আজকের খুলনা
ব্রেকিং:
রাঙামাটিতে জেএসএস কর্মীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার পাকিস্তান সফরে টাইগারদের সাথে যাচ্ছেন পাপনও শিশু ধর্ষণ মামলায় মৃত্যুদণ্ড দিতে হাইকোর্টের রুল আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ইজতেমার ২য় পর্ব মৌলভীবাজারে একই পরিবারের তিন জনসহ পাঁচ জনকে কুপিয়ে হত্যা টেকনাফে বিজিবি`র সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে রোহিঙ্গা নিহত, অস্ত্র-মাদক উদ্ধার

সোমবার   ২০ জানুয়ারি ২০২০   মাঘ ৬ ১৪২৬   ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

আজকের খুলনা
সর্বশেষ:
সাতছড়ি উদ্যানে কলেজছাত্রীকে গণধর্ষণ, আসামি গ্রেপ্তার এবার হজে যেতে বিমান ভাড়া এক লাখ ৪০ হাজার টাকা মিজান-বাছিরের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট দাখিল ফরিদপুরে আগুনে পুড়ে মা-মেয়ের মৃত্যু
২৫২২

লন্ডনে দেশের কথা শুনে চোখ ভিজে যায় বঙ্গবন্ধুর

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৯ জানুয়ারি ২০২০  

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও প্রবাসী সাংবাদিকের সঙ্গে দিনভর সাক্ষাৎ আর দলের নেতাকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে দেশের খবর নিয়ে লন্ডন থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭২ সালের ৯ জানুয়ারি তার আশেপাশে যারা ছিলেন তারা বলছেন, যতবারই তিনি দেশের মানুষের কথা শুনেছেন, দেশে ঘটে যাওয়া নিপীড়নের কথা শুনেছেন, তার চোখ ভিজে এসেছে। তিনি দেশে ফেরার জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়েন। যতটা সময় তিনি লন্ডনে ছিলেন ততক্ষণই তার হোটেলের সামনে হাজারও বাংলাদেশি শীত উপেক্ষা করে দাঁড়িয়ে ছিলেন বঙ্গবন্ধুকে এক পলক দেখার জন্য। লন্ডনের ক্লারিজ হোটেলের বাইরে তখন কেবল ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানের ধ্বনি। এইদিন লন্ডনে হোটেলে আসেন তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিথ, বিভিন্ন রাষ্ট্রদূতসহ বাংলাদেশের কয়েকজন নেতা। বঙ্গবন্ধু নয়াদিল্লি হয়ে দেশে ফিরবেন−ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে দীর্ঘ ফোনালাপে তা নির্ধারিত হয় বলে জানান ভারতীয় কূটনীতিক শশাঙ্ক শেখর ব্যানার্জি। আর দেশে তখন চলছে বঙ্গবন্ধুকে বরণের প্রস্তুতি। ১০ জানুয়ারি বেলা ৩টায় তার ঢাকায় ফেরার কথা।

সে সময় লন্ডনে ছিলেন বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। লন্ডনের দিনটি বঙ্গবন্ধুর ব্যস্ত কেটেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ১৫ থেকে ২০ জন হোটেলে ঢোকার সুযোগ পেয়েছিলাম। প্রথমে অবাক হলাম, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিথ হোটেলে চলে এলেন। সেটি স্পষ্টতই ইংল্যান্ডের প্রটোকলের বিচ্যুতি। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তৃতীয় বিশ্বের নেতাকে দেখতে হোটেলে চলে আসবেন এটা অতীতে ঘটেনি, ভবিষ্যতেও ঘটবে না−এটা বঙ্গবন্ধু বলেই সম্ভব হয়েছে। হ্যারল উইলশন সে সময়ের বিরোধী দলের নেতা, তিনিও এলেন। হাউস অব কমন্স ও লর্ডস-এর অনেকে চলে এলেন। এ দৃশ্যগুলো দেখে আমি অবাক হয়েছি। কারণ বাংলাদেশ তখন স্বীকৃত রাষ্ট্রও নয়।’

তিনি বলেন, ‘মুহূর্তে খবর রটে গেলো বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা এখন লন্ডনে। এ খবর পাওয়ার পরে অন্যান্য শহর থেকে লোকজন এসে জমায়েত হতে থাকলো। এমন পরিস্থিতি যে, রাস্তা বন্ধ হয়ে এলো, পুলিশও নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিল না। চারদিকে স্লোগান ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।’ সকলের চোখে আনন্দাশ্রু। বঙ্গবন্ধু ফিরে এসেছেন এই আনন্দে। আর বঙ্গবন্ধু হোটেল কক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে জানালায় দেখা দেন। একপর্যায়ে সংবাদ সম্মেলনও করলেন। কী অবস্থায় আছে দেশ তিনি ততক্ষণে জানতে পেরেছেন।’ সেখানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, অর্থনীতি গড়াটা কঠিন কাজ হবে। যারা যুদ্ধ অপরাধ করেছে তাদের বিচারের আওতায় আনার কথা ভাবছেন সেটিও বলেন সেদিন। পাকিস্তানের মদতপুষ্ট যে আল বদর, রাজাকার তাদের ছেড়ে দেওয়া যাবে না। যখনই কথা বলছিলেন, দেশের মানুষের নিপীড়নের কথা জানছিলেন−তার চোখে পানি আসছিল।

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা
এই বিভাগের আরো খবর