• রোববার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ ||

  • আশ্বিন ১০ ১৪২৯

  • || ২৮ সফর ১৪৪৪

আজকের খুলনা

বন্ধ হচ্ছেনা শিকার, অভিনব কায়দায় নিধন হচ্ছে অতিথি পাখি

আজকের খুলনা

প্রকাশিত: ২৮ ডিসেম্বর ২০২১  

সুন্দরবনের উপকূলীয় পাইকগাছার বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে অবাধে চলছে অতিথি পাখি শিকার। উপজেলার বিভিন্ন খাল-বিল, জলাশয় ও চিংড়িঘের থেকে সংঘবদ্ধ শিকারী চক্র ফাঁদে ফেলে প্রতিদিন রাতে শিকার করছে অসংখ্য বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। পাখি নিধন বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষে মাঝে-মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও নিয়মিত মনিটরিংয়ের অভাবে বন্ধ হচ্ছেনা পাখি শিকার।

শীতের শুরুতেই পৃথিবীর বিভিন্ন শীত প্রধান দেশগুলো থেকে কিছুটা উষ্ণতার আশায় হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে দল বেঁধে বাংলাদেশের বিলাঞ্চলে আসে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখি। তবে শিকারী চক্রের নিয়মিত অত্যাচার ও অভয়াশ্রমের অভাবে এক প্রকার অবাধে প্রতিনিয়ত ধরা পড়ছে এসব পাখি। এরপর যোগান হচ্ছে রসনা বিলাসের। পাখি শিকার বন্ধে সরকার কঠোর আইন প্রণয়ন করলেও নানা সংকটে এক দিনের জন্যেও বন্ধ হচ্ছেনা পাখি শিকার।

পৌরসদর থেকে কয়রা অভিমুখে শিববাটী ব্রিজ পার হয়ে অনতিদূরে নির্মাণাধীন কৃষি কলেজের বিপরীতে শামীম হোসেনের ‘ইব্রাহীম গার্ডেন’ নামে বনায়ন প্রকল্প রয়েছে। দিনের শেষে সন্ধ্যার পর থেকে বালিহাঁস, দলকচু, খয়েরী ও দেশীয় বকসহ বিভিন্ন প্রজাতির হাজার হাজার পাখি দল বেঁধে আশ্রয় নেয় সেখানে। অন্যদিকে পৌর মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীরের প্রবাসী ভাই শামীম হোসেন পাখিদের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে পাখিদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুললেও প্রয়োজনের তুলনায় তা একেবারেই অপ্রতুল।

সূত্র জানায়, উপজেলার বয়রা, কচুবুনিয়া, বাসাখালী, বাইসারাবাদ, তেঁতুলতলা, লতা, উলুবুনিয়া, পুটিমারী, শংকরদানা, হানিমুনকিয়া, বাহিরবুনিয়া, দেলুটি, সোলাদানা, কপিলমুনি, তালতলা, গোয়ালবাথান, শ্রীফলতলা, প্রতাপকাটি, শামুকপোতা, চকবগুড়া, খড়িয়া, অকাইবাসী, ঠাকুনবাড়ী, আমিরপুর, বাইনবাড়ীয়া, কুমখালী ও পৌরসভার বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে বিভিন্ন এলাকায় বড় বড় খাল-বিল, জলাশয় ও চিংড়ি ঘের রয়েছে। সকাল অথবা সন্ধ্যা নামতেই বিভিন্ন প্রজাতির এসব অতিথি পাখিরা দলবেঁধে এসব এলাকায় গিয়ে খাদ্য সংগ্রহে নেমে পড়ে। এ সময় সংশ্লিষ্ট ঘের বা জলাশয়ের কর্মচারীদের যোগসাজসে অথবা শিকারী চক্র আগে থেকেই ওৎ পেতে থাকে পাখি শিকারে।

স্থানীয়রা জানান, এর আগে তারা বিভিন্ন মাছ ও ফড়িং জাতীয় কীট-পতঙ্গে বিষ, ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে রাখতো। কোথাও কোথাও পেতে রাখা হয় ফাঁদ। এভাবে শিকারী চক্র প্রতিদিন ফাঁদ ও বিষ টোপ দিয়ে পাখি শিকার করে করতো। তবে এখন এসব পাখি শিকারে শিকারী চক্র তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় সহজেই বোকা বানাচ্ছে এসব পাখিদের।

সূত্র জানায়, তারা গুগল থেকে সার্চ দিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির ডাক ডাউনলোড করছে স্ব স্ব মোবাইলে। এরপর রাতের আকাশে পাখিদের আনাগোনা দেখে মোবাইলে ওইসব পাখির ডাক বাজানো শুরু করছে। এরপর পাখিরা ওই টোন শুনে মনে করছে তার অন্যান্য সাথীরা সেখানে নিরাপদে অবস্থান করছে। আর শিকারীদের এসব নিত্যনতুন প্রতারণায় প্রলুব্ধ হয়ে নীচে নামতেই জড়িয়ে পড়ছে পেতে রাখা ফাঁদে। এভাবে প্রতিদিন শিকার হচ্ছে অসংখ্য অতিথি পাখি।

উপজেলার বাতিখালী বনায়ন সমিতির অধ্যাপক জিএমএম আজাহারুল ইসলাম জানান, প্রতিবছর শীতের শুরুতেই শীত প্রধান দেশগুলো থেকে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখি এলাকায় আসে। এরা মূলত নভেম্বর-ডিসেম্বর থেকে শুরু করে মার্চ-এপ্রিল মাস পর্যন্ত এলাকায় অবস্থান করে। এরপর আগতদের মধ্যে বেঁচে থাকারা উড়াল দেয় নিজ দেশে। তবে এদের থাকার জন্য তেমন কোনো নিরাপদ আশ্রয়স্থল বা অভয়াশ্রম না থাকায় শুধুমাত্র বেঁচে থাকার তাগিদে হাজার হাজার মাইল দূরে আসা অতিথি পাখিদের অধিকাংশরাই প্রবাসেই নিধন হয়।

এসময় তিনি আরো বলেন, পাখিরা রাতের চেয়ে দিনের বেলায় বেশি নিরাপত্তাহীন থাকে। বিশেষ করে রাতের নিরাপদ আশ্রয়স্থল থেকে সকালে যখন খাবারের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ে তখন তারা শিকারীদের কবলে পড়তে হয়। পাখি শিকার বন্ধে প্রশাসনের মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জানান বনায়ন সমিতির এ নেতা।

এ ব্যাপারে পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউর রহমান জানান, পাখি শিকার বন্ধে থানা পুলিশ সবসময় তৎপর রয়েছে। পাখি শিকারের ব্যাপারে তথ্য পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণেরও আশ্বাস দেন তিনি। এবিষয়ে তিনি জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা করেন।

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা