• শুক্রবার   ১৯ আগস্ট ২০২২ ||

  • ভাদ্র ৪ ১৪২৯

  • || ২১ মুহররম ১৪৪৪

আজকের খুলনা

খুলনার বৃক্ষমেলায় কিনার ধুম এজন্য মেয়াদ বাড়ানোর দাবি

আজকের খুলনা

প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২২  

বৃক্ষ কিনার ধুম পড়েছে খুলনার বৃক্ষমেলায়। এ জন্য মেলার মেয়াদ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন নার্সারী মালিক সমিতির নেতারা। তবে আয়োজকরা বলছেন, মেলায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পড়লেও বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। মেলার সময় বাড়ানোর বিষয়ে ব্যবসায়ীরা লিখিত জানালে বিষয়টি উর্দ্ধতন মহলে জানানোর পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মেলা আয়োজকদের সূত্র জানায়, গত ২২ জুলাই থেকে খুলনায় ১৫ দিনব্যাপি বৃক্ষ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। খুলনা জেলা প্রশাসন ও সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ যৌথভাবে এই মেলার আয়োজক। মেলা চলবে আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত। সার্কিট হাউস মাঠে এই মেলা প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার এবারের প্রতিপাদ্য ‘বৃক্ষপ্রাণে প্রকৃতি-পরিবেশ, আগামী প্রজন্মের টেকসই বাংলাদেশ’।

খুলনা নার্সারি মালিক সমিতির সভাপতি এসএম বদরুল আলম রয়েল বলেন, মেলায় ৬১টির মতো স্টল রয়েছে। এরমধ্য নার্সারী মালিক সমিতির ৪৯টি স্টল। এছাড়া সরকারি স্টল আছে। আমাদের এখানে ফলজ, বনজ, ঔষধি সবধরনের গাছ রয়েছে। এছাড়া বর্তমান সময়ে ছাদ বাগানের জন্য স্পেশাল কিছু স্টল আছে। সবাইকে আমন্ত্রণ জানাই সবাই বৃক্ষমেলার মাঠে আসেন। মেলা উপভোগ করুন এবং সবুজের সাথে কিছুক্ষণ সময় কাটানোর জন্য সকলের আমন্ত্রণ রইলো।

তিনি বলেন, মেলা আগামী ৫ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে আমরা জেলা প্রশাসক ও বনবিভাগের নিকট দাবি জানাই আরও ১৫ দিন মেলার সময় বৃদ্ধির।
মেলার সময় বৃদ্ধির দাবি কেন এমন প্রশ্নের জবাবে খুলনা নার্সারি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আবু মাসুদ বলেন, দুটি কারণে মেলার সময় বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি। প্রথমত প্রকৃতি আমাদের সাথে নেই। প্রচন্ড খরা চলছে। এই খরার ভিতরে গাছ লাগানোর আগ্রহ থাকলেও সবাই যথাযথভাবে সেটা পালন করতে পারছে না। আরেকটি কারণ হচ্ছে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে রাত ৮ টার মধ্যে দোকান বন্ধ করা। মানুষ গরম ও খরার কারণে দিনের বেলা তেমন একটা মেলায় আসতে চায় না। আর যখন সন্ধ্যায় মানুষ আসতে শুরু করে তখন আমাদের বন্ধ করতে হয়। এই দুটি কারণ মিলিয়ে সময়টাকে যদি আরও একটু বৃদ্ধি করা যায়। এ জন্য দাবি রাখছি সরকারি ১৫ দিনের সাথে আরও ১৫ দিন বৃদ্ধি করা গেলে আমাদেরও উপকার হবে। সাথে যারা গাছ কিনতে আসবে তাদেরও উপকার হবে।

তিনি বলেন, মেলায় গাছ বিষয়ক যা কিছুর প্রয়োজন হয় সবকিছু মিলছে। গাছ, টব, তথ্য-পরামর্শ, গাছ বিষয়ক বই, জিনিসপত্র, সার, ওষুধ, বীজ ও কীটনাশক সব ব্যবস্থায় কিন্তু একটা জায়গাতে। কমদামে সবার কাছে গাছ পৌছে দেওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে।

হানিফ নার্সারীর মো. নুর ইসলাম বলেন, বেচাকেনা মুটামুটি ভালো হচ্ছে। এখানে ফলজ, বনজ, ঔষধি, ইনডোর-আউটডোর সব ধরনের গাছ আছে। এখানে সাকুলিয়ান, ক্যাট্রাস, এডোনিয়ামসহ বিভিন্ন গাছ আছে। এখানে ৫০ টাকা, ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ২২-২৫ হাজার টাকার গাছও আছে।

আরেক নার্সারী মালিক বলেন, আমার কাছে থাই ছফেদা, সীডলেস লেবু, চাইনা কাগজী, মাল্টা, বেদানা, আমড়াসহ বিভিন্ন ধরনের গাছ আছে।

তিনি বলেন, তুলনামূলক বেচা-কেনা ভালো না। কারণ দ্রব্যমূল্যের উদ্ধগতি। রোদ বেশি, বৃষ্টির তেমন দেখা নেই। তাই মানুষ গাছ কেনার আগ্রহ করছে না।

গ্রীন গ্লোব নার্সারীর শেখ জাহের আলী বলেন, কৃষি ব্যবস্থাপনা যেভাবে চলছে তাতে প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিক সার এবং রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে প্রকৃতির প্রাণ-পরিবেশে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ইতোমধ্যে আমরা দেখছি। এখন বর্ষা হওয়ার কথা, কিন্তু সেই পরিমাণ বৃষ্টি হচ্ছে না। জলবায়ু পরিবর্তন হয়ে গেছে। আমরা ৭০-৮০ বছর ধরে রাসায়নিক ও কীটনাশক সার ব্যবহার করে উৎপাদন ব্যবস্থাপনা নষ্ট করে ফেলেছি।

তিনি বলেন, আমাদেরকে জৈব পদ্ধতিতে আসতে হবে।

মেলায় আসা শিক্ষার্থী কামরান শিকদার আপন বলেন, মেলায় এসেছি। ঘুরে ঘুরে গাছ দেখছি। পছন্দ হলে কিনবো।

সুন্দরবন পশ্চিমের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন বলেন, ১৫দিন ব্যাপি বৃক্ষমেলা চলছে। মানুষ মেলায় আসছে, বেচা-কেনাও ভালো। প্রথমদিকে একদিনে লাখ টাকার গাছ বিক্রি হয়েছে। পরবর্তীতে একদিনে ২ লাখ টাকার বেশি গাছ বিক্রি হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের বিষয়ে তিনি বলেন, বৃষ্টি হলে গাছের বিক্রি আরও বেড়ে যেতো।

মেলায় মেয়াদ বাড়ানোর ব্যবসায়ীদের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে লিখিত কোন আবেদন আমরা পায়নি। তবে লিখিত আবেদন করা হলে বিষয়টি নিয়ে কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করা হবে। আলোচনার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা