• বুধবার   ৩০ নভেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৬ ১৪২৯

  • || ০৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

আজকের খুলনা

খুলনার আলোচিত রহিমা বেগমকে পিবিআইতে হস্তান্তর

আজকের খুলনা

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২  

২৯ দিন নিখোঁজ থাকার পর জীবিত উদ্ধার হওয়া রহিমা বেগমকে পিবিআইতে হস্তান্তর করা হয়েছে। রোববার (২৫ সেপ্টম্বর) সকালে রহিমা বেগমকে পিবিআই কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

দৌলতপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ভিলটিমকে উদ্ধারের পর থেকে তিনি আমাদের কাছে কিছুই বলছেন না। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাকে পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এর আগে শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১১ টার দিকে ফরিদপুরের বোয়ালমারীর সৈয়দপুর গ্রামের কুদ্দুসের বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। রহিমা বেগমকে নিয়ে পুলিশের একটি টিম শনিবার দিবাগত রাত ২ টার দিকে দৌলতপুর থানায় পৌঁছায়।

সেখানে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার (উত্তর) মোল্লা জাহাঙ্গীর হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, অফিসাররা যখন ওই বাড়িতে যান যেয়ে দেখেন ভিকটিম দুই মহিলার সাথে কথা বলছেন। অফিসাররা যখন তাকে জিজ্ঞেস করেন তখন থেকে তিনি কথা বলা বন্ধ করে দেন।

কেএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, মামলাটি যেহেতু পিবিআইতে হস্তান্তর হয়েছে, তারা বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখবেন। ভিকটিমক নিয়ে সারা দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। আমরা তাকে উদ্ধার করতে পেরেছি, আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া। আমরা সবাই খুশি। বাকীটা পিবিআই তদন্ত করবে। আমি আশাবাদী পিবিআই এর রহস্য উদঘাটন করতে পারবেন।

এরআগে শুক্রবার সকালে নিখোঁজ মা রহিমা বেগমের (৫৫) সন্ধানে ময়মনসিংহে যায় মরিয়ম ও তার পরিবারের সদস্যরা। সকালে কাপড় দেখে মায়ের লাশ দাবি করেছেন মরিয়ম। তবে পুলিশ বলেছিল ডিএনএ টেস্ট ছাড়া লাশ চূড়ান্ত শনাক্ত করা সম্ভব নয়।

প্রসঙ্গত, গত ২৭ আগস্ট রাত আনুমানিক ১০টার দিকে খুলনা মহানগরীর মহেশ্বরপাশার উত্তর বণিকপাড়ার নিজ বাসা থেকে টিউবওয়েলে পানি আনতে নিয়ে নিখোঁজ হন রহিমা বেগম। এরপর আর ঘরে ফেরেননি তিনি। স্বামী ও ভাড়াটিয়ারা নলকূপের পাশে ঝোপঝাড়ে তার ব্যবহৃত ওড়না, স্যান্ডেল ও বালতি দেখতে পান। সেই রাতে মাকে খুঁজতে আত্মীয়স্বজন, আশপাশসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেন সন্তানরা।

রহিমার ছয় সন্তান কখনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, কখনো মাইকিং, কখনো আত্মীয়স্বজনদের দ্বারস্থ হয়েছেন। সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধনের পর মাকে খুঁজে পেতে গত ১৪ সেপ্টেম্বর দৌলতপুর থানায় মামলাও দায়ের করেন। মামলার বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পিবিআই তদন্তের ভার পায়। ১৭ সেপ্টেম্বর দৌলতপুর থানা থেকে মামলাটি পিবিআইয়ে স্থানান্তর করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত ২৭ আগস্ট নগরীর মহেশ্বরপাশা এলাকার বাড়ির সামনে থেকে রহিমা বেগম নিখোঁজ হয়-এ অভিযোগ তুলে তার মেয়ে আদুরি আকতার বাদী হয়ে পরদিন দৌলতপুর থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় এ পর্যন্ত ৬ জন আটক হয়েছেন।

তারা হলেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) প্রধান প্রকৌশল কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী মো. গোলাম কিবরিয়া, নিখোঁজ গৃহবধূর দ্বিতীয় স্বামী হেলাল হাওলাদার, দৌলতপুর মহেশ্বরপশা বণিকপাড়া এলাকার মহিউদ্দিন, পলাশ ও জুয়েল এবং হেলাল শরীফ।

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা