• সোমবার   ০৩ অক্টোবর ২০২২ ||

  • আশ্বিন ১৮ ১৪২৯

  • || ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

আজকের খুলনা

খুলনায় বিজেএমসি’র আঞ্চলিক কার্যালয় গরু-ছাগলের গোয়ালে পরিণত!

আজকের খুলনা

প্রকাশিত: ৬ আগস্ট ২০২২  

খুলনা নগরীর খালিশপুরস্থ চরের হাটে অবস্থিত বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশন (বিজেএমসি) খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের (জোনাল অফিস) বর্তমানে গরু-ছাগলের গোয়ালে পরিণত হয়েছে। এ অফিসের জেনারেল ম্যানেজার এবং এ্যাডমিন অফিসার দম্পতি অফিসটিকে রীতিমত তাদের পারিবারিক সম্পত্তিতে রূপান্তর করে ফেলেছেন। স্বামী-স্ত্রী মিলে এখানে গরু-ছাগল পালন করছেন অন্তত: ১৫টি। এ সুযোগে তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন এ অফিসেরই নিরাপত্তা প্রহরী কমান্ডার। তিনিও ৪/৫টি গরু লালন-পালন করছেন অফিস চত্বরেই। করছেন সেখানকার জলাশয়ে মৎস্য চাষও। 

এদিকে, সম্প্রতি জেনারেল ম্যানেজার গোলাম রব্বানীর একটি দুধওয়ালা গাভীকে কুকুরে কামড়ালে সেই গাভীর দুধও তিনি বিক্রি অব্যাহত রাখেন। এমনকি গত কয়েকদিন আগে গাভীটি অসুস্থ্য হয়ে পড়লে সেটি স্থানীয় কসাইয়ের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। যার মাংস বিক্রি করা হয় স্থানীয়দের কাছে। এভাবে জলাতংক রোগাগ্রস্ত গাভীর দুধ ও মাংস বিক্রি করার খবরে স্থানীয়দের মধ্যে বিরাজ করছে চরম ক্ষোভ। যদিও এ গাভীর দেখাশোনা করতে গিয়ে সিকিউরিটি কমান্ডার রাব্বি মন্ডলকেও হাসপাতালে যেতে হয় জলাতংকের ভ্যাকসিন নিতে। 

স্থানীয় সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এবং অনুসন্ধানে জানা গেছে, গোলাম রব্বানী এর আগে খালিশপুরের প্লাটিনাম জুটমিলের জিএম হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আর তার স্ত্রী তানজিলা বেগমও একই প্রতিষ্ঠানে এ্যাডমিন (প্রশাসন) অফিসার ছিলেন। কিন্তু মিল বন্ধের পর তিনি বিজেএমসি’র জোনাল (আঞ্চলিক কার্যালয়) অফিসের জিএম এবং তার স্ত্রী প্রশাসন অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। মূলত: তারপর থেকেই তারা এ অফিসটিকে গরু-ছাগলের গোয়ালে পরিণত করেন। স্বামী-স্ত্রী কর্মকর্তা দম্পতির কমপক্ষে ১৫টি গরু-ছাগল রয়েছে এখানে। যার লালন-পালনের দায়িত্ব পালন করেন এখানেই কর্মরত রাষ্ট্রীয় বেতনভূক্ত নিরাপত্তা প্রহরী ও মালিদের। অফিস চত্বরের গাছ-পালা কেটে তৈরি করা হয়েছে গরু-ছাগলের গোয়াল (ঘর)। আবার এসব পশুর খাবারের যোগানও হয় কাঠালসহ অফিসের বিভিন্ন গাছ-পালা থেকে। আর এসব দেখভালের সুযোগ নিয়ে পরিবার নিয়ে অফিস চত্বরে বসবাসরত সিকিউরিটি কমান্ডার রাব্বিও গড়ে তুলেছেন গুরুর গোয়াল। এভাবে কর্মকর্তা স্বামী-স্ত্রী এবং সিকিউরিটি কমান্ডারের নেতৃত্বে চলছে রাষ্ট্রায়াত্ব অফিসে গড়ে  উঠেছে গরু-ছাগলের গোয়াল।

সূত্র জানিয়েছে, জিএম গোলাম রব্বানীর দুধ দেওয়া একটি গাভীকে প্রায় তিন মাস আগে একটি কুকুর কামড়ে দেয়। এরপর থেকেই ধীরে ধীরে অসুস্থ্য হতে থাকে গাভীটি। কিন্তু তার দুধ দহন এবং বিক্রি করা বন্ধ করেননি জিএম। যথারীতি এ গরুর দুধ একই অফিসে কর্মরত অনেকেই ক্রয় করে পান করেছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে তাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ইতিমধ্যে গাভীটির দেখভাল করতে গিয়ে অসুস্থ্য পড়ে পড়েন আনসার কমান্ডার রাব্বি। তাকে নিতে হয় জলাতংক রোগের ভ্যাকসিন। এ অবস্থায় গত ১ আগষ্ট গাভীটি অসুস্থ্য হয়ে পড়লে আনসার কমান্ডারকে দিয়ে রাতের আঁধারে গাড়ীতে তুলে গাভীটি খালিশপুর হাউজিং’র আরমান কসাইয়ের কাছে নিয়ে বিক্রি করা হয়। যা জবাই করে আরমান কসাই বিক্রি করেন স্থানীয়দের কাছে।

গরু অসুস্থ্য হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে সিকিউরিটি কমান্ডার রাব্বি মন্ডল এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘স্যার ও ম্যাডামের কয়েকটি গরু-ছাগল আছে। এর মধ্যে একটি গরুকে কুকুরে না কিসে কামড় দিয়েছে- তা তারা জানেন না। তবে গরুটি অসুস্থ্য হয়ে পড়ায় পশু চিকিৎসকের কাছে নেয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকও নিশ্চিত হতে পারেনি। তবে চিকিৎসক গরুটিকে অন্য গরু থেকে সরিয়ে রাখতে বলেন। সে মোতাবেক কয়েকদিন আগে স্যারের একটি গাড়ী নিয়ে লোক এসে গরুটিকে নিয়ে যায়। তবে কোথায় নিয়েছে- তা তিনি জানেন না বলে দাবি করেন।’ 

জলাতংক আতংকে ভ্যাকসিন গ্রহণের বিষয়ে বলেন, তিনি এবং খলিল চাচা গরু দেখাশোনা করেন। সে কারণে জলাতংক আতংকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভ্যাকসিন নিতে যান। কিন্তু চিকিৎসক দেখে বলেছেন সেখানে ভ্যাকসিন দেওয়া হয় না। তারপর তিনি ফিরে আসেন। 

গরু-ছাগল পালনের বিষয়টি স্বীকার করে পাটকল কর্পোরেশন (বিজেএমসি) খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের জিএম গোলাম রব্বানী বলেন, অফিস চত্বরে ৪/৫টি গরু এবং কয়েকটি ছাগল আমার নিয়োগকৃত লোক দিয়ে লালন-পালন করা হয়। তার কোন গরুকে কুকুরে কামড়ায়নি। তবে একটি দুধের গরু সম্ভবত বিষাক্ত কোন খাবার খেয়ে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। এ কারণে গরুরটি তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে রাখা হয়েছে, বিক্রি করা হয়নি বলে দাবি করে বলেন, বিষয়টি নিয়ে তার প্রতিপক্ষরা অনেক ধরণের কথা-বার্তা বলছে। যা সত্য নয়। 

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা