।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে বাগেরহাটে ১২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। এতে জেলার উপকূলীয় এলাকায় সুপেয় পানির সংকট এখনও কাটেনি। জেলা প্রশাসনের প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডবে ২৭টি খাতে ৬৪৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। উল্লেখযোগ্য খাতগুলো হচ্ছে- কৃষি, মৎস্য, বিদ্যুৎ, সড়ক, পানি, বন, নৌকা-জাল ও ট্রলার।
ইতোমধ্যে রেমালে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধসহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ তন্ময়। তিনি বাগেরহাট ভৈরব নদী পাড়ের ভাঙন কবলিত ক্ষতিগ্রস্ত স্থান পরিদর্শন করেন। এ সময় শেখ তন্ময় এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নেন। এছাড়া ভৈরব নদীর গোপালকাঠি, কেশবপুর, কুলিয়াদাইড় এলাকার ভাঙন কবলিত নদীর তীর রক্ষাবাঁধের জাইকার অর্থায়নে চলমান কাজ পরিদর্শন করেন।

রেমালে বরিশাল বিভাগেও ক্ষতি হয়েছে বাঁধের। বরিশালের ১৪টি পয়েন্টে এক কিলোমিটার, ভোলায় ১০ কিলোমিটার, বরগুনায় ১২ কিলোমিটার, পটুয়াখালীতে ৫০ কিলোমিটার আংশিক আর ২.৫ কিলোমিটার পুরোপুরি, পিরোজপুরে ১০ কিলোমিটার এবং ঝালকাঠিতে ৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রেমালে ভোলার মনপুরা উপজেলায় আড়াই হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সম্পূর্ণ ঘরবাড়ি হারিয়েছে চার শতাধিক পরিবার কিন্তু বিধস্ত বেড়িবাঁধগুলোর সংস্কার হয়নি। এতে এখনও পুরোপুরি অরক্ষিত মনপুরা। দীর্ঘসময় নোনা জলে প্লাবিত হওয়ার আতঙ্কে দিন কাটছে বাসিন্দাদের। হুমকির মুখে পড়েছে আমনের চাষাবাদ।
দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অলিউল্যাহ কাজল অভিযোগ করে বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করে কাজ শুরুতে বিলম্ব করায় এমন দুরবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বাঁধ দ্রুত সংস্কার করতে না পারলে এবার আমন চাষ করা যাবে না। অমাবশ্যা ও পূর্ণিমার জোয়ারে গ্রাম প্লাবিত হবে।

রেমালে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মনপুরার কলাতলীর চর ইউনিয়নে। এ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলউদ্দিন হাওলাদার জানান, ২৫ হাজার মানুষের বসতির এ ইউনিয়নে কোনো বেড়িবাঁধ নেই । তাই জোয়ার-ভাটা থেকে রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা