• সোমবার   ১৩ জুলাই ২০২০ ||

  • আষাঢ় ২৯ ১৪২৭

  • || ২২ জ্বিলকদ ১৪৪১

আজকের খুলনা
১৫৬

সরবরাহ পর্যাপ্ত হলেও চার কারণে অস্থির চালের বাজার

আজকের খুলনা

প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

বাজারে রয়েছে চালের পর্যাপ্ত সরবরাহ। উৎপাদনও এবছর ভালো হয়েছে। তারপরও বাজারে কোনো প্রকার যৌক্তিক কারণ ছাড়াই প্রতিদিন বেড়ে চলেছে দাম। চালের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন স্বল্প আয়ের ক্রেতারা। খুচরা ব্যবসায়ীরা, চালের দাম বাড়ার দায় চাপাচ্ছেন মিল মালিকদের ওপর। আর মিলাররা বলছেন, কৃষকদের কাছ থেকে সরকার বাড়তি দামে ধান ক্রয় করায় তার প্রভাব পড়েছে বাজারে। তবে, খাদ্য বিভাগ বলছে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা হবে। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, চারটি কারণে চালের বাজারে অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, এবছর ধানের উৎপাদনের কোনো ঘাটতি ছিল না। কৃষকরা ন্যায্য মূল্যে সরকার ও মিল মালিকদের কাছে চাল বিক্রি করেছে। কতিপয় অসাধু মিল মালিক ও অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট যথেষ্ট পরিমান চাল কিনে তা গুদামজাত করে রেখেছে। তারা বাজারে চাল ছাড়ছে ঠিকই কিন্তু দাম বাড়িয়ে পাইকারী ব্যবসায়ীদের কাছে অতিরিক্ত মুনাফা করছে। পাইকারী ব্যবসায়ীরা আবার খুচরা বাজারে বেশী দামে চাল বিক্রি করছে। ফলে ক্রেতাদের হাতে সে চাল পৌছাতে ক্ষেত্রবিশেষে কেজিতে দাম বেড়ে যাচ্ছে ৫ টাকা থেকে ১২ টাকায়।    

দেশের সিংহভাগ চাল উৎপাদন হয় দেশের উত্তরের জেলাগুলোতে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,সেখানকার বাজারে সরবরাহ ভালো। অথচ গত এক মাসের ব্যবধানে প্রকার ভেদে চালের দাম প্রতি কেজিতে বেড়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা। মোটাজাতের গুটি স্বর্ণা চালের দাম ৫০ কেজির প্রতি বস্তা সাড়ে ১১শ' টাকার চাল এখন ১৪শ' ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিআর ২৮ চাল প্রতি ৫০ কেজির বস্তা আগে ১৭শ' টাকা বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকায়। মিনিকেট চাল প্রতি ৫০ কেজির বস্তার দাম ২২শ' টাকা থেকে বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ২৪শ' টাকায়। এদিকে, বগুড়ায় সপ্তাহের ব্যবধানে রঞ্জিৎ চালের দাম ৫ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ টাকায়। একইভাবে প্রকারভেদে মোটা ও সরু চালের দাম প্রতি কেজিতে বেড়েছে ৩ থেকে ৫ টাকা। মিলাররা বলছেন, সরকার কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দামে ধান কেনায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

খাদ্য বিভাগ বলছে, মার্চের মাঝামাঝি থেকে সরকারের ১০ টাকা কেজি দরে মোটা চাল বিতরণ শুরু হলে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে আসবে। চলতি বছর মার্চ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সরকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজি দরে সারা দেশে ৫০ লাখ পরিবারের মাঝে দেড় লাখ মেট্রিকটন চাল বিতরণ করা হবে। কৃষক সূত্র জানান, মিনিকেট ও ব্রি-২৮ ধান উঠতে শুরু করলে চালের দাম কিছুটা কমে যাবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছে, বাজার মনিটরিংয়ে সরকারের কিছুটা দূর্বলতা রয়েছে। মিডিয়ার বিভিন্ন নেতিবাচক রিপোর্টের কারণেও চালের বাজার অস্থির হয়ে পড়ে। চালের বাজার নিয়ন্ত্রনে রাখতে মিলার ও সিন্ডিকেটদের অশুভ তৎপরতা বন্ধ করা জরুরী।

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা
জনদূর্ভোগ বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর