• রোববার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ ||

  • আশ্বিন ১০ ১৪২৯

  • || ২৮ সফর ১৪৪৪

আজকের খুলনা

রাশিয়া-ইউক্রেন চুক্তি: বিশ্বে খাদ্য সংকট কাটার বার্তা

আজকের খুলনা

প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০২২  

চুক্তিটি ১২০ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে। এ সময়ে ইউক্রেনের বন্দরে আটকে থাকা ২৫ মিলিয়ন টন গম এবং অন্যান্য শস্য নিয়ে জাহাজ তার গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে। আশার খবর হলো, চুক্তির মেয়াদ আরও আলোচনা ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়তে পারে।

বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকট সমাধানে প্রতীক্ষিত চুক্তিতে পৌঁছেছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। জাতিসংঘ ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় শুক্রবার ইস্তানবুলের জমকালো ডলমাবাহচে প্রাসাদে চুক্তিতে সই করেন রাশিয়ান প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু ও ইউক্রেনের অবকাঠামোমন্ত্রী ওলেক্সান্ডার কুব্রাকভ। চুক্তি হলেও এক টেবিলে বসেননি তারা।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, কৃষ্ণ সাগরে অবরোধ শিথিল করবে রাশিয়া। এতে ইউক্রেন থেকে জাহাজে করে খাদ্য রপ্তানির পথে আর কোনো বাধা থাকবে না।

চুক্তিটি পুরোপুরি বাস্তবায়নের জন্য রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তেনিও গুতেরেস।

গুতেরেস বলেন, ‘আজ কৃষ্ণ সাগরে একটি আলোকবর্তিকা রয়েছে। তা হলো আশা এবং সম্ভাবনা। এটি এমন একটি পদক্ষেপ, যার অপেক্ষায় ছিল গোটা বিশ্ব।’

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি বলেন, ‘আশা করছি শিগগিরই আমাদের সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে।’

পাঁচ মাস আগে যুদ্ধ শুরুর পর পরই ইউক্রেন উপকূলের কাছে কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়া নৌ অবরোধ দিলে মুখ থুবড়ে পড়ে ইউক্রেনের রপ্তানি।

চুক্তিটি ১২০ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে। এ সময়ে ইউক্রেনের বন্দরে আটকে থাকা ২৫ মিলিয়ন টন গম এবং অন্যান্য শস্য নিয়ে জাহাজ তার গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে। আশার খবর হলো, চুক্তির মেয়াদ আরও আলোচনা ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়তে পারে।

জাতিসংঘ বলছে, চুক্তির অধীনে তুর্কি, ইউক্রেনীয় এবং জাতিসংঘের কর্মীদের জোট কৃষ্ণ সাগরের মধ্য দিয়ে একটি পূর্বপরিকল্পিত রুট নেভিগেট করবে। তার আগে ইউক্রেনীয় বন্দরগুলোতে জাহাজে শস্য বোঝাই পর্যবেক্ষণ করবে তারা।

ইউক্রেনীয় পাইলট জাহাজগুলো নিরাপদ চ্যানেলের একটি মানচিত্র ব্যবহার করে উপকূল রেখার আশপাশের মাইন রাখা অঞ্চলগুলোতে গাইড করবে শস্য পরিবহনকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে। তারপর জাহাজগুলো তুরস্কের বসফরাস প্রণালির দিকে যাবে। ইস্তানবুলের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে সেগুলোকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে জাতিসংঘ, ইউক্রেন, রাশিয়া ও তুরস্ক।

আল জাজিরার সিনেম কোসেওগ্লু ইস্তানবুলে এ আয়োজন কভার করেছেন। তিনি বলেন, ‘রাশিয়া উদ্বিগ্ন। কারণ তাদের আশঙ্কা, ইউক্রেন জাহাজে করে অস্ত্র আনতে পারে। অন্যদিকে জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় কাটেনি ইউক্রেনের।’

রাশিয়া ও ইউক্রেনের এসব পদক্ষেপে শস্যবাহী যেকোনো বাণিজ্যিক জাহাজ বা বন্দরগুলোতে হামলা বন্ধ হবে। কারণ সুরক্ষিত অঞ্চলগুলোকে চিহ্নিত করতে জাতিসংঘ এবং তুর্কি কর্মকর্তারা বন্দরে উপস্থিত থাকবেন।

রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের ফলে বিশ্বব্যাপী খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটেছে ব্যাপক। মস্কোয় পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে সঙ্গে ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ান বাহিনী ইউক্রেনে অভিযান শুরুর পর থেকে খাদ্যের দামে মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা