• সোমবার   ৩০ মার্চ ২০২০ ||

  • চৈত্র ১৬ ১৪২৬

  • || ০৫ শা'বান ১৪৪১

আজকের খুলনা
সর্বশেষ:
চট্টগ্রামে ৭২ ঘণ্টায় ৩০ নমুনা সংগ্রহ, মেলেনি করোনার লক্ষণ করোনা নিয়ে গুজব ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা: আইজিপি অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বেনাপোল সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করোনা প্রতিরোধে সারাদেশে কাজ করছে সেনাবাহিনী সবকিছু নিয়ে সরকার জনগণের পাশে আছে : প্রধানমন্ত্রী
২২০

শীতের পিঠার ঘ্রাণ বাঙালির শেকড়ের ঐতিহ্য

আজকের খুলনা

প্রকাশিত: ২২ ডিসেম্বর ২০১৯  

বাংলার চিরায়ত লোকজ খাদ্য সংস্কৃতিতে পিঠা বিশেষ স্থান দখল করে আছে। শীতের পিঠাপুলি বাঙালীর আদি খাদ্য সংস্কৃতির একটা বিশেষ অংশ। আর তাই শীতকালে প্রতিবছর দেশজুড়ে পিঠা তৈরির উৎসব সকলের চোখে পড়ে। বিশেষ করে বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের প্রায় প্রত্যেক বাড়ি বাড়ি পিঠা বানানোর ধুম পড়ে যায়। এমনই দৃশ্য লক্ষ্য করা যায় খুলনার কয়রা উপজেলায়। কুয়াশাচ্ছন্ন ভোর বা সন্ধ্যায় গাঁয়ের বধূরা চুলার পাশে বসে পিঠা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করেন। গ্রমাঞ্চলে অতিথি বিশেষ করে মেয়ে জামাইদের দাওয়াত করে পিঠা খাওয়ান গৃহস্থরা।দেশের প্রায় প্রত্যেক গ্রামাঞ্চলেই এ রেওয়াজ প্রচলিত।

বাংলাদেশের একেক অঞ্চলে রয়েছে একেক রকম পিঠা। দেশের উত্তরাঞ্চলে পিঠার যে ধরন, তার থেকে আলাদা ধরনের মধ্যাঞ্চলের পিঠা। দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের পিঠা কিংবা পূর্বাঞ্চলের পিঠার মধ্যেও রয়েছে আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য। আবার একই পিঠা একেক এলাকায় একেক নামে পরিচিত। যেমন তেলের পিঠাকে উত্তরবঙ্গের অনেক এলাকায় বলে (পাকান পিঠা)। বাংলাদেশে শতাধিক বা তার বেশি রকমের পিঠা থাকলেও মোটামুটি ২৫/৩০ ধরনের পিঠার প্রচলন রয়েছে : ভাপা পিঠা, নকশি পিঠা, চিতই পিঠা, রস পিঠা, ইলশে পিঠা, ডিম চিতই, পাটিসাপটা, পাকান, মুঠি পিঠা, জামদানি পিঠা, হাঁড়ি পিঠা, চাপড়ি পিঠা, পাতা পিঠা, চাঁদ পাকান, সুন্দরী পাকান, পুলি, পানতোয়া, মালপোয়া, মেরা পিঠা, মালাই, কুশলি, ক্ষীরকুলি, গোলাপ ফুল, লবঙ্গ লতিকা, ঝালপোয়া, ঝুরি, ঝিনুক, সূর্যমুখী, নারকেলি, সিদ্ধপুলি, ভাজা পুলি ও দুধরাজ।

চালের গুঁড়া, নারকেল, খেজুরের গুড় দিয়ে বানানো হয় ভাপা পিঠা। গোল আকারের এ পিঠা পাতলা কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে ঢাকনা দেয়া হাঁড়ির ফুটন্ত পানিতে ভাপ দিয়ে তৈরি করা হয়। এ কারণেই এর নাম ভাপা পিঠা। গুড় গোলানো চালের আটা তেলে ছেড়ে দিয়ে যে পিঠা তৈরি করা হয়, তার নাম তেলের পিঠা। চালের গুঁড়া পানিতে গুলিয়ে মাটির হাঁড়িতে ভাজা হয় চিতই পিঠা। অতি সাধারণ এই পিঠা গুড় বা ঝাল শুঁটকি ভর্তা দিয়ে খেতে খুবই মজা। এই চিতই পিঠাকেই সারারাত দুধে বা গুড়ের রসে ভিজিয়ে তৈরি দুধ চিতই বা রস পিঠা। আরেকটি চমৎকার পিঠা হলো নকশি পিঠা। এই পিঠার গায়ে বিভিন্ন ধরনের নকশি আঁকা হয় বা ছাঁচে ফেলে পিঠাকে নানা রকম আদলে তৈরি করা হয় বলেই এই পিঠার নাম নকশি পিঠা। ছাঁচগুলো সাধারণত পাথর, কাঠ বা ধাতু দিয়ে তৈরি হয়। এসব ছাঁচের ভেতর দিকে নক্সা আঁকা থাকে। রস পাকান তৈরি হয় শুকনো সুজি, ডিম আর চিনি দিয়ে। সারাদেশেই পুলি পিঠা বেশ জনপ্রিয়। গুড় দিয়ে তৈরি হালকা বাদামি অথবা চিনির তৈরি সাদা রঙের পাটি সাপটা আরেকটি সুস্বাদু পিঠা। শীতকালে বিভিন্ন ধরনের পিঠার সঙ্গে পায়েশ ও ক্ষীরেরও রয়েছে অন্যরকম আবেদন।

গ্রামাঞ্চলে শীতের পিঠা তৈরিকে যেমন উৎসব হিসেবে গণ্য করা হয় সে তুলনায় শহরে পিঠাপুলির ব্যবহার খুব কমই চোখে পড়ে । সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আয়োজিত শীতের পিঠা উৎসব শহুরে জীবনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে ।

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা
খুলনা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর