আজকের খুলনা
ব্রেকিং:
বিমানের আধুনিকীকরণে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী দুই মাসে ফিটনেস নবায়ন করেছে ৮৯ হাজার ২৬৯টি গাড়ি

বুধবার   ২৩ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৮ ১৪২৬   ২৩ সফর ১৪৪১

আজকের খুলনা
সর্বশেষ:
খিলগাঁওয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রিকশাচালকের মৃত্যু তালায় মৎস্য ঘের থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার বৃহস্পতিবার আজারবাইজান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
২৬

শেখ হাসিনার জন্মদিন: এ জীবন নিত্যই নূতন

ঢাকা অফিস

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৩তম জন্মদিন। ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থান গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শেখ হাসিনা জন্মগ্রহণ করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায়– 'জন্মদিন আসে বারে বারে/মনে করাবারে--/এ জীবন নিত্যই নূতন/ প্রতি প্রাতে আলোকিত/ পুলকিত দিনের মতন।'

১৯৯৬ সালে বেগম সুফিয়া কামাল বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা দিয়ে আর্শীবাণী দিয়েছিলেন– 'শেখ হাসিনা সাহসের সাথে সংগ্রামে এগিয়ে অগ্রবর্তিনী হয়ে আমাদের শ্রদ্ধা অর্জন করছেন আর ঘাতক মুষক গোপন থেকে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পদদলিত হবার আকাঙ্ক্ষায় কৃমিকীট হয়ে আত্মগোপন করছে। আল্লাহ সহায় হোন, শেখ হাসিনা অজেয় অমরত্ব লাভ করে সর্বদলের বিজয়েনী হয়ে বিরাজ করুন এই প্রার্থনা আজ সর্বজনার কাছে।'

সময় গড়িয়েছে আর শেখ হাসিনা ক্রমেই সমৃদ্ধ হয়েছেন। 'হাসিনা এ ডটার'স টেল' যারা দেখেছেন তারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানার সেই সংলাপের কথা– 'মাকে যদি বলতে পারতাম, তোমার হাসু আর আলসে ঘরের মেয়ে নেই। যে মেয়েটা নাকি গল্পের বই পড়ে, গান শুনে দিন কাটিয়ে দিতে চেয়েছিল, সেই মেয়েটিই এখন বাঙ্গালি জাতির পরিত্রাণ কর্তা, বাঙ্গালি জাতির বিকল্পহীন অবলম্বন।'

শেখ হাসিনা একমাত্র সরকারপ্রধান যিনি সোজাসুজি স্পষ্ট করে বলতে পারেন। এটাও তার জন্মসূত্রে পাওয়া। বঙ্গবন্ধুর 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী'তে আমরা দেখতে পেয়েছি– 'আমি কথা চিবাই না, যা ভালো মনে করি বলে ফেলি, ভুল হলে তা সংশোধন করি।'

বঙ্গবন্ধুকন্যা বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ২১ বছর পর আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্রক্ষমতায় নিয়ে আসেন। সরকার গঠন করার চার মাসের মধ্যে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছিলেন। পিতা বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালের জোট নিরপেক্ষ সম্মেলনে দৃপ্তকণ্ঠে বলেছিলেন, 'বিশ্ব আজ দু'ভাগে বিভক্ত– শোষক আর শোষিত। আমি শোষিতের পক্ষে।'

১৯৯৬ সালের তৎকালীণ বিশ্বরাজনীতির প্রেক্ষাপটে অনেক কিছুই বলা না বলার বিষয় থাকতো। বিশ্ব সভায় বাংলাদেশের অবস্থান ছিল খুবই দুর্বল, নতজানু। সেখানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৪ অক্টোবর একবারেই স্পষ্ট করে বলে দিলেন, 'বিশ্বব্যাপী পুঁজি, বাণিজ্য ও সেবা প্রবাহের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার অনুকূলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরাম এবং সেমিনারে জোরালো যুক্তি প্রদর্শন করা হয়। আমরা মনে করি, এর পাশাপাশি শ্রমিকদের গমনাগমনের ওপর বিধি-নিষেধের নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। এ বিষয়টি নিশ্চিতভাবে খোলামনে কোনোরূপ বৈষম্য ছাড়াই যথেষ্ট গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা উচিত। ইতিহাস দৃঢ়ভাবে সাক্ষ্য দেয় যে, উন্নত জীবনের সন্ধানে অভিবাসনকারীরা স্ব-স্ব অভিবাসনের দেশকে দরিদ্র নয়; বরং বিত্তশালী করেছে, উন্নত করেছে।'

১৯৬২ সালের দুর্বার ছাত্র অন্দোলন ও স্বায়ত্তশাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবির সমর্থনে দেশব্যাপী গণঅন্দোলনের সময় ছাত্ররাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন শেখ হাসিনা। সে সময় আন্দোলনে তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। ১৯৬৬- ৬৭ সালে তিনি ইডেন কলেজ (বর্তমান বদরুন্নেসা মহাবিদ্যালয়) ছাত্রী সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সহ-সভানেত্রী নির্বাচিত হয়ে জনপ্রিয়তা প্রমাণ করেন। ১৯৬৯ সালের আইয়ুববিরোধী গণঅভ্যুত্থানে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। '৬৯ সালের রাজপথের মিছিলে তাকে খুবই সক্রিয় থাকতে দেখা গেছে। ১৯৮০-র দশকে (১৯৮১ ) বাংলাদেশের রাজনীতির এক জটিল, কুটিল ও ভয়ঙ্কর ত্রাসমূলক ফ্যাসিস্ট সামরিকতন্ত্র ও তাদের আজীবন সঙ্গী ধর্মব্যবসায়ী, মিথ্যাচারী ও সুবিধাবাদী রাজনীতির আর্বতের মধ্যে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সিভিল সুশাসনের ঝাণ্ডা হাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আবির্ভূত হন।

দৈনিক ইত্তেফাকের ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৮১ সালের সংখ্যা থেকে জানতে পারি কীভাবে শেখ হাসিনা ওই সময়ে ঐক্যের প্রতীক হিসেবে কাজ করেছেন। সেই সংবাদের শিরোনাম ছিল 'আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে এগিয়ে যান।' ঐতিহাসিক হোটেল ইডেনে অনুষ্ঠিত কাউন্সিল অধিবেশনে বৈরুত থেকে আগত ফিলিস্তিনি মুক্তি সংস্থার রাজনৈতিক শাখার পরিচালক জাকারিয়া আব্দুর রহিম তার শুভেচ্ছা বক্তৃতায় শেখ মুজিবের মৃত্যুকে সারা বিশ্বের সংগ্রামরত জনগণের জন্য বেদনাবহ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এক দশক, দুই দশক পরে হলেও বাংলাদেশে শেখ মুজিবের উত্তরসূরি আবার ক্ষমতায় আসবে– এ কথাও তিনি বলেছিলেন। তার কথা শেষ পর্যন্ত বাস্তব রূপ পেয়েছে।

দীর্ঘ ছ'বছর যন্ত্রণাদগ্ধ প্রবাসী জীবন কাঁটিয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে স্বদেশে ফিরে আসেন শেখ হাসিনা। আমরা কি এখন ভাবতে পারি– শেখ হাসিনা কত দুঃখ-কষ্ট এক জীবনে পেয়েছেন। আজ পৃথিবীর সর্বত্র শেখ হাসিনাকে নিয়ে আলোচনা হয়। এটা একদিনে হয়নি। তিনি অনেক কারণে বাঙালি জীবনে জরুরি; জরুরি থাকবেন। সৃষ্টিশীলতা তাকে অমরত্ব দান করবে। এটাও তিনি অসম্ভব পরিশ্রম করে অর্জন করেছেন। রাজনীতিতে তার নিত্য যাওয়া আসা ছিল। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের আগাম বার্তা ছিল না। এবারের জন্মদিনে তিনি দেশের বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইর্য়কে জাতিসংঘের ৭৪তম অধিবেশনে খুবই ব্যস্ত সময় পার করছেন। গত ৫ দিনে গড়ে ৪ থেকে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ সভায় যোগদান করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা 'গণতন্ত্রের আলোকবর্তিকা', বলিষ্ঠ একজন সমাজ সংস্কারক। ইউনেস্কোর সাবেক প্রধান ইরিনা বোকোভা বলছিলেন, 'সাহসী নারী' হাসিনা সবাইকে পথ দেখাচ্ছেন। ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সদর দপ্তরে শেখ হাসিনাকে 'ভ্যাকসিন হিরো ' উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে। নারী ও কন্যাশিশুদের শিক্ষা প্রসারে স্বীকৃতি স্মারক 'শান্তি বৃক্ষ' দেয়ার সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ইউনেস্কোর প্রধান। শেখ হাসিনাকে 'সাহসী নারী' অভিহিত করে জাতিসংঘের এ সংস্থাটির প্রধান বলেছেন, নারী ও কন্যাশিশুদের ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব মঞ্চের 'জোরালো এক কণ্ঠ'।

শেখ হাসিনা নিপীড়িত মানুষের ভালবাসা পেয়েছেন। পাঠকদের অনেকই হয়তো জেনে থাকবেন গফরগাঁওয়ের সেই গরীব রিকশাচালক হাসমত আলীর কথা, যিনি শেখ হাসিনার জন্য জমি কিনে রেখে যান। মৃত্যুর আগে হাসমত আলী তার স্ত্রী রমিজা খাতুনকে শেষ ইচ্ছার কথা জানিয়ে গিয়েছিলেন। ২০১০ সালের ৪ এপ্রিল সকালে 'কালের কণ্ঠে'র সাংবাদিক হায়দার আলীকে জড়িয়ে ধরে রমিজা খাতুন কাঁদলেন। বললেন, 'মরার আগে কাদিরের বাপ (হাসমত আলী) জমির দলিলডা হাতে দিয়া আমারে কইছিল, আমি মইরা গেলে আমার এতিম মাইডার কাছে (শেখ হাসিনা) জমির দলিলটা পৌঁছাইয়া দিবি। অহন দলিলডা তার হাতে দিয়া যাইতে পারলে আমি মইরাও শান্তি পামু।'

শেখ হাসিনা বোঝেন জনগণের সুখ-দুঃখ, বোঝেন তাদের নাড়ির টান। যে কারণে প্রয়াত কথা সাহিত্যিক শওকত ওসমান গাফফার চৌধুরীর হাত ধরে বলেছিলেন, 'গাফ্‌ফার দোহাই তোমার, হাসিনার সমালোচনা করো না। দীর্ঘকাল ধরেই তো চারিদিকে তাকিয়ে দেখছি, এত জ্ঞানী-গুণী, ডান-বামের বড় বড় নেতা। মুখে হাসিনার এত নিন্দা ও সমালোচনা। কিন্তু ক্রাইসিসের সময় হাসিনা ছাড়া কাউকে দেখি না।'

লেখক : সুভাষ সিংহ রায়

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা
এই বিভাগের আরো খবর