• রোববার   ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||

  • আশ্বিন ১২ ১৪২৭

  • || ০৯ সফর ১৪৪২

আজকের খুলনা
৭৪

বেতন-ভাতার দাবিতে কারখানায় বিক্ষোভ-ভাঙচুর

আজকের খুলনা

প্রকাশিত: ২৪ ডিসেম্বর ২০১৯  

সাভারে বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে বিক্ষোভ করেছে দুটি তৈরি পোশাক কারখানার প্রায় ৭ হাজার শ্রমিক। তারা কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করেন এবং কারখানায় ব্যাপক ভাঙচুর চালান। এ সময় শিল্প পুলিশ ও কারখানার নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে সাভারের শাহীবাগ এলাকায় অবস্থিত আজিম গ্রুপের গ্লোবাল আউটার লিমিটেড ও গ্লোবাল ফ্যাশন গার্মেন্টস লিমিটেড কারখানায় এসব ঘটনা ঘটে।

শ্রমিক অসন্তোষের মুখে কারখানা দুটিতে এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

বিক্ষুব্ধ শ্রমিক ও শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজিম গ্রুপের গ্লোবাল আউটার লিমিটেড ও গ্লোবাল ফ্যাশন গার্মেন্টস লিমিটেড কারখানার প্রায় ৭ হাজার শ্রমিক গত সোমবার থেকে তাদের নভেম্বর মাসের বকেয়া বেতন ও ওভারটাইমের দাবিতে কর্মবিরতি পালনসহ বিক্ষোভ করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালেও শ্রমিকরা কারখানায় প্রবেশের পর বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে তারা কারখানার কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনায় কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলে শিল্প পুলিশের সদস্যরা শ্রমিকদেরকে নিরাপদে কারখানা থেকে বের করে দেন। কিন্তু শ্রমিকরা কারখানার মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে দাবি আদায়ে বিক্ষোভ ও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুঁড়তে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপসহ লাঠিচার্জ করে বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সংঘর্ষে কারখানার দুই কর্মকর্তাসহ কমপক্ষে ১০ ব্যক্তি আহত হন।

সুইং অপারেটর মো. শাহিন ও মো. লিটন বলেন, আমাদের এক মাসের বেতন বকেয়া আছে, যা গত রোববার পরিশোধ করার কথা ছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ রোববার কিছু শ্রমিককে বেতন দিলেও বাকিদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। মঙ্গলবার শ্রমিক বিক্ষোভের মুখে কারখানার ব্যবস্থাপক (অপারেশন) মো. জাহিদুল হক ও সহকারী ব্যবস্থাপক (কোয়ালিটি) মইনুল ইসলাম আগামী ৩০ ডিসেম্বর বকেয়া বেতন পরিশোধের কথা জানালে শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। এ সময় কারখানার নিজস্ব বাহিনী দিয়ে শ্রমিকদের ওপর হামলা চালানো হয়।

আজিম গ্রুপের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও অর্থ) এম এ আকবর বলেন, আমরা প্রতি মাসে নির্দিষ্ট সময়ে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করে থাকি। কিন্তু সম্প্রতি কারখানায় কাজ কমে যাওয়ায় এ মাসে আমাদের বেতন পরিশোধে সময় লাগছে। খুব শিগগিরই শ্রমিকদের যাবতীয় পাওনা পরিশোধ করা হবে।

আশুলিয়া শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদ নাসের জনি বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কারখানায় ভাঙচুরের পাশাপাশি সড়কে অবস্থান নিয়ে যানচলাচলে বিঘ্ন ঘটালে আমরা তাদেরকে সরিয়ে দেই। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারখানায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা
সংগঠন সংবাদ বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর