• শুক্রবার   ২৭ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৩ ১৪২৯

  • || ২৫ শাওয়াল ১৪৪৩

আজকের খুলনা

পাইকগাছায় বিধিনিষেধ মানতে অনীহা, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে সর্বসাধারণ

আজকের খুলনা

প্রকাশিত: ১৮ জানুয়ারি ২০২২  

সারাদেশে ফের লাফিয়ে বাড়ছে করোনা শনাক্তের হার। একই সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যাও। গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ১৫৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। যারমধ্যে খুলনা জেলায় সর্বোচ্চ ৫০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্ত সংখ্যা বিবেচনায় বিভাগীয় জেলাগুলোর মধ্যে শীর্ষে আছে খুলনা। এখানে ২৮ হাজার ২২৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের সংখ্যায় সবচেয়ে কম মাগুরায় ৪ হাজার ১৬৫ জন।

এদিকে দেশে করোনা ভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনে আক্রান্তের সংখ্যাও বেড়েই চলেছে। আর তাই সরকার করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের সংক্রমণ রোধেও বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে ওই সকল বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কোথাও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। যদিও স্বাস্থ্য বিধি মানাতে ইতোমধ্যে কয়েকজনকে জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন।

পাইকগাছা পৌরসদর, নতুন বাজার,আগড়ঘাটা,হরিঢালী গোলাবাটি, কপিলমুনিসহ বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে অতিরিক্তি জনসমাগম। এমনকি কোথাও মানা হচ্ছেনা নিরাপদ সামাজিক দূরত্বটুকু। রাস্তা-ঘাটসহ প্রায় সবখানেই মানুষ মাস্ক বিহীন চলাফেরা করছে।

এমনকি নির্দেশনা থাকলেও সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও নেই হাত ধোয়ার কোন ব্যবস্থা। মাপা হচ্ছেনা শরীরের তাপমাত্রা।

এদিকে উপজেলার সর্বত্র সবচেয়ে বেশি উদাসীনতা দেখা গেছে পরিবহন ব্যবস্থায়। নির্দেশনা উপেক্ষা করেই মানুষ যাত্রীবাহী বাস, ব্যাটরি চালিত ইজিবাইক ও ভ্যানযোগে গাদাগাদি করে চলাচল করছে। এমনকি অধিকাংশরাই ব্যবহার করছে না মাস্ক। এমন পরিস্থিতে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে উপজেলার সর্বসাধারণ।

প্রতিবেদনকালে একাধিক ইজিবাইক, মাহিদ্রা ও ভ্যান চালকরা জানায়, গত বছর করোনার বিস্তার রোধে দীর্ঘ লকডাউনে চরম ভোগান্তিতে ছিলেন তারা। তাই নিজেরা মাস্ক পরে চলাচল করছেন। তবে অনেক সময় কাছে মাস্ক থাকলেও পরতে মনে থাকছেনা। আর যাত্রীরাদের অনেককে বললেও তারা যদি স্বাস্থ্যবিধি না মানে তাতে তাদের কি করার আছে! প্রশ্ন করেন অনেকে। আর ভাড়া একটু বেশি চাইলেই যাত্রীরা উঠছে না তাই বাধ্য হয়ে স্বাভাবিক সময়ের মতই চলতে হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।

এক্ষেত্রে তারা কিছুটা প্রশাসনকে দোষারোপ করছেন। তাদের দাবি প্রশাসন যদি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতো তাহলে যাত্রীরা সকলেই তা বাধ্যতামূলকভাবে মেনে চলত, তাহলে তাদেরকে নানা বিড়ম্বনার সম্মূখীন হতে হতো না।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প.কর্মকর্তা ডা: নীতিশ চন্দ্র গোলদার জানান, স্বাস্থ্যবিধি না মানলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। যারা টিকা নিয়েছেন আর যারা এখনো নেয়নি প্রত্যেকের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উচিত। সকলকে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করাসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া নির্দেশনা মেনে চলতেও আহবান জানান তিনি।

এব্যাপারে পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মমতাজ বেগম বলেন, উপজেলার সর্বত্র সর্বসাধারণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা সম্পর্কে সবাইকে সচেতন ও সতর্ক করা হচ্ছে। এমনকি ইতোমধ্যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে কয়েকজনকে জরিমানা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে সরকার আরোপিত ১১দফা বিধিনিষেধে সকল কর্মক্ষেত্রে মাস্ক পরা, সভা-সমাবেশ ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান বন্ধ রাখা, কেউ না মানলে জেল-জরিমানা করা, রাত ৮টার পর দোকানপাট বন্ধরাখা, স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে ব্যত্যয় রোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার নির্দেশনা থাকলেও উপজেলার কোথাও বিধিনিষেধ আরোপে প্রশাসনের নজরদারি এখনও পর্যন্ত সন্তোষজনক না হওয়ায় স্বাস্থ্যবিধি মানতে সকলে উদাসীন বলেও মনে করছেন সচেতন মহল।

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা