আজকের খুলনা
ব্রেকিং:
বাঁশে ঝুলিয়ে যুবককে নির্যাতন, সালাম মেম্বারসহ আটক ৫ আলহাজ্ব টেক্সটাইলের পরিচালককে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা রাজধানীতে র‌্যাবের অভিযানে এক জঙ্গি আটক অর্থ আত্মসাত: রাজশাহী শিল্পকলার সাবেক নৃত্য প্রশিক্ষক গ্রেপ্তার পরিবহণ শ্রমিকদের কাজে ফেরার নির্দেশ শাজাহান খানের শনিবার সমাবেশের ঘোষণা জাবি আন্দোলনকারীদের খুলনায় ঘের ব্যবসায়ীকে হত্যার ঘটনায় ৩ জন আটক জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব ঢাকায় আসছেন আগামীকাল মাদারীপুর আদালতে জামিন পেলেন শামসুজ্জামান দুদু আফগানিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

শুক্রবার   ২২ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৭ ১৪২৬   ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

আজকের খুলনা
সর্বশেষ:
শনিবার আত্মসমর্পণ করবে কক্সবাজারের শতাধিক জলদস্যু গাঙ্গুলির নিমন্ত্রণে কলকাতা পৌঁছেছেন সাবেক ক্রিকেটাররা খুলনায় প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বিভিন্ন স্কুলের মানববন্ধন ডিআইজি পার্থ’র মামলার প্রতিবেদন ২৮ জানুয়ারি শিক্ষা অধিদপ্তরের ঠিকাদারের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা খুলনায় নৌ অঞ্চলে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপিত নওগাঁয় ইজিবাইক চালক হত্যা মামলার ৫ আসামি গ্রেফতার খুলনায় দুর্নীতি বিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
১২

হায় জাহাঙ্গীরনগর, হায় উপাচার্য

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৬ নভেম্বর ২০১৯  

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কী চলছে? একজন উপাচর্যকে যদি অল্প কয়জন শিক্ষার্থীও অপছন্দ করেন তাও তো তার পদ ছেড়ে দেয়া উচিত। বিশ্ববিদ্যালয় কোনো স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্র নয়, উপাচার্য পদটিও স্বৈরশাসকের নয় যে জোর করে টিকে থাকতে হবে।

শিক্ষক আর রাজনীতিকের মধ্যে পার্থক্য অনেকটাই। বর্তমান জামানায় রাজনীতি একটি লাভজনক পেশা, বিশেষ করে হালের ক্যাসিনোকান্ড থাকে নানা কাণ্ড তা প্রমাণ করেছে। রাজনীতির সঙ্গে যেমন অর্থের যোগসূত্র রয়েছে, তেমনি প্রভাব-প্রতিপত্তিরও।

ক্ষমতার হাত বেয়েই অর্থ ঢোকে পকেটে। অথচ শিক্ষকতার ক্ষেত্রে এমনটা হওয়ার কথা নয়, উচিতও নয়। এসব কথা বলছি এ কারণে যে, খবরে পড়লাম ও দেখলাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন সভা ডেকে হল বন্ধ করে দিয়েছে।

সঙ্গে প্রশাসনের তরফে বশির আহমেদ নামের একজন শিক্ষার্থীরা হল খালি না করলে পুলিশ ডেকে বের করে দেয়ার কথা বলেছেন। তিনি এটুকু বলেই ক্ষান্ত থাকেননি, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সব খাবারের দোকান বন্ধ করে দিতে বলেছেন। সঙ্গে ঘোষণা দিয়েছেন আরও কঠোর হবার।

এই বশির আহমেদকে শিক্ষক বলতে পারলাম না বলে দুঃখিত। একজন শিক্ষকের ভাষা, আচরণ এমন হতে পারে না, হওয়া সম্ভব নয়। ‘ছাত্র পুত্রবৎ’ এটাই শিক্ষকদের আদর্শ। সেই ছাত্রদের হল ত্যাগে বাধ্য করা এবং তাদের ক্ষুধা নিবারণের রাস্তা বন্ধ করার কিম্ভুত চেষ্টা কোনো শিক্ষকের পক্ষে সম্ভব নয়। এ অসম্ভব। কী এমন হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে? দুটি ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে? ভূমিকম্প বা সুনামির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে? নাকি মহামারি? কোনটা? এমন কিছুইতো হয়নি যাতে শিক্ষার্থীদের জীবন শংকা দেখা দিয়েছে, তবে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়তে হবে কেন? তারা কি চাইছে; চাইছে উপাচার্যর বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগগুলোর তদন্ত।

এতে অসুবিধা কোথায়? বিশ্ববিদ্যালয় তো রাষ্ট্র নয়, ভিসিও তো কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা নন যে, ক্ষমতা ছাড়লে সমস্যায় পড়তে হবে। একজন শিক্ষক তার চরিত্রগুনে ‘আইডল’ হন। সেই ‘আইডল’দের অনুসরণ করেই শিক্ষার্থীরা নিজেদের ‘আইডল’ হিসাবে তৈরি করেন।

সেই ‘আইডল’দের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠামাত্রই তো তাদের পদত্যাগ করার কথা। পদ ছেড়ে দিয়ে নিজের আদর্শিক দিকের স্বচ্ছতা ও বিশ্বস্ততা প্রমাণ করার কথা। অথচ জাহাঙ্গীরনগরের উপাচার্য মহোদয়া করলেন তার উল্টোটা।

তিনি নিজের পক্ষে লোকজন ভিড়ালেন, ছাত্রদের সাথে ছাত্রদের সংঘাতের সৃষ্টি করলেন, শেষ পর্যন্ত পুলিশী ব্যবস্থা নেয়ার আয়োজন করলেন। আর এসব কর্মকাণ্ড বয়ানের মুখপাত্র হলেন বশির আহমেদ নামের ওই লোক। সাধু, সাধু!

আচার্য শব্দটি সম্পূর্ণতা শিক্ষা সম্পৃক্ত। যে শিক্ষা ধর্ম থেকে কর্ম পর্যন্ত বিস্তৃত। যে শিক্ষা নিজ চরিত্র সঙ্গে সামাজিক চরিত্র বিনির্মাণের জন্য। আচার্য তথা শিক্ষক মাত্রেই সার্বিক সমাজ সর্বোপরি রাষ্ট্র কাঠামো গঠনের চিন্তা নিয়ন্তা।

মানুষের চিন্তা করার ক্ষমতা এবং চিন্তার সঠিক পথ ধরিয়ে দেয়াই শিক্ষকের কাজ। আচার পালনে যিনি একনিষ্ঠ, সর্বোত্তম, তিনিই হন আচার্য। অর্থাৎ শিক্ষকদের মধ্যে যে শ্রেষ্ঠ তার ভাগ্যেই জোটে পদবিটি।

যে পদের সাথে যুক্ত সম্মান আর শ্রদ্ধা, কোনভাবেই অর্থকড়ি নয়। সে পদেরই বর্তমান সংস্করণ উপাচার্য পদবি। যেহেতু আচার্য পদটি এখন রাষ্ট্রীয়। শিক্ষকের কাজ টাকার ভাগবাটোয়ারা নয়। শিক্ষকের কাজ গাড়ি-বাড়ির বিলাসিতা নয়।

শিক্ষকের কাজ অন্যায়কে সমর্থন করা নয়। অথচ এই কাজগুলো যখন শিক্ষকদের দ্বারা হতে থাকে তখন সমাজ বিপথে যেতে বাধ্য। যেহেতু সমাজ এখনো শিক্ষকদের সম্মান দেয়।

অতি বেয়াদব ছেলেটাও আদর্শ ধরে রাখা শিক্ষকের সামনে কাঁচুমাচু মুখে উঠে দাঁড়ায়। তবে এমন অবস্থা কত দিন ধরে রাখা যাবে তা এখন সংশয়ের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যখন শিক্ষকরাই ছাত্রদের বেয়াদব হতে উৎসাহিত করেন, তখন সংশয় সৃষ্টি না হওয়াটাই অস্বাভাবিক।

শিক্ষকদের বিপথগামীতা সমাজকেও বিপথগামী করে, সামাজিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে। আশ্চর্য হতে হয়, একজন উপাচার্য এমন হতে পারেন! একজন শিক্ষক, তারপর মায়ের জাত! হায়, এমন মাও কি আছেন, যিনি সজ্ঞানে চান তার সন্তান আঘাতপ্রাপ্ত হোক, তার জীবনসংশয় ঘটুক!

একমাত্র মানসিক বৈকল্য ছাড়া এমনটা হওয়া সম্ভব নয়। বুদ্ধিবৃত্তির সঙ্গে মানসিক বৈকল্য কোনভাবেই যায় না। মা হন সর্বংসহা। যিনি নিজের জীবন দিয়ে হলেও সন্তানকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন। আর শিক্ষক-শিক্ষিকা হন একাধারে শিক্ষাগুরু এবং অভিভাবক।

তাদের দায়িত্ব মা-বাবা’র চেয়েও বেশি। অথচ হালে আমরা একি দেখছি! আবরার ফাহাদের ক্ষেত্রে দেখলাম, দেখেছি আমার নিহত পুত্রের ক্ষেত্রেও। দেখলাম আরও নানা ক্ষেত্রে। এখন দেখছি জাহাঙ্গীরনগরে! এখন বুঝতে পারছি, সেলুকাসকে ডেকে আলেকজান্ডার এমনিতেই বলেননি, ‘দেখো কী বিচিত্র এই দেশ’!

লেখক: কাকন রেজা, সাংবাদিক ও কলাম লেখক।

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা
এই বিভাগের আরো খবর