• রোববার   ০৫ জুলাই ২০২০ ||

  • আষাঢ় ২১ ১৪২৭

  • || ১৪ জ্বিলকদ ১৪৪১

আজকের খুলনা
৫০

হাসপাতালের রাস্তা ব্যবসায়ীদের দখলে, পথচারীরা বিপাকে

আজকের খুলনা

প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০১৯  

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রাস্তার বেশির ভাগ অংশ ব্যবসায়ীরা দখল করে দোকান নির্মাণ করায় প্রতিনিয়ত বিপাকে পড়তে হচ্ছে পথচারীদের। রাস্তার দু’ পাশে রেলের জমি। ওই সব ব্যবসায়ীরা রেল কোম্পানীর নিকট থেকে জমি বন্দবস্ত এনে এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। ওই জমিতে দোকান ঘর উত্তোলন করার সময় পাকা রাস্তার ঢালু পর্যন্ত দখল করে ঘর ও ঘরের বারান্দা নির্মাণ করেছেন ব্যবসায়ীরা। 

প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করার সময় দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীদের পড়তে হচ্ছে বিড়ম্বনায়। হাসপাতালের প্রবেশ পথের এসব দোকানের কারণে ঘটছে দুর্ঘটনা। নষ্ট হচ্ছে হাসপাতালের সৌন্দর্য। দোকান মালিকরা রাস্তা দখল করে দোকানপাট বসানোর কারণে এবং রাস্তার পরিধি ছোট হওয়াতে হাসপাতালে প্রবেশ করার সময় অ্যাম্বুলেন্সসহ যাবতীয় যানবাহন চলাচলও বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।

বোয়ালমারী আখ সেন্টার হতে হাসপাতালের প্রধান গেট পর্যন্ত দখল করে দোকানপাট বসেছে। হাসপাতালে প্রবেশের রাস্তার দু’পাশ দিয়ে রয়েছে ফার্মেসী, পান সিগারেটসহ বিভিন্ন পণ্যের দোকান। এ দোকানগুলো রাস্তার অর্ধেক দখল করে আছে। এতে হাসপাতালে একদিক থেকে রোগীর গাড়ি ঢুকলে অপরদিক থেকে কোনো যানবাহন বাইরে বেরোতে পারে না। এমনকি রাস্তা দখল করে দু’ধারে দোকানপাট বসার কারণে যানবাহন হাসপাতালে ঢোকার সময় পায়ে হেঁটেও ওই রাস্তায় যাওয়া যায় না। এতে প্রতিনিয়ত হাসপাতালের সামনেই ঘটে ছোট খাটো দুর্ঘটনা। অনেক অভিভাবক হাসপাতালে রোগী দেখতে এসে দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে তাকে বাড়ি ফিরতে হয়। 

অপরদিকে, হাসপাতালের বন্ধ গেটের সামনে তাবু ফেলে বসেছে চায়ের দোকান। ওই গেটটির রাস্তা বেদখল হয়ে রয়েছে। যার কারণে ওই গেটটি কখনও খোলা হয় না। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীর স্বজনেরা। রাস্তাটির পাশে বিভিন্ন ধরনের দোকান, রিকশা, অটোরিকশার দখলে থাকায় হাসপাতালে জরুরিভাবে ঢোকাই দুরূহ হয়ে পড়েছে। হাসপাতালের মূল ফটক দিয়ে ২৪ ঘণ্টাই চলাচল করেন রোগীর স্বজনেরা। রোগীর জন্য জরুরিভিত্তিতে ওষুধ, খাবারসহ অন্যান্য দ্রব্য নিয়ে আসতে তারা ফটকের মূল গেট ব্যবহার করেন। কারণ হাসপাতালের পকেট গেটটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। 

এ ব্যাপারে হাসপাতালে রোগী নিয়ে আসা একাধিক যানবাহন চালক বলেন, রোগী নিয়ে হাসপাতালের রাস্তায় প্রবেশ করা কষ্ঠসাধ্য হয়ে পড়েছে। মাইক্রোবাসে রোগি নিয়ে হাসপাতালের রাস্তায় ঢুকলে অপরদিক থেকে কোন যানবাহন আসলে ওভারটেক করা যায় না। আমাদেরকে পড়তে হচ্ছে সমস্যায়। প্রতিটি দোকান ঘর যদি পাকা সড়ক থেকে ২ হাত সরিয়ে ফেলে তা হলে কোন সমস্যা হয় না। 

বিষয়টি স্বীকার করে পৌর মেয়র মোজাফফর হোসেন মিয়া বলেন , আমি খুব দ্রুতই হাসপাতালের রাস্তায় ইঞ্জিনিয়ার পাঠিয়ে রাস্তা ফাকা করার ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।  

সদ্য যোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঝোটন চন্দ বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা