আজকের খুলনা

রোববার   ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৭ ১৪২৬   ২২ মুহররম ১৪৪১

আজকের খুলনা
১৬

রূপসায় পানিতে মাছ বেড়িতে শসা, কয়েক হাজার কৃষকের মুখে হাসি

রূপসা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

ঘেরের পানিতে মাছ আর বেড়িতে শসা চাষ করে হাসি ফুঁটেছে রূপসা উপজেলার কয়েক হাজার চাষীর মুখে। অনেকে রাস্তার পার্শ্ববর্তী পরিত্যাক্ত জায়গায়ও এর চাষ করছেন। এসব শসা স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে ট্রাক যোগে পাঠানো হচ্ছে ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে।

উপজেলা কৃষি অফিসের জরিপ মোতাবেক উপজেলার তিলক, সামন্তসেনা, খাঁজাডাঙ্গা, গোয়াড়া, শিয়ালি, ঘাটভোগ, ডোবা, পিঠাভোগ, আনন্দনগর, বাধাল ও ডোমরা গ্রামের চিংড়ি ঘেরের পাড়ের ৪শ হেক্টর জমিতে গড়ে উঠেছে শসার আবাদ। কয়েক হাজার মৎস্য চাষী করছেন এর চাষাবাদ। ঘেরের পাড়ের শসার আবাদ দেখে উৎসাহিত হয়ে অনেকে রাস্তার পাশের পরিত্যাক্ত জমিতে শসার চাষ করছেন। কৃষি অফিসের তথ্যমতে প্রতি হেক্টর জমিতে ফলনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ মেট্রিকটন। সে মোতাবেক ভরা মৌসুমে ফলনও পাচ্ছেন ভালো আবাদকারীরা। প্রতি সপ্তাহে এসব এলাকায় ৮ মেট্রিক টন শসা উৎপাদন হচ্ছে। প্রতিদিন যার গড় উৎপাদন দাঁড়ায় ১.১৪২ মেট্রিকটন।

চাষাবাদে যাতে কোন প্রকার ব্যাঘাত না ঘটে তার জন্য উপজেলা কৃষি অফিসারের সার্বিক তত্বাবধানে প্রতিটি ব্লকের সুপারভাইজাররা দেখভাল করে চলেছেন প্রতিনিয়িত। যে কারণে এলাকার অনেক বেকার যুবক ঘেরের পানিতে মাছ আর বেড়িতে শসাসহ সবজি চাষ করে নিজের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন।

ডোবা গ্রামের শ্যামল মল্লিক বলেন, এক সময় এ অঞ্চলের অধিকাংশ জমি ছিলো অনাবাদি। তেমন কোন ফসল হতো না এসব জমিতে। দারিদ্রতার কষাঘাতে জর্জরিত ছিলো গ্রামের অধিকসংখ্যক মানুষ। এমতাবস্থায় কিছু কিছু জমিতে চিংড়ি চাষ শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যে ঘেরের সংখ্যা বাড়তে থাকে। সেই অনাবাদি জমি এখন সোনার মাটিতে পরিণত হয়ে উঠেছে। একই জমিতে আমরা মাছ ও সবজি চাষ করে ভালো ফলন পাচ্ছি। এসব কাজে কৃষি অফিসের রয়েছে ব্যাপক সহযোগতিা। যে কোন সুবিধা-অসুবিধা জানানোর সাথে সাথে পরামর্শ দিয়ে থাকেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

একই গ্রামের অতুল মল্লিক বলেন, ঘেরের পাড়ে শসা চাষ করে আমরা বাড়তি রোজগার করছি। এসব শসা বিক্রি করা নিয়েও আমাদের ভাবতে হয়না। এলাকার রাস্তা-ঘাটের উন্নয়নের ফলে গ্রামের মধ্যে চলে আসছে ট্রাকসহ পাইকারী ক্রেতারা। স্থানীয় বাজারের পাইকারী ক্রেতারা শসা নিয়ে যাওয়ার পর যা থাকে তা ওই সব ট্রাক বোঝাই করে চলে যাচ্ছে ঢাকাসহ অন্যান্য শহরে। বিগত বছরের চেয়ে আমরা উৎপাদন ও দাম দু’টোই ভালো পাচ্ছি। কৃষি অফিসারকে খবর দিলে ঘেরে বসে তাকে পাচ্ছি। আর ব্লক সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্বরত উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা’তো সার্বক্ষনিক আমাদের খোঁজ-খবর রাখছেন।

কলেজ ছাত্র প্রনব মালী বলেন, লেখা-পড়া শেষ করে বাবার ঘেরের কাজে সহযোগীতা করছি। কৃষি অফিসের সার্বিক তত্বাবধানে প্রতিটি ঘেরের পাড়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ শসার ফলন হচ্ছে। শুধু ঘেরের পাড়ে নয়, অনেকে রাস্তার পাশের পরিত্যাক্ত জমিতেও শসা চাষ করে ভালো ফলন পাচ্ছে।

উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা রাজেদ আলী বলেন, এখানকার প্রতিটি চিংড়ি ঘের একটা সবজির ক্ষেত। এখন শসার চাষ হচ্ছে। শসা শেষ হওয়ার সাথে সাথে শীতকালীন সবজির চাষ হবে। কোন ঘেরের পাড় বা আইল এখন আর পড়ে থাকেনা। চাষীদের উৎসাহিত করতে আমরা সার্বক্ষনিক তদারকি করে চলেছি। কোন ক্ষেতে রোগ দেখা দিলে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নিচ্ছি।

কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ফরিদুজ্জামান বলেন, চিংড়ি ঘেরের পাড়ে শসাসহ সবজি চাষ করে এ এলাকায় কৃষি বিপ্লব ঘটেছে। এলাকার অর্থনৈতিক অবস্থাও চাঙ্গা হয়েছে। এখানকার মানুষ খুবই পরিশ্রমি ও ধৈর্যশীল। যে কারণে এটি সম্ভব হয়েছে। চাষীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, সার-বীজ ও পরামর্শ দিয়ে সার্বক্ষনিক সহায়তা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, শুধু ঘেরের পাড়ে নয়, প্রতিটি গ্রামের পরিত্যাক্ত জমিতে আগামীতে যাতে আরো কৃষি খামার গড়ে ওঠে সে ব্যাপারে প্রচারণাও চালানো হচ্ছে।

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা
এই বিভাগের আরো খবর