• বৃহস্পতিবার   ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ২০ ১৪২৯

  • || ১১ রজব ১৪৪৪

আজকের খুলনা

যুদ্ধে নতুন মোড়-পোল্যান্ডে বিস্ফোরণের নড়েচড়ে বসেছে পশ্চিমারা

আজকের খুলনা

প্রকাশিত: ১৬ নভেম্বর ২০২২  

কমছেই না রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের ভয়াবহতা। এর মাঝে, আগুনে ঘি ঢাললো পোল্যান্ড সীমান্তে মিসাইল বিস্ফোরণ। ইউক্রেন সীমান্ত লাগোয়া দেশটি ন্যাটোরও সদস্য। তাই, রাশিয়াকে কোণঠাসা করার মোক্ষম এক ইস্যু হাতে পেলো পশ্চিমারা। পুরোপুরি নিশ্চিত না হলেও, এ ঘটনায় প্রচ্ছন্নভাবে রাশিয়ার ওপর দায় চাপাতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব। সদস্য রাষ্ট্রে হওয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনার তদন্তে মাঠে নেমেছে সামরিক জোট- ন্যাটোও। তবে, পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আগে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ব্যাপারে সতর্ক করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা

পোলিশ নেতারা অবশ্য একতরফা মস্কোর ওপর দায় চাপাতে নারাজ। তাদের বক্তব্য- তদন্তের পরই বোঝা যাবে এ ঘটনার মূল কারণ। তবে সামরিক জোট ন্যাটোর দেয়া যৌথ তদন্ত প্রস্তাবে আপত্তি নেই পোল্যান্ডের।

পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আন্দ্রে দুদা বলেন, দিনভর অঞ্চলটিতে রকেট ও মিসাইল ছুঁড়ছিলো রাশিয়া। সেগুলোরই কোনো একটি সীমান্তে আঘাত হেনেছে- এমন প্রমাণ নেই। তদন্ত চলছে, শীঘ্রই সত্য উদঘাটিত হবে। সতর্কভাবে ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে পোলিশ সরকার।

পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মেতিউস মোরাভিয়েৎস্কি বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোয় সামরিক প্রস্তুতি রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আকাশপথে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। সেক্ষেত্রে, আমাদের মিত্ররা সহযোগিতা করবেন। তাছাড়া, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার ব্যাপারে ন্যাটোর পরামর্শ নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, এ ঘটনায় তদন্তে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র। বাইডেনের দাবি, ইউক্রেনে চালানো আগ্রাসনের জন্যও জবাবদিহি করতে হবে মস্কোকে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, বিস্ফোরণ তদন্তে সহযোগিতা করবে ন্যাটো ও জি-সেভেনভুক্ত দেশগুলো। ইউক্রেন সীমান্তবর্তী ওই গ্রামে কী ঘটেছে সেটা শীঘ্রই উদঘাটন করা হবে। তাছাড়া, রাশিয়ার সাম্প্রতিক রকেট-মিসাইল-ড্রোন হামলাও সবার মাথাব্যাথার কারণ। গোটা বিশ্ব হামলা বন্ধের তাগিদ দিলেও বর্বর-অমানবিক-অযৌক্তিক আগ্রাসন চালাচ্ছে পুতিন প্রশাসন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তদন্ত প্রতিবেদনের আগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছা ঠিক হবে না। নতুবা, অপরের জন্য খোঁড়া গর্তে নিজেরাই পড়বে পশ্চিমা বিশ্ব।

সিএসআইএসের পরিচালক ম্যাক্স বার্গম্যান বলেন, পোলিশ সীমান্তে বিস্ফোরণের ঘটনায় কিছু দেশ অতি উৎসাহী। তারা আগেভাগেই রাশিয়ার ওপর একতরফাভাবে দায় চাপাতে চাইছে। আমরা বলবো, পোল্যান্ড এবং ন্যাটোর তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করুন। কারণ, মিসাইলটি ইউক্রেন নাকি রাশিয়া না বেলারুশ থেকে ছোড়া হয়েছে; সেটাও জানা জরুরি।

প্রসঙ্গত, ন্যাটোতে ইউক্রেনের অর্ন্তভুক্তি ইস্যুতে শুরু হয়েছিলো রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসন। সদস্য রাষ্ট্র না হওয়ায় কিয়েভকে এতোদিন সহযোগিতা করতে পারেনি, সামরিক জোটটি। তবে, পোল্যান্ড সীমান্তে রাশিয়াই হামলা চালিয়েছে; সেটি প্রমাণ করতে পারলে উল্টে যাবে পাশার দান। পোলিশ ভূখণ্ড থেকেই রুশবহরের ওপর হামলা চালাতে আর বাধা থাকবে না ন্যাটোর।

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা