• বৃহস্পতিবার   ২৬ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১২ ১৪২৯

  • || ২৪ শাওয়াল ১৪৪৩

আজকের খুলনা

দিঘলিয়ায় ভ্যান চালক হত্যায় ২ যুবকের স্বীকারোক্তি

আজকের খুলনা

প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল ২০২২  

সামান্য একটি ভ্যানের কারণেই খুন করা হয় ১৪ বছর বয়সী কিশোর ইমরানকে। হত্যার দায় স্বীকার করে ফৌজদা‌রী কার্য‌বি‌ধি অনুযায়ী বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় এমন স্বীকারোক্তি দিয়েছে হত্যার সংগে জড়িত আসাদুল (২৫) এবং আলামিন (২৪) নামে ২ যুবক। দু’জনের বাড়ি দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর গ্রামে। শুক্রবার (২২ এপ্রিল) বিশেষ ব্যবস্থায় আদালতে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট এর উপস্থিতে তারা দু’জন কিশোর ইমরানকে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করে।

১৫ এপ্রিল দিঘলিয়া থানা পুলিশ আসাদুল এবং আলামীনকে আটকের পর মামলার তদন্তকারী সংস্থা খুলনা নৌ-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নৌ পুলিশের এসআই নূরুল ইসলাম আটককৃতদের ইমরান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করে।

২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দিনটি ছিলো শুক্রবার। খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি গ্রামের হতদরিদ্র ইমরান পান্তা ভাত খেয়ে সকাল আনুমানিক ৭ টার দিকে ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। একইদিন বিকালে দিঘলিয়া গ্রামের সর্দারঘাট খলিলের ইট ভাটার কাছে ভৈরব নদীর তীর থেকে দিঘলিয়া থানা পুলিশ তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করে। মৃতদেহের গলায় তখন ফাঁসের চিহ্ন ছিল।
ঘটনার ১ দিন পর নিহতের পিতা মিঠু বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে গুম ও হত্যা আইনে দিঘলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৫। তাং ৪/৯/২০২১।

মামলা দায়েরের পর দিঘলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আহসানউল্লাহ চৌধূরীর নির্দেশে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মামলাটি তদন্ত শুরু করে হত্যার প্রকৃত মোটিভ উদ্ধারের জন্য। কোন সংঘবদ্ধ চক্র ছেলেটিকে হত্যা করে ভ্যানটি নিয়ে যায় এই ধারণাকে সামনে রেখে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে নৌ-পুলিশের কেএমপি সদর নৌ-থানায় মামলাটি হস্তান্তর করা হয়।

খুলনা নৌ পুলিশের এসআই মোকলেছুর মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেন। পূর্বের তদন্ত কর্মকর্তা বদলী হলে বর্তমানে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নূরুল ইসলাম মামলাটি তদন্তভার গ্রহণ করেন। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন।

মামলার তদন্তভার নৌ- পুলিশের কাছে হস্তান্তরের পর নৌ- পুলিশ তাদের মত করে তদন্ত শুরু করে। এরই মধ্যে গত ১৫ এপ্রিল দিঘলিয়া থানা পুলিশ অন্য একটি মামলার আসামি ধরতে গিয়ে আসাদুল এবং আলামীনকে বারাকপুর থেকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তারা দু’জন কিশোর ভ্যান চালক ইমরানকে হত্যার কথা অকপটে স্বীকার করে। তারা দু’জন সহ মোট ৩ জন মিলে গলায় ফাঁস দিয়ে তাকে হত্যা করে লাশ ভৈরব নদীতে ফেলে দেয়। পরে ৩ জনে মিলে ভ্যানটি বিক্রি করে ভাগ বাটোয়ারা করে নেয়।।

এদিকে শুক্রবার (২২ এপ্রিল) গভীর রাতে খুলনা নৌ-পুলিশের অফিসার ইনচার্জ অনিমেষ হালদার এর নেতৃত্বে নৌ পুলিশের একটি দল দিঘলিয়া থানা পুলিশের সহযোগীতায় বারাকপুর গ্রাম থেকে হত্যাকান্ডের সংগে জড়িত অপর আসামি শরীফ ( ৩০) কে আটক করেছে।

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা