ব্রেকিং:
ফেসবুকে অবমাননাকর পোস্ট: সেই পরিতোষ সরকার গ্রেফতার সাম্প্রদায়িক অপশক্তির তৎপরতা প্রতিরোধের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • বুধবার   ২০ অক্টোবর ২০২১ ||

  • কার্তিক ৫ ১৪২৮

  • || ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

আজকের খুলনা

সাড়ে তিন শ বছরের পুরোনো মসজিদ

আজকের খুলনা

প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর ২০২১  

মুঘল আমলের স্থাপত্য শৈলীর অন্যতম নিদর্শন মির্জাপুর শাহী মসজিদ। মসজিদটি পঞ্চগড় জেলা শহর থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে অবস্থিত। আনুমানিক সাড়ে তিন শ বছর আগে স্থাপিত মসজিদটির নির্মাণ শৈলীর নিপূণতা ও দৃষ্টিনন্দন কারুকাজ দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে। নানান ইসলামি টেরাকোটা, ফুল ও লতাপাতার কারুকাজ খোদাই করা রয়েছে মসজিদটির দেয়ালজুড়ে। মসজিদের সামনে আয়তকার টেরাকোটার কারুকাজগুলোর একটির সঙ্গে অপরটির কোনো মিল নেই। মসজিদের দেয়ালে ব্যবহার করা ইটগুলো চিকন, রক্তবর্ণ ও বিভিন্নভাবে অলঙ্কৃত।

মসজিদের দৈর্ঘ্য ৪০ ফুট, প্রস্থ ২৫ ফুট এবং এক সারিতে রয়েছে ৩টি গম্বুজ। গম্বুজের চার কোণায় রয়েছে চারটি মিনার। সামনে রয়েছে তিনটি দরজা। সদর দরজা ও মাঝের গম্বুজের সামনের দিকে দুইপাশে রয়েছে দুইটি ছোট মিনার। মসজিদের ভেতরের অংশে খোদাই করা ফুল, লতাপাতা, কোরআনে কারিমের আয়াত সম্বলিত ক্যালিগ্রাফি তুলির ছোঁয়ায় সুসজ্জিত। এসব খোদাই করা কারুকাজ বিভিন্ন রঙে বিভিন্নভাবে সাজানো। মসজিদের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য ইবাদতে মশগুল ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের হৃদয়ের তৃষ্ণা মেটায়।

 

মসজিদের তোরণ ও মসজিদ


মসজিদের সামনে একটি খোলা জায়গা রয়েছে। খোলা জায়গার এক পাশে রয়েছে সুসজ্জিত পাকা তোরণ। তোরণের উভয় পাশে রয়েছে আকর্ষণীয় নকশা ও খাঁজ করা স্তম্ভ। স্তম্ভের মাঝে চ্যাপ্টা গম্বুজ তোরণকে অনিন্দ্য রূপ দিয়েছে। সুসজ্জিত গম্বুজের ওপরে ক্ষুদ্র আকৃতির চূড়া তোরণটিকে অনন্য রূপ দিয়েছে। মসজিদের পাশে রয়েছে একটি নুরানি মাদরাসা। সামনের দিকে রয়েছে প্রাচীন আমলের একটি অব্যবহৃত কূপ। এছাড়া তোরণের সামনের দিকে রয়েছে একটি পুকুর।

মসজিদের নামকরণ নিয়ে রয়েছে নানা ইতিহাস। স্থানীয়রা মনে করেন, মালিক উদ্দিন নামে মির্জাপুর গ্রামেরই এক ব্যক্তি মসজিদটি নির্মাণ করেন। এই মালিক উদ্দিন মির্জাপুর গ্রামও প্রতিষ্ঠা করেন। দোস্ত মোহাম্মদ নামে জনৈক ব্যক্তি মসজিদের নির্মাণ কাজ শেষ করেন। প্রত্নতত্ত্ববিদদের ধারণা, মুঘল শাসক শাহ সুজার শাসনামলে (১৬৫৬ সাল) মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। মসজিদের নির্মাণ সম্পর্কে পারস্য ভাষায় লিখিত মধ্যবর্তী দরজার ওপরিভাগে একটি ফলক রয়েছে।

মসজিদের পাশে থাকা কূপ


ফলকের ভাষা ও লিপি অনুযায়ী ধারণা করা হয়, মুঘল সম্রাট শাহ আলমের রাজত্বকালে এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কেউ মনে করেন, মুঘল শাহজাদা আজমের সময়কালে (১৬৭৯ সাল) নির্মিত ঢাকা হাইকোর্ট প্রাঙ্গণের মসজিদের সঙ্গে মির্জাপুর শাহী মসজিদের নির্মাণ শৈলীর সাদৃশ্য রয়েছে। সেই সময়েই মসজিদটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়।

এলাকাবাসীর মতে, মসজিদটি নির্মাণের দীর্ঘ প্রায় ৩৬৫ বছর পার হলেও কোথাও উল্লেখযোগ্য কোনো ত্রুটি চোখে পড়েনি। একসময় প্রবল ভূমিকম্পে মসজিদের বেশ কিছু অংশ ভেঙে যায়। তখন মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা মালিক উদ্দীন মসজিদটি সংস্কারের জন্য ইরান থেকে কারিগর নিয়ে আসেন। এর পর আর সংস্কার হয়নি। বর্তমানে মসজিদটির দেয়ালে ও গম্বুজে কিছুটা ফাটল দেখা দিয়েছে। এছাড়া মসজিদের ভেতরের বিভিন্ন জায়গার পলেস্তারা অল্প অল্প খসে পড়েছে।

মির্জাপুর শাহী মসজিদের নিপুণ কারুকাজ, সৌন্দর্য, ইতিহাস ও ঐতিহ্য ভ্রমণপিপাসুদের মনের তৃষ্ণা মেটায়। তবে ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি স্থানীয় জনগণের দেখাশোনার পাশাপাশি সরকারের দৃষ্টিপাত জরুরি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এটি আরও দর্শনীয় হিসেবে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকুক- এটাই সবার একান্ত কামনা।

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা