আজকের খুলনা
ব্রেকিং:
ক্ষমা চাইলেন দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদক উত্তর বাড্ডার ফোম কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে বঙ্গবন্ধু বিপিএল :১৮১ রানের লক্ষ্যে ব্যাটে নেমে ৩৬ রানেই ২ উকেটের পতন কুমিল্লার. (৩.১ ওভার) চাঁদাবাজ-ভূমিদস্যূ হাসু কাসু বাহিনীর মূল হোতা হাসেমকে অস্ত্র-ইয়াবাসহ আটক করেছে র‌্যাব যুক্তরাজ্যে নির্বাচন : জয় পেলেন বঙ্গবন্ধুর নাতনি টিউলিপ, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুপা, রুশনারা ও আফসানা বরিশালে পাঁচ বস্তা গাঁজাসহ নারী আটক কক্সবাজারে ৮ লাখ ইয়াবা ও ছয়টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ আটক ৪

শনিবার   ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৩০ ১৪২৬   ১৬ রবিউস সানি ১৪৪১

আজকের খুলনা
সর্বশেষ:
সিলেটে বিএনপির ৫৮ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা টেকনাফে ৮ লাখ ইয়াবা-অস্ত্রসহ ৪ ব্যবসায়ী আটক কুমিল্লার কোটবাড়ীতে স্কুলের ছাত্রাবাস থেকে এক ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার নোয়াখালীতে বাসচাপায় এক মাদ্রাসা ছাত্রী নিহত ধামরাইয়ে প্রাইভেট কার চাপায় মোটর সাইকেল আরোহী নিহত টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে নতুন ৯ বিচারপতির শ্রদ্ধা পাটুরিয়া ঘাটে যানবাহনের দীর্ঘ সারি এবার মেঘালয়ে কারফিউ, বন্ধ মোবাইল-ইন্টারনেট রোহিঙ্গা গণহত্যা ইস্যুতে সিদ্ধান্ত শিগগিরই : আইসিজে প্রেসিডেন্ট
৫১

মুক্তিযুদ্ধ প্রতিদিন : ২ ডিসেম্বর ১৯৭১

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত ২ : ২০ এএম

প্রকাশিত: ২ ডিসেম্বর ২০১৯  

এদিন মুক্তির সংগ্রামে উত্তাল ছিল বাংলার মাটি; বিজয় দ্বারপ্রান্তে। পাকবাহিনী পিছু হটছে। এদিনে মুক্তিবাহিনী ঘোড়াশালে পাকবাহিনীর অবস্থানের ওপর চারদিক থেকে আক্রমণ করে ২৭ পাক হানাদারকে হত্যা করতে সক্ষম হয়। এখান থেকে বেশ কিছু গোলাবারুদ উদ্ধার করে মুক্তিবাহিনী। এদিকে, আজমপুর রেলওয়ে স্টেশন মুক্তিবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এলেও পাকবাহিনী তাদের বিপর্যস্ত অবস্থা কাটিয়ে উঠে মুক্তিবাহিনীর ওপর পাল্টা আক্রমণ করে। এই আক্রমণে মুক্তিবাহিনী পুনরায় তাঁদের অবস্থান সুদৃঢ় করে তিন দিক থেকে শত্রুকে আক্রমণ করলে পাকবাহিনী আজমপুর রেলওয়ে স্টেশন ছেড়ে পালিয়ে যায়।এদিকে, চট্টগ্রামে মুক্তিবাহিনীর গেরিলারা উত্তরে ফটিকছড়ি ও রাউজান থানা এবং দক্ষিণে আনোয়ারার অধিকাংশ স্থান তাঁদের দখলে আনতে সক্ষম হয়।পাক কমান্ডার মোছলেহ উদ্দিন ভালুকা থেকে একদল রাজাকারকে সঙ্গে নিয়ে কাঁঠালি গ্রামে লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগ করতে এলে মুক্তিবাহিনীর সেকশন কামান্ডার গিয়াসউদ্দিন এবং ৩ নম্বর সেকশন কমান্ডার আবদুল ওয়াহেদের নেতৃত্বে পরিচালিত অতর্কিত আক্রমণে ৩ পাক হানাদার এবং ৭ জন রাজাকার নিহত হয় এবং ৭ জন পাক সৈন্য আহত হয়। পরে পাক হানাদাররা মৃতদেহগুলো নিয়ে পালিয়ে যায়।

শত্রুপক্ষ বুঝতে পারে, মুক্তিযোদ্ধাদের আর ঠেকিয়ে রাখা যাবে না। পরাজয় নিশ্চিত জেনে মরণকামড় দিতে শুরু করে দখলদার বাহিনী। নবেম্বরের শেষ সপ্তাহের দিকেই পাকিসত্মান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান জেনারেল নিয়াজী তাঁর রাজাকার, আলবদর ও সেনাবাহিনীকে দেশের চারদিকে ছড়িয়ে দেয় নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ চালাতে। কিন্তু এদিনে গেরিলা আক্রমণ থেকে সম্মুখযুদ্ধের গতি বাড়ে। অপ্রতিরোধ্য বাঙালীর বিজয়রথে পাকবাহিনীর নিষ্ঠুর সব পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে থাকে।

প্রবাসী সরকার অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায়, বাংলাদেশের বিজয় আসন্ন। স্বাধীন বাংলা বেতার থেকে প্রতিদিন মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয়ের খবর প্রচারিত হতে থাকে। রেডিওতে বাজে জয়ের গান। রাজধানী ঢাকায় গেরিলাযোদ্ধারা একের পর এক গুঁড়িয়ে দিচ্ছেন দখলদারদের আস্তানা।

পরিস্থিতির বিবরণ দিয়ে ২ ডিসেম্বর ঢাকা থেকে বিবিসিতে সবিস্তারে রিপোর্ট পাঠিয়েছিলেন সংবাদদাতা নিজামউদ্দিন আহমদ। বিগত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার পাঁচটি স্থানে বোমা বিস্ফোরণের খবর তিনি জানিয়েছিলেন। রামপুরা ও মালিবাগে বিস্ফোরণে বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সংবাদ তিনি জানান। খবরে আরো প্রকাশ, জামায়াতে ইসলামীর নেতা গোলাম আযম অদূর ভবিষ্যতে পাকিস্তানে জাতীয় সরকার গঠনের ইঙ্গিত দিয়ে দাবি করেছেন সেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী, অর্থ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী যেন পূর্ব পাকিস্তান থেকে মনোনীত করা হয়। তার মতে, তবেই নাকি প্রদেশের মানুষের আস্থা ফিরে পাওয়া যাবে।

বাস্তবতা ছিল এক ধরনের, আর পাকিস্তান চলছিল আরেক পথে। পাকিস্তানি সামরিক চক্র জারি করেছিল জরুরি অবস্থা, জাতিসংঘে একের পর এক অভিযোগ দাখিল করছিল ভারতীয় আগ্রাসন সম্পর্কে।

গোলাম আযম গং বাঙালির রক্তনদী পেরিয়ে পাকিস্তানের জাতীয় সরকারের অংশীদার হওয়ার যে স্বপ্ন দেখছিলেন, তা একবারে ভিত্তিহীন ছিল না। কেননা, রক্তপিপাসু সমরতন্ত্র পাকিস্তানের জন্য তাদের নিজস্ব চিন্তাপ্রসূত একটি সংবিধান প্রণয়ন তখন প্রায় সম্পন্ন করে এনেছিল এবং ১৬ ডিসেম্বর বেতার ভাষণে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া এই সংবিধান জাতির প্রতি 'উপহার' দিয়ে গঠন করবেন জাতীয় সরকার এমনটা ছিল পরিকল্পনা। গোলাম আযম যখন পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ক্ষমতার অংশীদারিত্ব লাভের স্বপ্নে বিভোর, তখন বাংলাদেশ জুড়ে গেরিলাযোদ্ধা দল উপর্যুপরি আক্রমণে শক্রুকে নাস্তানাবুদ করে বহু ক্ষেত্রে তাদের বাধ্য করেছিল পিছু হটে যেতে।

সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা আগেই শত্রুমুক্ত হয়েছিল লে. জিয়াউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন মুক্তিবাহিনীর দ্বারা। ডিসেম্বরের শুরুতে দূরবর্তী বিভিন্ন অবস্থান যথা বসন্তপুর, কালীগঞ্জ, নাছিমগঞ্জ, পারুলিয়া প্রভৃতি এলাকা থেকে পাকিস্তানি সেনাদের পিছু হটিয়ে মুক্তিবাহিনী সাতক্ষীরার উপকণ্ঠে পৌঁছে যায়। রূপসা নদীর ওপারে খুলনার কাছে ঘাঁটি স্থাপন করে মুক্তিযোদ্ধাদের আরেক দল। দেশের গভীরতম স্থানেও যে মুক্তিবাহিনী ক্রমে শক্তি সঞ্চয় করে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছিল, তার পরিচয় নানা স্থান থেকে মিল ছিল। নাগরপুর থানা মুক্ত হওয়ার ফলে টাঙ্গাইলে আক্রমণ পরিচালনা হয়ে পড়ে অত্যাসন্ন। সিলেটে শমশের নগর বিমানবন্দরের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল মুক্তিযোদ্ধা দল।

বিবিসি, ভোয়া, আকাশবাণী অথবা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সংবাদে উচ্চারিত বিভিন্ন স্থানের নাম কোটি মানুষের বুকে জাগাত অন্যতর অনুভূতি। একেকটি জনপদ মুক্ত হয়ে আলোড়ন তুলত হাজারো জনপদবাসীর অন্তরে।

২ ডিসেম্বর সীমান্ত-সংঘাত আরো তীব্র হয়ে ওঠে। পাকিস্তান অভিযোগ করেছিল যে, সাতটি স্থানে ভারত যুদ্ধের ফ্রন্ট খুলেছে এবং তাদের প্রতিরক্ষা বূ্যহে আঘাত হেনেছে। ডিসেম্বরের প্রথম থেকেই ত্রিমুখী যুদ্ধের আশঙ্কা ক্রমেই প্রবল হয়ে উঠতে থাকে। এসব দেখেশুনে ভারত সরকার বুঝেছিল, পাকিসত্মান যুদ্ধ করবেই। ভারত তখন যে রাজনৈতিক সমাধানের চেষ্টা বা আশা একেবারে ছেড়ে দিয়েছে, তা নয়। কিন্তু রাজনৈতিক সমাধানের সঙ্গে সঙ্গে ভারত সামরিক প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছিল। পশ্চিমের প্রস্তুতি দেখে এবং নাশকতামূলক কাজের লোক ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারত মোটামুটি পরিষ্কার বুঝে ফেলে পাকিস্তান রাজনৈতিক সমাধানের দিকে যাবে না, বরং লড়াই-ই করবে। তাই তখন থেকে ভারতের প্রস্তুতিও জোরদার হয়েছিল।

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা
এই বিভাগের আরো খবর