• শনিবার   ২৬ নভেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১২ ১৪২৯

  • || ০২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

আজকের খুলনা

খুলনায় রোপা আমনে এবার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

আজকের খুলনা

প্রকাশিত: ২২ নভেম্বর ২০২২  

আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর খুলনায় রোপা আমনে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। এমনটা আশা করছেন কৃষি অধিদপ্তর। ২০২২-২৩ খুলনা মেট্রোসহ জেলা নয় উপজেলায় ৯৩ হাজার ১৮৫ হেক্টের জমিতে রোপা আমন আবাদের বিপরীতে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯৩ হাজার ১৭০ মেট্রিক টন। গেল অর্থবছরের তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।     
কৃষি অধিদপ্তরের তথ্যমতে, খুলনা মেট্রোসহ জেলা নয় উপজেলায় ৯৩ হাজার ১৮৫ হেক্টের জমিতে রোপা আমন আবাদের বিপরীতে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯৩ হাজার ১৭০ মেট্রিক টন। আবাদের মধ্যে খুলনার রূপসা উপজেলায় ৩ হাজার ৮৯০ হেক্টর, বটিয়াঘাটায় ১৭ হাজার ৬০০ হেক্টর, দিঘলিয়ায় ১ হাজার ৯২০ হেক্টর, ফুলতলায় ১ হাজার ৪৩০ হেক্টর, ডুমুরিয়ায় ১৫ হাজার ৯৫০ হেক্টর, তেরখাদায় ৯০৫ হেক্টর, দাকোপে ১৯ হাজার ২৩৫ হেক্টর, পাইকগাছায় ১৭ হাজার ২৫৩ হেক্টর, কয়রায় ১৪ হাজার ৭২০ হেক্টর, দৌলতপুরে ৬৭ হেক্টর ও লবণচরায় ২০০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছে। গেল অর্থবছর খুলনা মেট্রোসহ নয় উপজেলায় ৯৩ হাজার ১৭০ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের আবাদ করা হয়। আবাদের বিপরীতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ছিলো ৯৩ হাজার ১৭০ হেক্টর।  

কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনা’র উপ-পরিচালক মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, খুলনায় এবছর রোপা আমন আবাদে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অর্জিত বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে খুলনায় এবছর রোপা আমন আবাদে কাাক্সিক্ষত ফলন আশা করা হচ্ছে। 

রূপসা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ফরিদুজ্জামান বলেন, এবছর রোপা আমনের আবাদ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় শতভাগ অর্জিত হয়েছে। তিনি বলেন, আবহাওয়া যদি অনুকূলে থাকে তাহলে রোপা আমনের বাম্পার ফলন আশা করা যাচ্ছে। এছাড়া পোকা-মাকড়ের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন। কারেন্ট পোকার আক্রমণ থেকে রেহাই পেতে আলোর ফাঁদ ব্যবহারের জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের সাথে উঠান বৈঠক করা হচ্ছে।

বটিয়াঘাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন, এ বছর রোপা আমনের ফলন শতভাগ আশা করা যাচ্ছে। আবহাওয়া যদি অনুকূলে থাকে তাহলে কাঙ্খিত ফলন আশা করা হচ্ছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময়ে কৃষকদের পাশে থেকে পাঠপর্যায়ে কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। পোকা-মাকড়ের কবল থেকে রক্ষা পেতে আলোর ফাঁদ ব্যবহারের জন্য কৃষকদের অবহিত করা হচ্ছে।     

তেরখাদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, কৃষকরা আধুনিক জাতের ধানের বীজ বপন করেছে। সময়মতো জমি পরিচর্যার কারণে রোগ-বালাই হয়নি। তবে যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয় তাহলে এ বছর রোপা আমন আবাদে বাম্পার ফলন আশা করা যাচ্ছে। 

দিঘলিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আব্দুস সামাদ বলেন, এ বছর ফলন খুব ভালো হয়েছে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ যদি না হয় তাহলে কৃষকরা বাম্পার ফলন পাবেন বলে তিনি আশা করছেন।

দাকোপ উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ মেহেদী হাসান খান বলেন, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে নিয়মিত কাজ করছেন। পোকা-মাকড় থেকে রক্ষা পেতে কৃষকদের আলোর ফাঁদ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে কাক্সিক্ষত ফলন আশা করছেন তিনি। এ বছর ১৮ হাজার ৯১৭ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ যদি না হয় তাহলে বাম্পর ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। 

রূপসার নৈহাটী ইউনিয়নের ইলাইপুর গ্রামের চাষি বিশ্বজিত পাল বলেন, রোপা আমনের বাম্পার ফলন আশা করা হচ্ছে। ঝড়-ঝাপটা ও পোকা-মাকড়ের আক্রমন না হয় তাহলে ভালো ফলন পাবো। 

বাগমারা গ্রামের চাষি মোঃ খোরশেদ আলম বলেন, রোপা আমনের ফলন এ বছর ভালো আশা করা হচ্ছে। আরেক কৃষক মোঃ ওমর আলী শেখ বলেন, আবহাওয়া যদি ভালো থাকে তাহলে আমনের ফলন ভালো আশা করা হচ্ছে। 

ডুমুরিয়া উপজেলার শোভনা গ্রামের কৃষক অরিন্দম মলি­ক বলেন, রোপা আমনের আবাদ নাবিতে (বিলম্বে) করা হয়েছে। শীত আগত হওয়ায় ধান ফুলে বের না হওয়া পর্যন্ত এই মুহূর্তে তেমন কিছু বোঝা যাচ্ছে না। তবে শিগগির যদি ধান ফুলে বের হওয়ার পর যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও পোকা-মাকড়ের আক্রমণ যদি না হয় তাহলে ভালো ফলন আশা করা যেতে পারে।  

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা