• বুধবার   ১২ মে ২০২১ ||

  • বৈশাখ ২৯ ১৪২৮

  • || ৩০ রমজান ১৪৪২

আজকের খুলনা

হেফাজত নেতাদের বিরুদ্ধে সাংসদ মোকতাদিরের মামলার আবেদন

আজকের খুলনা

প্রকাশিত: ২ মে ২০২১  

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে থাকা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ফেসবুকের যে লিংকগুলোর কথা মামলায় উল্লেখ ও সংযুক্ত করা হয়েছে, সেগুলো রাষ্ট্রবিরোধী কি না, তা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কাছে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। সিআইডির প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনে সরকারদলীয় সাংসদ। সাংসদের পক্ষে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় তাঁর আইনজীবী ও শহর আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক আবদুল জব্বার এজাহারটি সদর মডেল থানায় জমা দেন। এজাহারে অজ্ঞাতনামা আরও ১০০-১৫০ জনকে আসামি করা হয়।

 

হেফাজতে ইসলামের জেলা শাখার সভাপতি সাজিদুর রহমান কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের সদর উপজেলার ঘাটুরা এলাকার দারুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও হেফাজতের আগের কমিটিতে কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ছিলেন। সাধারণ সম্পাদক মুফতি মুবারকুল্লাহ জেলা শহরের কান্দিপাড়ার জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। মামলার এজাহারে তাঁদের দুজনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

 

এজাহারে এই দুই প্রধান আসামি ছাড়া আরও ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন মাওলানা আশরাফুল হোসেন তপু, বোরহান উদ্দিন কাসেমী, মাওলানা আলী আজম, মাওলানা এরশাদ উল্লাহ, মাওলানা জুনায়েদ কাসেমী, মাওলানা নোমান আল হাবিব, মমিনুল হাসান তাজ, সুলেমান মোল্লা, মাওলানা এনামুল হক, মাওলানা আবদুল হাকিম, মাওলানা মনজুরুল হক ও খালেদ মোশাররফ। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

 

উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এজাহারে উল্লেখ করেন, গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতা চালান হেফাজতে ইসলামের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার নেতা-কর্মীরা। তাঁরা সহিংসতা চালিয়ে বৈধ সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করেছেন। এরই অংশ হিসেবে আগ্নেয়াস্ত্র, গান পাউডারসহ বিভিন্ন দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভয়াবহ ক্ষতিসাধন করেন। এর আগে হেফাজতের কর্মী–সমর্থকেরা বিভিন্ন ফেসবুক পেজ, আইডি ও নিউজ পোর্টাল থেকে রাষ্ট্রদ্রোহমূলক স্ট্যাটাস দিয়ে জনসাধারণের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন। এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আইনশৃঙ্খলার ব্যাপক অবনতি হয়।

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মুহাম্মদ শাহজাহান এজাহার পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সাংসদের মামলার এজাহার থানায় গ্রহণ করা হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা নথিভুক্ত করার আগে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও নির্দেশের প্রয়োজন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

 

প্রসঙ্গত, গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সহিংসতা চালান হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা। এসব ঘটনায় জেলায় ১৫ জন নিহত হন। এখন পর্যন্ত এসব ঘটনায় ৫৬টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৪০ হাজারের বেশি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা। এর মধ্যে ১২-১৪টি মামলার এজাহারে মাত্র ৪১৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। গতকাল সকাল পর্যন্ত পুলিশ এসব মামলায় ৩৯৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা