• বুধবার   ০৬ জুলাই ২০২২ ||

  • আষাঢ় ২২ ১৪২৯

  • || ০৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

আজকের খুলনা

বারি পেঁয়াজ-৫: বছরজুড়ে চাষ করা যাবে, আসবে স্বয়ংসম্পূর্ণতা

আজকের খুলনা

প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারি ২০২২  

পেঁয়াজ উৎপাদনে বর্তমানে বিশ্বে বাংলাদেশ তৃতীয়। আগে ছিল দশম অবস্থানে। প্রতিবছর দেশে পেঁয়াজ আমদানি করতে হয় ১০ লাখ মেট্রিক টন। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) মসলা গবেষণা কেন্দ্র এ পর্যন্ত বিভিন্ন ফসলের ৪৭টি জাত উদ্ভাবন করেছে।
যার মধ্যে পেঁয়াজের জাত ৬টি। পেঁয়াজের নতুন জাতগুলো সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করে চাষাবাদ করা গেলে খুব শিগগিরই দেশ পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পারবে।  
বারি উদ্ভাবিত সারা বছর চাষ উপযোগী ‘বারি পেঁয়াজ-৫’ চাষ সম্প্রসারণ এবং উৎপাদন কৌশল বিষয়ে আয়োজিত কৃষক মাঠ দিবসে এসব তথ্য জানান গবেষকরা। গতকাল বুধবার বারি’র আঞ্চলিক মসলা গবেষণা কেন্দ্রের গবেষণা মাঠে ওই মাঠ দিবসে অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন ১০০ জন কৃষক।  
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে বারি’র মহাপরিচালক ড. দেবাশীষ সরকার বলেন, শীত, গ্রীষ্ম ও বর্ষা নির্বিশেষে সারা বছর চাষ উপযোগী বারি পেঁয়াজ-৫ একটি উচ্চ ফলনশীল জাত। প্রতিটি গাছের উচ্চতা ৫০-৫৫ সেন্টিমিটার। গাছে পাতা হয় ১০-১২টি। কন্দ গোলাকার এবং লালচে বর্ণের। প্রতিটি কন্দের গড় ওজন ৯০-১০০ গ্রাম হয়ে থাকে। বাংলাদেশে পেঁয়াজের জাতীয় গড় ফলন হেক্টর প্রতি ১০ দশমিক ৫৬ টন হলেও বারি পেঁয়াজ-৫ ফলন দেয় হেক্টর প্রতি ১৬-২২ টন। গ্রীষ্মকালীন বারি পেঁয়াজ-৫ আগাম চাষে মার্চ থেকে জুন এবং নাবি চাষে আগস্ট থেকে অক্টোবর মাসে চাষ করা যায়।  
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে ৩৫ লাখ মেট্রিক টন চাহিদার বিপরীতে দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন হয় প্রায় ২৬ লাখ মেট্রিক টন। বছরে ঘাটতির প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন, যা আমদানি করতে হয়। আশার কথা হচ্ছে, দেশে গত এক বছরে পেঁয়াজের উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৮ লাখ মেট্রিক টন। ঘাটতি মোকাবেলা এবং উৎপাদন বৃদ্ধির জন্যই বারি বিজ্ঞানীরা নতুন জাতটি উদ্ভাবন করেছে। জাতটির দুটি দিক রয়েছে। এক, বছরব্যাপী চাষ করা যায়। দ্বিতীয়টি- অন্য পেঁয়াজের জাতের তুলনায় উৎপাদন ২-৩ গুণ বেশি। তাই পেঁয়াজের এই জাতটির চাষাবাদ বৃদ্ধি করা গেলে দেশ শিগগিরই পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে সক্ষম হবে।  
আঞ্চলিক মসলা গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. হরিদাস চন্দ্র মোহন্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বারি পরিচালক (সেবা ও সরবরাহ) ড. মো. কামরুল হাসান, পরিচালক (গবেষণা) ড. মো. তারিকুল ইসলাম, মসলা গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রকল্প পরিচালক ড. শৈলেন্দ্র নাথ মজুমদার। 

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা