আজকের খুলনা
ব্রেকিং:
শিক্ষার মান ঠিক না রাখলে এমপিওভুক্তি থেকে বাদ দেওয়া হবে : প্রধানমন্ত্রী আবরারের রুমমেট মিজান পাঁচ দিনের রিমান্ডে ফিটনেস নবায়নহীন যানবাহনে তেল-গ্যাস না দেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের বিমানের আধুনিকীকরণে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী দুই মাসে ফিটনেস নবায়ন করেছে ৮৯ হাজার ২৬৯টি গাড়ি

বুধবার   ২৩ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৮ ১৪২৬   ২৩ সফর ১৪৪১

আজকের খুলনা
সর্বশেষ:
হত্যা মামলায় ক্যাসিনো খালেদ ৭ দিনের রিমান্ডে উল্লাপাড়ায় বাস খাদে পড়ে নিহত ১, আহত ৮ খিলগাঁওয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রিকশাচালকের মৃত্যু তালায় মৎস্য ঘের থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার বৃহস্পতিবার আজারবাইজান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
৪৪৯

শুধু বই পড়েই ডাক্তার হওয়া যায় না: অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ মার্চ ২০১৯  

অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ একজন খ্যাতিমান চিকিৎসক । সম্প্রতি তিনি অবসরে গেছেন। তবে তিনি আরও এক বছর পিআরএলে আছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর প্রিয় প্রতিষ্ঠান। এখানকার কাজের সুযোগ যেমন শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদান, পরীক্ষা নেওয়া ইত্যাদি তিনি চালিয়ে যেতে পারবেন। তিনি একজন লেখকও। ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ মেডিসিন বিষয়ে ৬টি বই লিখেছেন, যা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বহির্বিশ্বের অনেক দেশের ছাত্রছাত্রী ও চিকিৎসকের কাছে সমাদৃত এবং গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। তিনি সাবেক ডিন, মেডিসিন অনুষদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। সম্প্রতি আলাপচারিতায় নেওয়া তাঁর সাক্ষাৎকারভিত্তিক বক্তব্যের চুম্বক অংশ এখানে তুলে ধরা হল।

প্রশ্ন : চিকিৎসাজগতে আপনি একজন খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব। চিকিৎসা বিষয়ে প্রায়ই চমকপদ্র কথা বলে থাকেন। যেমন, একাধিকবার বলেছেন শুধু বই পড়ে প্রথিতযশা ডাক্তার হওয়া যায় না। ব্যাখ্যা করবেন কী?

অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ : তরুণরা অনেক বড় স্বপ্ন নিয়ে মেডিকেলের আঙিনায় পা রাখেন। যারা সবে শুরু করছেন, তারা মনে রাখবেন, এখানে সচেতনতা ও সততার কোনো বিকল্প নেই। আপনাকে প্রথম থেকেই ভালোভাবে পড়াশোনা এবং কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। মনে রাখতে হবে, আপনাকে রোগী দেখতে হবে। আমি যখন মেডিকেল জীবনে প্রথম ওয়ার্ডে ঢুকি তখন এক শিক্ষক-ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের দেখিয়ে বলেছিলেন, ‘এরা কারা চেন?’ আমরা উত্তরে বললাম ‘রোগী’। তিনি বললেন, এরা শুধু রোগী নয়, এরাই তোমার প্র্যাকটিকাল লার্নিং মেটেরিয়াল বা হাতে-কলমে শিক্ষার উপকরণ। তাদের দ্বারাই তোমাদের শিক্ষা অর্জন করতে হবে। সুতরাং তাদের সঙ্গে কখনো খারাপ আচরণ করো না। তারা যেন তোমার কাছ থেকে কোনো কষ্ট না পায়। তুমি যত বড় ডাক্তার হও না কেন, তাদের মাধ্যমেই তোমাকে হাতে-কলমে শিখতে হবে। আমি বলব, যারা নবীন তারা মনে রাখবেন, শুধু বই পড়ে ডাক্তার হওয়া যাবে না। যে কেউ বাজার থেকে বই কিনে পড়তে পারে, কিন্তু আপনাকে রোগীদের মাধ্যমেই প্রথিতযশা ডাক্তার হতে হবে। কেউ যদি মনে করে, বই পড়ব আর ভালো ডাক্তার হব, সে কোনো দিনই ভালো ডাক্তার হতে পারবে না।

প্রশ্ন : বিভিন্ন কারণে চিকিৎসকদের অনেকেই রাজনীতি বা অন্যভাবে জড়িয়ে পড়েন। আপনার মন্তব্য কী?

অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহ : মনে রাখতে হবে, আমি ডাক্তারি পেশায় ঢুকছি, এটাই আমার একমাত্র পেশা, অন্য কোনো পেশায় জড়িয়ে পড়া যাবে না। বিশেষ করে অনেকেই রাজনৈতিক কর্মকান্ড জড়িয়ে পড়েন। এটা কখনো করবেন না। মেডিকেল সায়েন্সে এটা একটা বড় বাধা। সবার ব্যক্তিস্বাধীনতা আছে এটা ঠিক, কিন্তু তার মানে এই নয়, আপনি অন্য কাজে সময় ব্যয় করে আপনার প্রফেশনের ক্ষতি করবেন, এটা যেন কেউ না করেন। আগে আপনাকে দক্ষ ডাক্তার হিসেবে তৈরি হতে হবে, তাহলে আপনি নিজে গর্বিত হবেন, আপনার বাবা-মা গর্বিত হবেন, দেশ তথা জনগণ উপকৃত হবে।

প্রশ্ন : চিকিৎসক হিসেবে নিজেকে নিয়ে আপনার মূল্যায়ন পাঠক জানতে চায়। বলুন তো শুনি।

অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহ : আমার শিক্ষার্থীরা দেশের প্রায় প্রতিটি মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে সফলতার সঙ্গে নিজ দায়িত্ব পালন করছে। অনেকেই বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের শিক্ষক হিসেবে আছে। যারা শুধু প্র্যাকটিসের মধ্যে আছে তারাও সম্মানের সঙ্গে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এটা আমার অনেক বড় অর্জন। নিজ হাতে ভালো কিছু শিক্ষক ও ডাক্তার তৈরি করা আমার লক্ষ্য ছিল। আমি পুরোপুরি এটা করতে না পারলেও অনেকাংশেই সফল। প্রায়ই একটা কথা বলি, আমি আমার যোগ্যতার চেয়েও বেশি পেয়েছি। আমি চাই, আমার শিক্ষার্থীসহ সব চিকিৎসক ভালো কাজ করুক। তারাও বিভিন্নভাবে সম্মানিত ও পুরস্কারে ভূষিত হোক।

আরেকটা পরামর্শ হলো, চিকিৎসকদের শুধু ভালো চিকিৎসক নয়, ভালো মানুষও হতে হবে। তাই জোর দিয়ে বলি, পুঁথিগত বিদ্যায় ভালো ডাক্তার হওয়া যায় না। আমি চিকিৎসক ও শিক্ষক হিসেবে সফল। আবার যেহেতু আমি মেডিসিনের প্রফেসর হিসেবে জেনারেল প্র্যাকটিস করি, রোগী নিয়ে ব্যস্ত থাকি, তাই রোগীদের সঙ্গে আমার তো তেমন কোনো দূরত্ব তৈরি হচ্ছে না। তাদের সেবা আমার ব্রত ছিল, আছে এবং থাকবে। আমি অবসরে যাচ্ছি বটে, তবে আমার কাজ তো আর থেমে থাকবে না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আমার প্রিয় প্রতিষ্ঠান। এখান থেকে আমি চলে গেলেও কাজের কোনো ঘাটতি হবে না। অন্য প্রফেশনের মানুষ পুরোপুরি অবসরে যেতে পারেন, কিন্তু ডাক্তাররা তা পারেন না। ডাক্তারদের কোনো অবসর নেই।

প্রশ্ন : চিকিৎসকদের কেউ কেউ বলে থাকেন যে, বর্তমানে বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবস্থা খুব ভালো নয়। আপনার পর্যবেক্ষণ…

অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহ : মানুষ এখন ডাক্তারদের ব্যাপারে নেতিবাচক চিন্তা করছে। এই নেতিবাচক চিন্তা থেকে ইতিবাচক অবস্থায় নিয়ে আসার দায়িত্ব ভবিষ্যৎ ডাক্তারদের ওপরই বর্তায়। তরুণ ডাক্তারদের এ দায়িত্ব নিতে হবে, সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে, রোগীদের প্রতি আন্তরিক হতে হবে। এটা আমার, আপনার, আমাদের সবার পরিবার ও দেশের জন্য মঙ্গলজনক। সবার কাছে এটাই আমার আকুল আবেদন। যদি আগামী প্রজন্মের চিকিৎসকদের মধ্য থেকে কেউ কেউ এই কর্মযজ্ঞকে এগিয়ে নিয়ে যান, নতুন জ্ঞান আর নতুন অভিজ্ঞতাকে এভাবেই ছড়িয়ে দেওয়ার মানসে প্রয়াস চালান, তবে সেটাই হবে আমার এত দিনের সাধনার চূড়ান্ত সাফল্য। বর্তমানে রোগী ও চিকিৎসকের মধ্যে একটা দূরত্ব ও আস্থাহীনতার ভাব সৃষ্টি হয়েছে। এটা কাটিয়ে উঠতে হবে। উভয়ের মধ্যে সম্পর্কটা বন্ধুভাবাপন্ন ও সহযোগিতামূলক হওয়া উচিত। আমি একটা কথা সবসময় বলি, কোনো এক জায়গায় যদি একজন ডাক্তার থাকেন, তাহলে রোগী তার কাছেই আসবে। যদি দুজন ডাক্তার হয়, তখন রোগী তুলনা করবে তাদের মধ্যে কে ভালো।

তিনজন হলে আরও তুলনা করবে। ডিগ্রি ও কোয়ালিটি এক হলেও কিন্তু রোগী সবার কাছে যায় না। আপনারা লক্ষ্য করে দেখবেন, কেউ কেউ রোগী পায় না আবার কারও কারও কাছে লম্বা লাইন, রোগীরা সিরিয়াল পাচ্ছে না। এর কারণ হলো, আস্থা ও বিশ্বাস। মেডিকেল প্রফেশনটা অন্য প্রফেশনের চেয়ে একটু আলাদা। যারা আসতে চান তাদের আমি স্বাগত জানাচ্ছি। তবে আপনাকে অনেক কষ্ট করার মানসিকতা রাখতে হবে। প্রচুর পড়াশোনা করতে হবে। ভালো মানুষ ও ভালো ডাক্তার উভয়ের গুণাবলি অর্জন করতে হবে। যেমন রোগীর সঙ্গে ভালোভাবে কথা বলা, রোগীর কথাগুলো ঠিকমতো শোনা, ভালো আচরণ করা, ওষুধ ভেবেচিন্তে দেওয়া, পরীক্ষা-নিরীক্ষা অপ্রয়োজনে না দেওয়া। ভবিষ্যতে যারা এ পেশায় আসতে চান, তাদের চিন্তা-চেতনায় এ বিষয়গুলো থাকতে হবে। তাহলে আপনারা অবশ্যই সফল হবেন, ইনশাল্লাহ্

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা
এই বিভাগের আরো খবর