• বৃহস্পতিবার   ০৬ মে ২০২১ ||

  • বৈশাখ ২৩ ১৪২৮

  • || ২৪ রমজান ১৪৪২

আজকের খুলনা

বিদ্যুৎখাতে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে ৩০ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব

আজকের খুলনা

প্রকাশিত: ১৪ এপ্রিল ২০২১  

বিদ্যুৎখাতে দক্ষ ও যোগ্য জনবল তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এজন্য ‘ইনিশিয়াল টেকনিক্যাল সাপোর্ট প্রজেক্ট ফর বাংলাদেশ পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট (বিপিএমআই)’ শীর্ষক একটি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। গত ৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (এসপিইসি) সভা। এতে সভাপতিত্ব করেন পরিকল্পনা কমিশনে শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য (সচিব) শরিফা খান। গত ৮ এপ্রিল জারি করা হয়েছে ওই সভার কার্যবিবরণী। সেটি চলে এসেছে সারাবাংলার হাতে।

এসপিইসি সভার কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, সভায় বিপিএমআই’র প্রতিনিধি বলেন— বিদ্যুৎখাত যোগ্য ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার জন্য মোট ৩০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে চলতি বছর হতে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে বাস্তবায়নের জন্য এই প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পটির আওতায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎখাতে বিদ্যমান জনবলের দক্ষতার ঘাটতি পূরণের জন্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা, পরামর্শক সেবার মাধ্যমে ট্রেনিং নিড অ্যাসেসমেন্ট সম্পাদন, এই অ্যাসেসমেন্ট মোতাবেক প্রশিক্ষণ কারিকুলাম ডিজাইন এবং কেরানীগঞ্জে বিপিএমআইর মূল ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামো নকশা চিহ্নিতকরণ অন্তর্ভূক্ত রয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের যুগ্ম প্রধান বলেন, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় মোট ৪৫৫ কোটি ৪২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা ব্যয় প্রাক্কলনে কনস্ট্রাকশন অব বাংলাদেশ পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট কমপ্লেক্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার এটা কেরানীগঞ্জ, ঢাকা শীর্ষক একটি বিনিয়োগ প্রকল্প ২০২০-২১ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বৈদেশিক সাহায্যের জন্য বরাদ্দ বিহীনভাবে অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। বৈদেশিক সহায়তাপুষ্ট এই প্রকল্পটি নেওয়া হলে বর্তমানে প্রস্তাবিত কারিগরি সহায়তা প্রকল্পটির কার্যক্রম গুলো এই প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন করা সম্ভব করা হবে।

বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম প্রধান বলেন, বিনিয়োগ প্রকল্পটির জন্য দীর্ঘদিন যাবৎ ইআরডির মাধ্যমে অর্থায়নে আগ্রহী উন্নয়ন সহযোগী খোঁজা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোন উন্নয়ন সহযোগী পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে সরকারি বা সংস্থার অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সম্ভাব্যতা বিবেচনাধীন আছে। বর্তমানে এই কারিগরি সহায়তা প্রকল্পটির আওতায় পরামর্শক নিয়োগের মাধ্যমে শুধুমাত্র প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের নিড অ্যাসেসমেন্ট ও কারিকুলাম ডিজাইন করা হবে। তবে চূড়ান্ত কারিকুলাম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ল্যাব ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক অবকাঠামো পরবর্তীতে বিনিয়োগ প্রকল্পটির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রকল্পের আওতায় বৈদেশিক ও স্থানীয় পরামর্শক নিয়োগের মাধ্যমে বিপিএমআইর প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের জন্য নিড অ্যাসেসমেন্ট এবং কারিকুলাম ডিজাইন করার জন্য ১৩ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সেক্টরে এরমধ্যে অর্জিত সাফল্য এবং বিদ্যুৎ সেক্টরে কর্মরত মানবসম্পদ ও ভবিষ্যতে দক্ষতার চাহিদা সম্পর্কে স্থানীয় অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর স্বার্থে এ ধরনের কার্যক্রমের স্থানীয় পরামর্শকদের নিয়োগ করা প্রয়োজন বলে সভায় একমত পোষণ করা হয়। এছাড়া স্থানীয় পরামর্শকদের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ মডিউল ডিজাইন করা হলে ভবিষ্যতে মডিউলের হালনাগাদ ও উন্নয়ন সহজ হবে বলেও সভায় একমত প্রকাশ করা হয়।

যেসব সুপারিশ দেয়া হয়েছে: এসপিইসি সভায় যেসব সুপারিশ দেয়া হয়েছে সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে— ‘কনস্ট্রাকশন অব বাংলাদেশ পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট কমপ্লেক্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার এট কেরানীগঞ্জ, ঢাকা শীর্ষক প্রস্তাবিত বিনিয়োগ প্রকল্পের সঙ্গে এই কারিগরি সহায়তা প্রকল্পটির সম্পর্ক যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে। এছাড়া কারিগরি সহায়তা প্রকল্পটিতে প্রস্তাবিত পরামর্শক সেবা অংশে শুধুমাত্র দেশীয় পরামর্শক নিযুক্ত করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী ব্যয় টিএপিপিপিতে (কারিগরি সহায়তা প্রকল্প প্রস্তাব) প্রতিফলন ঘটাতে হবে। প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণের বিষয় ও ধরন, প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা ও সময়কাল উল্লেখ করে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের একটি সময়াবন্ধ ও বাস্তবম্মত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুধুমাত্র সরকারি তহবিলের অর্থে না করে উপকারভোগী সংস্থাগুলোর সঙ্গে কস্ট শেয়ারিংয়ের ভিত্তিতে অর্থায়নের ব্যবস্থা রখতে হবে। সে অনুযায়ী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাবদ ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে কমাতে হবে। প্রকল্পটির মেয়াদ দুই বছর হওয়ায় প্রকল্পের আওতায় দীর্ঘ মেয়াদি বৈদেশিক উচ্চ শিক্ষার পরিবর্তে স্বল্পমেয়াদি কিছু কার্যকর প্রশিক্ষণের সংস্থান রাখতে হবে। প্রকল্পটির ব্যাপ্তি বিবেচনায় যানবাহন ক্রয়ের সংস্থান সম্পূর্ণই বাদ দিতে হবে। এক্ষেত্রে একটি মাইক্রোবাস ভাড়ার সংস্থান রাখতে হবে। এ প্রেক্ষাপটে যানবাহন মেরামত, জ্বালানি ও ড্রাইভার বাবদ ব্যয় বাদ দিতে হবে। জনবল প্রস্তাব কমাতে হবে। এছাড়া করোনা মহামারি বিবেচনায় ভ্রমণ ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে হ্রাস করতে হবে। প্রকল্পে কোনো ভৌত কাজ অন্তর্ভূক্ত না থাকায় ফিজিক্যাল কন্টিনজেন্সি ব্যয় সম্পূর্ণই বাদ দিতে হবে।

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা