আজকের খুলনা
ব্রেকিং:
প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকি: তারেক-ফখরুলসহ ১২ জনের নামে মামলা ফতুল্লায় গণধর্ষণের শিকার নারী শ্রমিক, ছয় যুবক গ্রেপ্তার হেগে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার শুনানি শুরু চুয়াডাঙ্গায় আল্লাহর দলের সক্রিয় সদস্য আটক ভিপি নুরের বিরুদ্ধে মানহানি মামলার আবেদন গাজীপুরে জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ’র এক সক্রিয় সদস্য আটক বাংলাদেশ সীমায় মাছ শিকারে এসে ১৪ ভারতীয় জেলে আটক গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া ও নোয়াখালীর সুবর্নচরে পৃথক সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত ৪, আহত ৪

মঙ্গলবার   ১০ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৬ ১৪২৬   ১২ রবিউস সানি ১৪৪১

আজকের খুলনা
সর্বশেষ:
খুলনায় পাটকল শ্রমিকদের আমরণ অনশন সাভারে বিয়ের প্রলোভনে একযুগ ধরে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার ৪০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা শুরু ৪ জানুয়ারি নোয়াখালীতে পৃথক দুর্ঘটনায় ছাত্রদল নেতাসহ নিহত ৩ ৩৮ আরোহীসহ চিলির বিমান নিখোঁজ ১৬ ডিসেম্বর থেকে সব রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে “জয় বাংলা” জাতীয় স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করতে হবে : হাইকোর্ট নাটোরের সিংড়ায় পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু মাদারীপুরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ-গাড়ি ভাঙচুর, আটক ২২
৩১

বিএনপি নিজেই নিজেদের পেনডোরা বাক্স খুলে দিলো

ডেস্ক রিপোর্ট : প্রকাশিত ১২:০৬ পিএম

প্রকাশিত: ২৯ নভেম্বর ২০১৯  

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত কয়েকটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে বিএনপি মহাসচিব স্বাক্ষরিত একটি চিঠি গত ১৭ নভেম্বর ২০১৯ তারিখে প্রধানমন্ত্রীকে দিয়েছেন। বিএনপির এই চিটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, বিএনপি প্রধানমন্ত্রীকে লেখা এই আনুষ্ঠানিক পত্রে তাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেনি। এর অর্থ এই দাঁড়াচ্ছে, বিএনপির কাছে তাদের নেত্রীর কারাবরণ এখন একটি স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। মনে হচ্ছে, তারা এই বিষয়ে আর কথা বলতে চান না; কোনও দাবি জানাতে চান না। এটি নিঃসন্দেহে বিএনপির জন্য একটি দুঃখজনক ঘটনা। মনে হচ্ছে, বিএনপির রাজনৈতিক দৈন্য চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বিএনপি মহাসচিবের চিটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সৌজন্যে তারা জানতে পেরেছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর সর্বশেষ ভারত সফরকালে ৫ অক্টোবর ২০১৯ ভারতের সঙ্গে ৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। বিএনপি মহাসচিব উল্লেখ করেছেন, চুক্তিগুলোয় স্বাক্ষর করার আগে বিষয়টি নিয়ে কোনও পাবলিক ডিবেটের ব্যবস্থা করা হয়নি। বাংলাদেশের জনগণের কোনও অভিমত নেওয়া হয়নি। মহাসচিব উল্লেখ করেছেন, ভারতসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্প্রতি বাংলাদেশের সম্পাদিত চুক্তিগুলো সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা হয়নি।

বিএনপি মহাসচিবের উল্লিখিত বক্তব্যগুলো আমরা গভীরভাবে পর্যালোচনা করেছি। এই বক্তব্যগুলো অসত্য, অগ্রহণযোগ্য, স্ববিরোধী ও বাস্তবতা বিবর্জিত হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। তিনি শুরুতে বলেছেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সৌজন্যে তারা জানতে পেরেছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকালে ৫ অক্টোবর ২০১৯ ভারতের সঙ্গে ৭ টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। আবার, বিএনপি মহাসচিব উল্লেখ করেছেন, ভারতসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্প্রতি বাংলাদেশের সম্পাদিত চুক্তিগুলো সম্পর্কে জনগণকে জানানো হয়নি। তার আগের বক্তব্য সত্য হলে পরের বক্তব্য মিথ্যা প্রমাণিত হয়। আর আগের বক্তব্যেও প্রকৃত চিত্রকে আড়াল করা হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে, বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই ৭টি সমঝোতা স্মারক নিয়ে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ৫ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে একটি যৌথ ঘোষণা দেন। এই যৌথ ঘোষণায়ই এই ৭টি এমওইউ’র বিবরণ উল্লেখ রয়েছে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের মাধ্যমে এই যৌথ ঘোষণা শুধু দক্ষিণ এশিয়ায় নয়, সমগ্র বিশ্বব্যাপী প্রচারিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তার প্রতিটি বিদেশ সফরের অব্যাবহিত পর সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। উক্ত সংবাদ সম্মেলনগুলোয় তিনি তার সফরের বিস্তারিত তুলে ধরেন। অন্য রাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত প্রতিটি চুক্তি-সমঝোতা স্মারকের খুঁটিনাটি তিনি তুলে ধরেন। কীভাবে তিনি সর্বোচ্চ জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করছেন তারও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া বাংলাদেশের কোনও সরকার প্রধান তার বিদেশ সফর ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমকে এভাবে জানেননি।

ভারত সফরের পর গত ৯ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে কর্মরত সব গণমাধ্যমকে নিয়ে এক প্রেস কনফারেন্সের আয়োজন করেন। ওই প্রেস কনফারেন্স তিনি সাম্প্রতিক ভারত সফরে সাক্ষরিত ৭টি এমওইউ সম্পর্কে দীর্ঘ আলোচনা করেন। তিনি এমওইউগুলোর নানা খুঁটিনাটি দিক নিয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছ থেকে এই বিষয়ে সরাসরি প্রশ্নগ্রহণ করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে সাংবাদিকদের সব প্রশ্নের উত্তর দেন। এই এমওইউগুলোর মাধ্যমে কীভাবে সর্বোচ্চ জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ করা হয়েছে, তার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। বাংলাদেশে এই ধরনের মিডিয়া আউটরিচের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার রেওয়াজ রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনাই চালু করেছেন। আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এই ধরনের মিডিয়া আউটরিচের মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়।

বিএনপি মহাসচিবের পত্রে আরও উল্লেখ করা হয় যে, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪৫ (ক)-এর বিধান অনুযায়ী বিদেশের সঙ্গে সব চুক্তি রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করার বাধ্যবাদকতা রয়েছে এবং রাষ্ট্রপতি এই চুক্তি সংসদে পেশ করবেন। বিএনপির পত্রে উল্লেখ করা হয়, অনুচ্ছেদ ১৪৫(ক) প্রতিপালন না করার ফলে সরকার কর্তৃক সংবিধান লঙ্ঘিত হয়েছে। ওই চিঠিতে এই চুক্তিগুলো অনুচ্ছেদ ১৪৫(ক)-এর বিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের জন্যও দাবি জানানো হয়।

একটি কথা এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন। বিএনপির চিঠিতে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত যে ডকুমেন্ট/দলিলগুলোকে চুক্তি হিসেবে বলা হয়েছে, আইন ও সংবিধান অনুযায়ী এগুলো চুক্তি নয়; এগুলো সমঝোতা স্মারক। তাই চুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সাংবিধানিক বিধান এখানে কার্যকর হবে না।

বিএনপির চিঠিতে ফেনী নদী থেকে তথাকথিত পানি প্রত্যাহারের চুক্তির কথা বলা হয়েছে। অথচ এটি একটি সমঝোতা স্মারক যার শিরোনাম হচ্ছে ‘MoU on withdrawal of 1.82 cusec of water from Feni River by India for drinking water supply scheme for Sabroom town, Tripura, India.’

চিঠিতে আমাদের উপকূলে রাডার স্থাপনের চুক্তির কথা বলা হয়েছে। অথচ এটি একটি সমঝোতা স্মারক যার শিরোনাম হচ্ছে ‘MoU on Establishment of Coastal Surveillance Radar System in Bangladesh’।
বিএনপি’র চিঠিতে আমাদের বন্দর ব্যবহারের চুক্তির কথা বলা হয়েছে। অথচ এ বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেটি একটি সমঝোতা স্মারক। যার শিরোনাম হচ্ছে ‘Memorandum of Understanding between Ministry of Shipping, Road Transport and Highways Government of the Republic of India and Ministry of Shipping Government of the People's Republic of Bangladesh Relating to The Use of Chittagong and Mongla Ports for Movement of Goods to and from India. এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয় ৬ জুন ২০১৫ তারিখে। এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় ৫ অক্টোবর ২০১৯— Standard Operating Procedure (SOP) on the use of Chattogram and Mongla Ports for Movement of goods to and from India প্রণীত হয়।

বিএনপির চিঠিতে এলপিজি রফতানির যে চুক্তির কথা বলা হয়েছে, এটিও চুক্তি ছিল না। ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের মধ্যে আন্তঃরাষ্ট্রীয় জ্বালানি সহযোগিতার যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়, তার আওতায়ই এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।

বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪৫(ক) -তে আন্তর্জাতিক চুক্তির কথা বলা হয়েছে। সংবিধানের ইংরেজি সংস্করণে আন্তর্জাতিক চুক্তির স্থলে ‘international treat’ বলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক চুক্তি মূলত আন্তর্জাতিক আইনের আওতাধীন। আন্তর্জাতিক আইনে আন্তর্জাতিক চুক্তির সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা রয়েছে। কোনও চুক্তিকে আন্তর্জাতিক চুক্তি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হলে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়। এ সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক আইন হচ্ছে Vienna Convention on the Law of the Treaties ১৯৬৯। আন্তর্জাতিক চুক্তির ক্ষেত্রে Vienna Convention on the Law of the Treaties ১৯৬৯ প্রযোজ্য। রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে লিখিতভাবে সম্পাদিত কোনও চুক্তি আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় কিছু অধিকার ও দায়িত্ব সৃষ্টি করে (Article 2 (1) (a) of the Vienna Convention on the Law of the Treaties ১৯৬৯)। অন্যদিকে, সমঝোতা স্মারক (MOU) এক ধরনের আন্তর্জাতিক কমিটমেন্ট সৃষ্টি করে, কিন্তু আন্তর্জাতিক আইনে কোনও বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করে না।

বর্তমান বিশ্বে সাধারণত আন্তর্জাতিক চুক্তির বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা (যেমন, ratification-এর বাধ্যবাধকতা, সংরক্ষণের অধিকার, সংসদে উপস্থাপনের বিষয়াদি ইত্যাদি) পরিহার করার জন্য আন্তর্জাতিক চুক্তির পরিবর্তে সমঝোতা স্মারক ব্যবহার করা হয়। যেখানে চুক্তির বিস্তারিত বিধান সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হয় অথবা যেখানে চুক্তির বিষয় মূলত কারিগরি বা প্রশাসনিক বৈশিষ্ট্যর হয়ে থাকে অথবা যেখানে চুক্তির বিষয়দি প্রতিরক্ষা বা প্রযুক্তি সম্পর্কিত হওয়ায় এগুলোকে ‘ক্লাসিফায়েড ডকুমেন্ট’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

সমঝোতা স্মারকের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক চুক্তির আনুষ্ঠানিকতাগুলো প্রযোজ্য হয় না। আর সমঝোতা স্মারক সাধারণত প্রকাশিত হয় না। সমঝোতা স্মারক non-binding প্রকৃতির, যেখানে Vienna Convention কার্যকর করা যায় না।

বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে এই ধরনের এমওইউ-এর ক্ষেত্রে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪৫ (১) বিধান প্রযোজ্য হবে। এই অনুচ্ছেদ আন্তর্জাতিক চুক্তি ছাড়া অন্যান্য চুক্তি ও দলিলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অনুচ্ছেদ ১৪৫ (১)-এ বলা আছে, ‘প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী কর্তৃত্বে প্রণীত সকল চুক্তি ও দলিল রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রণীত বলিয়া প্রকাশ করা হইবে এবং রাষ্ট্রপতি যেরূপ নির্দেশ বা ক্ষমতা প্রদান করিবেন, তাঁহার পক্ষে সেইরূপ ব্যক্তি কর্তৃক ও সেইরূপ প্রণালীতে তাহা সম্পাদিত হইবে’। অনুচ্ছেদ ১৪৫ (১) এর বিধান অনুযায়ী সরকার যে সব দলিল স্বাক্ষর/ প্রণয়ন/সম্পাদন করবেন, সেগুলো রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রণীত বলে প্রকাশিত হবে।’
এছাড়া, বাংলাদেশের ‘Rules of Business ১৯৯৬’-এর বিধান অনুযায়ী প্রতিটি সরকারি সিদ্ধান্ত যথোপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হয়। এই বিধান গুলো সংবিধানের বিধানাবলির সাথে সামঞ্জস্য রেখেই প্রণয়ন করা হয়েছে। তাই সরকার স্বাক্ষরিত উল্লিখিত এমওইউগুলো সংবিধান অনুযায়ী [অনুচ্ছেদ ১৪৫ (১)] রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রকাশিত বলে গণ্য হবে। এমতাবস্থায়, এই এমওইউগুলো নিয়ে আইনি কিংবা সাংবিধানিক বিতর্কের কোনও সুযোগ নেই।

একটি কথা এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী তার প্রতিটি বিদেশ সফরের অব্যাবহিত পর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিদেশ সফর সম্পর্কে লিখিত ও মৌখিকভাবে তাকে জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া বাংলাদেশের কোনও সরকার প্রধান রাষ্ট্রপতিকে বিদেশ সফর নিয়ে এভাবে জানাননি।

এটি অত্যন্ত দুঃখজনক যে, বিএনপি আজ জাতীয় সংসদের কথা বলছে; সংবিধানের কথা বলছে। অথচ তারাই এই সংবিধানকে martial law proclamations এর মাধ্যমে খত-বিক্ষত করেছিল। সংবিধানের পরিবর্তে সামরিক ফরমান দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছিল। সংসদকে উপেক্ষা করে বিএনপিসহ অসাংবিধানিক সরকারগুলো সামরিক ফরমানের মাধ্যমে আইন প্রণয়ন করেছিল। আর সংসদ বহাল থাকা অবস্থায় তারা অনেক গুরুত্বপূর্ণ আইন সংসদে আলোচনা না করে ordinance-এর মাধ্যমে জারি করেছিল। এই ব্যবস্থা গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের পরিপন্থী। আইন প্রণয়ন সম্পর্কিত আইনের শাসনের নীতি হচ্ছে প্রত্যেকটি আইন সংসদে যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা, সংসদ সদস্যদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা ও বিতর্কের মধ্য দিয়ে প্রণীত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার আইন প্রণয়ন সম্পর্কিত আইনের শাসনের এই নীতি প্রতিপালন করে বিশেষ ও অতি জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া অন্য সব সময়ে সংসদে আলাপ আলোচনা ও বিতর্কের মধ্য দিয়ে Act of Parliament এর মাধ্যমে আইন প্রণয়ন করে আসছে। আওয়ামী লীগ সরকার সংসদকে পাশ কাটিয়ে রাষ্ট্রপতির ordinance প্রণয়নের ক্ষমতাকে অপব্যবহার করে আইন প্রণয়ন করেনি।

বিএনপির চিঠিতে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪৫(ক)-এর বিধানের কথা বলা হয়েছে। তাদের কাছে আমাদের প্রশ্ন জেনারেল জিয়া, জেনারেল এরশাদ ও খালেদা জিয়া মোট ৩১ বছর বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিল। তাদের আমলে কতগুলো চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক হয়েছিল সেগুলো প্রকাশ করা হোক। সেগুলোর ক্ষেত্রে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪৫(ক)-এর বিধান তারা প্রতিপালন করেছেন কিনা, সেই তথ্য ও প্রকাশ করা হোক। আমাদের তথ্য অনুযায়ী তারা এই ৩১ বছরে কখনোই সংবিধানের উল্লিখিত বিধান প্রতিপালন করেননি। যে বিষয়টি তারা কোনোদিন প্রতিপালন করেনি, সেই বিষয়ে প্রশ্ন তোলা নীতি বিবর্জিত একটি কাজ। ‘He who comes to equity, must come with clean hands’–এটি একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ ন্যায্যতার নীতি (principles of equity)।

তিস্তা চুক্তি সম্পর্কে বিএনপির চিঠিতে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, সেটি মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। তিস্তা নিয়ে ৫ অক্টোবর ২০১৯ বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর যৌথ ঘোষণায় যে সুস্পষ্ট বক্তব্য রয়েছে, বিএনপি সেটি এড়িয়ে গেছে। যৌথ ঘোষণায় (ক্লস ২২) উলেখ করা হয় “Prime Minister Sheikh Hasina highlighted that the people of Bangladesh are awaiting early signing and implementation of the Framework of Interim Agreement for sharing of the Teesta waters, as agreed upon by both governments in 2011. Prime Minister Modi informed that his government is working with all stakeholders in India for conclusion of the Agreement soonest possible”. দুই সরকারের আনুষ্ঠানিক যৌথ ঘোষণায় এই বক্তব্য থাকার পরও তিস্তা নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য সত্যিই দুঃখজনক। এই মিথ্যাচারের মাধ্যমে বিএনপির রাজনৈতিক দৈন্যতাই প্রকাশ পায়। বিএনপি যে ঐতিহাসিকভাবে মিথ্যাচারের ওপরই রাজনীতি করে আসছে, সেখান থেকে আর বের হতে পারছে না। বের হওয়ার চেষ্টাও করছে না। মিথ্যাচারের জয় বেশিদিন টেকে না, সেটিই প্রমাণিত হয়েছে ।
 

লেখক: সমন্বয়কারী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয়; আইনজ্ঞ ও শিক্ষক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা
এই বিভাগের আরো খবর