• বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাই ২০২৪ ||

  • শ্রাবণ ১০ ১৪৩১

  • || ১৭ মুহররম ১৪৪৬

আজকের খুলনা

বটিয়াঘাটায় ভূমিদস্যুদের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন সংখ্যালঘু বিধান চন্দ

আজকের খুলনা

প্রকাশিত: ২৩ জুন ২০২৪  

জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার রাইঙ্গামারী মৌজায় বিধান চন্দ্র বিশ্বাসের পৈতৃক সম্পত্তিতে লোলুপ দৃষ্টি পড়েছে চিহ্নিত ভূমিদস্যুদের। কোনো ভাবেই সম্পত্তি জবরদখল করতে না পেরে এখন সংখ্যালঘু বিধান চন্দ্র বিশ্বাসকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ তার। ভূমিদস্যুদের হাত থেকে রক্ষা পেতে পুলিশ-প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে গিয়েও সুরাহা না পেয়ে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় স্ত্রী নির্মলা বিশ্বাসকে সাথে নিয়ে সময়ের খবর কার্যালয়ে এসেছিলেন বয়োবৃদ্ধ বিধান চন্দ্র বিশ্বাস। 
গত শুক্রবার সকালে তেঁতুলতলা এলাকার চিহ্নিত ভূমিদস্যুরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে পৈতৃক সম্পত্তির সাইনবোর্ড খুলে ফেলে দিয়েছে। এরপর থেকে প্রাণভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বিধান চন্দ্র বিশ্বাস।
তিনি জানান, ১৯৬১ সালের ১৯ জুন মৃত অভয়বরণ বিশ্বাসের পুত্র রবিন বিশ্বাসের কাছ থেকে রাইঙ্গামারী মৌজায় ৩৫নং এসএ খতিয়ানের মধ্য থেকে এক একর ৪৮ শতক জমি ক্রয় করেন বিধান চন্দ্র বিশ্বাসের বাবা মনীন্দ্র নাথ বিশ্বাস। শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোগদখলে ছিলেন তিনি। এর মধ্যে আরএসএ রেকর্ডে ভুলক্রমে জনৈক আহম্মাদ হোসেনের নামে রেকর্ড হয়ে যায়। পরে মনীন্দ্র নাথ বিশ্বাস সাব-জজ ৩য় আদালত খুলনায় দেওয়ানী ৫৯/৯৭ নং বাটোয়ারা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ১৯৯৯ সালের ২১ জুলাই বাদী-বিবাদীর মধ্যে সোলে মূলে প্রাথমিক ডিগ্রি লাভ করেন মনীন্দ্র নাথ বিশ্বাস। মনীন্দ্র নাথ বিশ্বাসের মৃত্যুর পর তার একমাত্র পুত্র বিধান চন্দ্র বিশ্বাস ২০২০ সালের ২৭ আগস্ট যুগ্ম-জেলা জজ ৩য় আদালত খুলনায় চূড়ান্ত ডিগ্রি লাভ করেন। চূড়ান্ত ডিগ্রির পর জারী মামলা দায়ের করেন (নং দে/জারী ০৫/২০)। ২০২০ সালের ১ ডিসেম্বর আদালত বিধান চন্দ্র বিশ্বাসকে তার পৈতৃক সম্পত্তি বুঝিয়ে দেয়। পরে বটিয়াঘাটা ভূমি অফিসে আর এস সংশোধন করিয়ে নিজ নামে ৩২০৮নং খতিয়ানে সর্বশেষ চলতি বছর পর্যন্ত খাজনা পরিশোধ করেন বিধান চন্দ্র বিশ্বাস।
অশ্র“সিক্ত কণ্ঠে বয়োবৃদ্ধ বিধান চন্দ্র বিশ্বাস আরও বলেন, ‘আমি সংখ্যালঘু বলে কি মানুষ না? আমি কি বাংলাদেশের নাগরিক নই? ভূমিদস্যুরা আমাকে মেরে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। থানা-পুলিশ-প্রশাসনকে বারবার জানিয়েও প্রতিকার পাচ্ছি না। এখন প্রাণ ভয়ে একপ্রকার পালিয়েই বেড়াচ্ছি।’ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা