• শনিবার   ০৪ জুলাই ২০২০ ||

  • আষাঢ় ২০ ১৪২৭

  • || ১৩ জ্বিলকদ ১৪৪১

আজকের খুলনা
১২০

সিডরের এক যুগ পার : আজও স্বাভাবিক হয়নি উপকূলের জীবনযাত্রা

আজকের খুলনা

প্রকাশিত: ১৫ নভেম্বর ২০১৯  

আজ সিডর দিবস। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর রাতে ঘণ্টায় ২১৫ কিলোমিটারগতির প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে লন্ডভন্ড হয়ে যায় দক্ষিণের জনপদ। মারা যায় ৪ হাজারের বেশী মানুষ। অগণিত গবাদিপশুর মৃত্যু হয়। বাড়িঘর, ফসলী জমি, রাস্তাঘাট, বেড়িবাঁধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সুন্দরবনের গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল।

সুপার সাইক্লোন সিডরের আজ এক যুগ পূর্ণ হয়েছে। আজও স্বজন হারানোদের কান্না থামেনি। গত ১১ বছরে উপকূলীয় জনপদ খুলনার কয়রা উপজেলায় বেশ কয়েকটি সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। বেশ কিছু বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সংস্কার করা হলেও এখনো অনেক বাঁধ সংস্কারহীন অবস্থায় রয়েছে। নতুন করে অনেক বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। প্রকৃতির সাথে প্রতিদিন যাদের যুদ্ধ করে বেঁচে থাকতে হচ্ছে তাদের জন্য বিকল্প কোনো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এখনো করা হয়নি।

সুপার সাইক্লোন সিডরের ক্ষত চিহ্ন আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন স্বজনরা। সিডরের এক সপ্তাহ আগে কয়রা উপজেলা থেকে শতাধিক মানুষ গিয়েছিলেন বরগুনার আমতলী উপজেলার কাকচিড়া এলাকার ইটভাটায় কাজ করতে। তাদের মধ্যে ১১ জন সিডরের রাতে ইটভাটার চিমনি ও দেয়াল চাপা পড়ে নিহত হয়। এছাড়া সিডরের আগে কয়রা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে যারা সুন্দরবনে ও বঙ্গোপসাগরে গিয়েছিলেন মাছ ধরতে তাদের মধ্যে অনেকেই আজও ফিরে আসেনি। স্বজনদের হারিয়ে অসহায় সে পরিবারগুলো এখনো মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।
ঘূর্ণিঝড় সিডরে কয়রা উপজেলায় সরকারি হিসেবে ১১ জন মানুষের প্রাণহানী হয়। তবে স্থানীয় সূত্র ও বেসরকারি জরিপে সিডরে এ উপজেলায় প্রাণহানীর সংখ্যা অর্ধ শত।  সিডরের পরে সরকার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সরকার সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। বর্তমানে কয়রা উপজেলায় মোট ৪৭টি সাইক্লোন সেল্টার আছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। এতে বড় ধরনের দুর্যোগ দেখা দিলে মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়বে। 
এদিকে সিডরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তিনটি পোল্ডারের প্রায় ভেঙে যাওয়া বাঁধ এখনও মেরামত সম্ভব হয়নি। উপরন্ত পরবর্তি দূর্যোগগুলোতে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের আরও ক্ষতি হয়েছে। যে কারণে হুমকির মধ্যে রয়েছে বেড়িবাঁধ ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষ জন।
কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমার ইউনিয়নের দশহালিয়া, লোকা ও পূর্বমঠবাড়ি এলাকায় পাউবো’র বাঁধের প্রায় ১০ কিলোমিটার ঝুঁকিতে রয়েছে। তাছাড়া দুর্যোগে আশ্রয় নেওয়ার মত পর্যাপ্ত সাইক্লোন সেল্টার না থাকায় সমস্যায় পড়তে ইউনিয়নবাসীকে। 

কয়রা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস,এম শফিকুল ইসলাম বলেন, সিডরের পর আইলা ও সর্বশেষ ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে বিপর্যস্ত এলাকার মানুষ প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করেই টিকে আছে। তাদের কাছে বড় বিপদ এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ। এ উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে দক্ষিণবেদকাশি। এ ইউনিয়নের অধিকাংশ বাঁধই ঝুকিপূর্ন। তিনি জানান, কয়রা উপজেলায় পাউবো’র তিনটি পোল্ডারে প্রায় ৫০ কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব বাঁধ দ্রæত সংস্কার না হলে পানিতে তলিয়ে যাবে এ উপজেলার অধিকাংশ এলাকা। 
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাতক্ষীরা-২ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খান আরিফুজ্জামান মুঠোফোনে জানান, কয়রা উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধগুলো দ্রæত সংস্কার, নতুন বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও অসমাপ্ত কাজগুলো পর্যায়ক্রমে সমাপ্ত করা হবে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলি স্থায়িভাবে মেরামতের জন্য একটি মেগা প্রকল্প একনেকে পাশের অপেক্ষায় রয়েছে। 
 

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা
খুলনা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর