আজকের খুলনা
ব্রেকিং:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেএমবির ৩ সদস্য আটক জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ দমনে অভিযান চালাবে এন্টি টেররিজম ইউনিট আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা মামলার শুনানি ১০ ডিসেম্বর ২ উইকেট হারালো ভারত : ১৩ ওভারে সংগ্রহ ৫১ রান মুন্সিগঞ্জের দুর্ঘটনায় আরও একজনের মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১ মাথায় আঘাত পাওয়া লিটন দাস কলকাতা টেস্টে আর খেলতে পারছেন না উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ, বখাটের লাথিতে মেয়ের বাবা নিহত কক্সবাজারে নিখোজ ছাত্রীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার

শুক্রবার   ২২ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৮ ১৪২৬   ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

আজকের খুলনা
সর্বশেষ:
আমার সন্তানের অধিকার ছাড়বনা : বিদিশা এরশাদ কুষ্টিয়ায় ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ডিগ্রি প্রথম বর্ষের পরীক্ষা শুরু ২৪ নভেম্বর ধর্মঘটের অজুহাতে চড়া সবজি-মাছের বাজার লন্ডনে সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রাণ গেল বাংলাদেশী যুবকের বরিশাল জেলা আদালতের সেরেস্তাদার সাময়িক বরখাস্ত দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ, বিপাকে দেশের ব্যাংক খাত
১৪

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্পের অবস্থান কি সঠিক?

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০১৯  

উত্তর সিরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্য সরিয়ে নিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মাধ্যমে তার প্রশাসন যে মধ্যপ্রাচ্যে দুটি জাতিগত রাষ্ট্রের স্বার্থ স্বীকৃতি দেয়, তার ইঙ্গিত পাওয়া গেল। কার্যত ইরান ও ইসরাইলের নিরাপত্তার বিষয়টিই এখানে ফুটে উঠেছে।

এ ঘটনা ঘটার কিছু আগেই যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবে আরও অনেক বেশি সৈন্য পাঠিয়েছে। মনে রাখতে হবে সৌদি আরব ইরানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। সাম্প্রতিক কালে, ট্রাম্প বারবার বলে মুখে তুবড়ি ছুটিয়ে চলেছেন যে, তিনি ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি নিয়ে কাজ করবেনÑঅচিরেই কোনো ভালো পরিকল্পনা পেশ করবেন। কেননা এমন একটি উদ্যোগ ২০২০ সালের যুক্তরাষ্ট্রীয় প্রেসিডেনশিয়াল নির্বাচনী অভিযানে একটি ভালো ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে। ট্রাম্পকে এখনই একটি সিদ্ধান্তে আসতে হবেÑসংসদীয় নির্বাচন-পরবর্তী একটি নতুন ইসরাইলি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি তার প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করবেন কি না। ট্রাম্প তার জামাই জারিদ কুসনারকে একটি বিস্তারিত শান্তি পরিকল্পনা প্রণয়নের দায়িত্ব দিয়েছেন। এই উদ্যোগের ভেতর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার আগের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা থেকে বেরিয়ে এলো। এই প্রচেষ্টা সব সময়ই ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যকার শান্তিচুক্তির দর কষাকষির লক্ষ্যে কাজ করত। তবে সে দর কষাকষিতে যুক্তরাষ্ট্র নিজের খবরদারি নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা অব্যহত রাখত এবং এখনও রাখবে। এই নতুন কৌশলটি আদৌ খারাপ নয়, কেননা দেখে মনে হয়, উভয় পক্ষই নিজেরা নিজেদের মতো করে সামনে এগিয়ে যেতে সক্ষম নয়। ২০০৬ সালে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ গাজার ব্যালট বাক্স প্রত্যাখ্যান করেছিল। তখন তাদের বয়োবৃদ্ধ নেতারা এর নেতৃত্ব দিয়েছেন। তারা এই ভোটাভুটিকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলে প্রত্যাখ্যান করেন। আর এ কারণেই তারা যেকোনো সহযোগিতা পাওয়ার বৈধতা হারাল। এরই মধ্যে ইসরাইল ‘যেকোনো সরকার নেসেটে (ইসরাইলের পার্লামেন্ট) এমন কোনো শান্তি প্রস্তাব উত্থাপন করতে পারবে না, যা উভয়ের কাছে গৃহীত হয়’ এমন সিদ্ধান্ত থেকে অনেক দূর সরে যায়। এ তত্ত্বে যেকোনো প্রভুত্বকারী মোড়লি করার সুযোগ পায়। তবে বর্তমানে কুসনারের ওপর যে দায়িত্ব চাপানো হয়েছে, তা বিশেষ সুবিধা লাভ করবে, কেননা কুসনার ব্যক্তিগতভাবেই ইসরাইলের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। তবে এই সুবিদাটি স্ববিরোধী বলেও মনে হতে পারে। ইতিহাস বলে, যারা ভূ-রাজনীতির সম্মুখ লড়াইয়ে একবার জয়লাভ করে, তারা কখনোই সেই ভূমির ফল-ফসল খাওয়ার লোভ নিজ ইচ্ছায় ত্যাগ করতে পারে না। ইসরাইল শিল্পবিপ্লব-পরবর্তী অর্থনীতিতে আঞ্চলিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। তাদের রয়েছে পারমাণবিক শক্তি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের রয়েছে একাট্টা জোটবদ্ধতা। ফলে যুক্তরাষ্ট্র যে শান্তি পরিকল্পনা চালাবে, তা নিঃসন্দেহে ইসরাইলের প্রতিদ্বন্দ্বী ফিলিস্তিনের দুর্বলতাকেই প্রত্যাশা করে এবং তার জন্য যেকোনো সিদ্ধান্তই তারা চাপিয়ে দেবে, এটা পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়। ক্ষমতার এই ভারসাম্যহীনতা এমন প্রকট যে, ইসরাইল-ফিলিস্তিনি কোনো শান্তি কাঠামোতেই তার প্রভাব প্রতিফলিত না হয়ে পারবে না। এমনকি কোনো বাইরের শক্তি, হোক তা দেশ দুটোর অভ্যন্তরীণ কোনো দল, কিংবা ইউরোপ ও আরবের কোনো সরকারÑএই জোটবদ্ধতাকে দোলাতে পারবে না। ইউরোপিয়ানরা এ ব্যাপারে বিভক্ত। তাছাড়া আরবের উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো কার্যত ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলকে ব্যাপক সমর্থন জুগিয়ে চলেছে।

ইসরাইল তাই এই দ্বন্দ্ব মিটমাটের চাবিকাঠি নিজ হাতে নিতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু এর অর্থ দাঁড়ায়, রাজধানী থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে কোনো বিদেশি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়টি যেন ইসরাইলি জনগণকে মেনে নেওয়ার বিষয়টি বুঝিয়ে দেওয়া। এই বিদেশি রাষ্ট্র শত্রুও হতে পারে। এই বিচার-বিবেচনাগুলোর মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন যে ইসরাইলকে নানা ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা করে আসছে, সেটা ইসরাইলকে বোঝানো সহজ হয়। এর সঙ্গে তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস স্থানান্তরের বিষয়টিও উঠে আসে। একই সঙ্গে ইসরাইলের গোলহান হাইটস আত্মসাতের বিষয়টিতে যে যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃতি দিয়েছে, তা স্মরণে রাখতে হবে। কুশনারের লক্ষ্য হলো, শান্তি প্রস্তাব পেশ করার টেবিলেই ইসরাইলকে বুঝিয়ে দেওয়া যে, তারা ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর আস্থা রাখতে পারে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর চেয়ে ইসরাইলি জনগণের কাছে ট্রাম্প যতটুকু বেশি প্রিয়, যুক্তরাষ্ট্র পরিষ্কারভাবে ঠিক ততখানি নিজ স্বার্থে কাজ করে যাবে। কুশনারের পরিকল্পনা এ মুহূর্তে প্রস্তুত রয়েছে। কয়েক মিনিট আগেই তিনি আমাকে বলেছেন, তার এই পরিকল্পনা ৫০ পৃষ্ঠার। কুশনারের পরিকল্পনাটির গোপনীয়তা খুব শক্তহাতে সংরক্ষিত, হয়তোবা তা ইসরাইল এখানে নাগাল পাবে না। যুক্তরাষ্ট্র হয়তো ফিলিস্তিনিদের একটি শক্তিশালী স্বায়ত্তশাসন অধিকার প্রস্তাব করবে, কিন্তু রাষ্ট্রীয় মান দেবে না এবং পশ্চিম তীর অবধি ইসরাইলি বসতি থামিয়ে রাখার ক্ষমতা দেবে। তাহলে কি কুশনারের এই প্রস্তাব পুরোপুরি ব্যর্থ হবে? আসলে যুক্তি-তর্কের খাতিরে এটা হবে একটি নিরাপদ বাজি। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের গত ২০ বছরের সব রাষ্ট্রনায়কের এ অঞ্চলের শান্তি কার্যক্রমের অসারতা প্রমাণিত হবে। কিন্তু আমরা কোনো সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দিতে পারি না। গত জুনের দিকেও আমাদের তাকাতে হবে। এ সময় আরেকটি প্রস্তাবনার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন পশ্চিম তীর ও গাজায় ব্যাপক অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিকল্পনার কথা উত্থাপন করে। এই পরিকল্পনায় ১০ বছরের মধ্যে তারা এখানে ৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে চেয়েছে। ভয়ানক আর্থিক সংকটে যেসব জনগণ রয়েছে, তাদের কাছ থেকে এই প্রস্তাবনার ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাবে। উপরন্তু, পশ্চিম তীরে সকাল ৫টা থেকে মধ্যরাত অবধি ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। একটি টেকসই ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে গেলে আঞ্চলিক আপস-মীমাংসার প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণ যদি চলতেই থাকে, তবে সে কাজটি বড় কঠিন হয়ে পড়বে। এ অবস্থায় ফিলিস্তিনি জনগণের সামনে দুটি পথ খোলা রয়েছেÑহয় তাদের অসন্তোষজনক আপসে আসতে হবে, আর নয়তো নিজেদের নিয়ত ক্ষতিটাকে মেনে নিতে হবে। সম্ভবত তারা এই সিদ্ধান্তে আসবে যে, তারা যে চুক্তিতেই আসুক না কেন তার প্রথম পদক্ষেপটাই যেন মঙ্গলজনক হয়। কমপক্ষে এটা বলা যায়, এই হিসাবটাই কষছেন কুশনার, কেননা কুশনার বারবার একটি কথাই বলে যাচ্ছেনÑতারা ফিলিস্তিনিদের জন্য এমন ভালো কিছু করতে যাচ্ছেন, যা তারাও নিজেদের জন্য আগে কখনও ভাবেননি। একই সঙ্গে উভয়ই পক্ষই যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে না। এটা হবে তাদের জন্য একটি স্বস্তি। ফিলিস্তিনিদের ভয় হলো তাতে করে একটি আধা-ইসরাইলি স্বৈরাচারী শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হবে। আর ইসরাইলিরা জানে ট্রাম্প এই শান্তি প্রস্তাবে তাদের প্রতি বিশেষ ছাড় রেখে যে দাক্ষিণ্য দেখাবেন, তার প্রতিদান প্রত্যাশা করেন। মনে রাখতে হবে ট্রাম্পের রয়েছে কূটনৈতিক লেনদেনের একটি নির্ভেজাল প্রত্যয়। সর্বোপরি, বর্তমানে চলমান বিশ্বাস ও চর্চা কেবল ইসরাইলকেই সমর্থন দিয়ে আসছে। এ কারণে পশ্চিম তীরের নিজস্ব ভূমিতে যে ফিলিস্তিনিরা বাস করে, তাদের ইসরাইলি নাগরিক নাকি বিদেশি বলে সাব্যস্ত করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত ঝুলিয়ে রাখা হবে। উপরন্তু, যদি কোনো শান্তিচুক্তি হয়েই থাকে, আর সে চুক্তি যদি ফলপ্রসূ না হয়, তবে ইসরাইলের বিধ্বংসী সামরিক আঞ্চলিক শক্তিই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেÑএই সিদ্ধান্তে ইসরাইল তার শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখবে। সবকিছুই এখন ট্রাম্পের ওপর নির্ভর করছে, কেননা তিনি জনসম্মুখে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি অবশ্যই উভয় পক্ষের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তার জামাইকে পাঠাবেন। কিন্তু ট্রাম্প যে সিদ্ধান্তই নিক না কেন, আবার ২০২০ সালের প্রেসিডেনশিয়াল নির্বাচনে যে-ই জয়ী হোন না কেন, একটি বিষয় পরিষ্কার যে, ইসরাইল ও ফিলিস্তিনিরা কোনোভাবেই নিজেরা নিজেদের মধ্যে কোনো শান্তিচুক্তি করতে পারবে না। এমনকি ইসরাইলের সবচেয়ে বড় যুক্তরাষ্ট্রীয় সমর্থকেরাও এ বিষয়ে একমত হবেন। এই দ্বন্দ্বের মধ্যস্থতা করতে পরবর্তী যেকোনো প্রচেষ্টায় অবশ্যই এই বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে সামনে এগোতে হবে। ট্রাম্পের আগের যত প্রেসিডেন্ট ইসরাইল-ফিলিস্তিন শান্তিচুক্তিতে যেভাবে ব্যর্থ হয়েছেন, ট্রাম্পের প্রচেষ্টাও আসলে সেভাবেই মুখ থুবড়ে পড়বে। কিন্তু দুটি পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা করার মতো দালালি না করে ট্রাম্প এখানে একটি চুক্তি প্রস্তাব করার ভেতর দিয়ে নতুন দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করতে যাচ্ছেন। এটা তার আগের কোনো প্রেসিডেন্ট করেননি, আবার পরবর্তী প্রেসিডেন্টের জন্য তা হবে একটি অনুসরণীয় বিষয়।

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা
এই বিভাগের আরো খবর