• সোমবার   ১৩ জুলাই ২০২০ ||

  • আষাঢ় ২৯ ১৪২৭

  • || ২২ জ্বিলকদ ১৪৪১

আজকের খুলনা
৩১০৪

ফিরে দেখা সরকারের সফলতা : পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠা

আজকের খুলনা

প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০২০  

পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও কাঙ্খিত উন্নয়নে বিশেষ অবদান রেখেছে আওয়ামীলীগ সরকার। পূর্বের মেয়াদে শান্তিচুক্তির মাধ্যমে পাহাড়ে পাহাড়ে হানাহানি বন্ধ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রতিবছর বাজেটে এখন বিশেষ অর্থবরাদ্দ রাখা হয় পার্বত্য অঞ্চলের ভৈৗত অবকাঠামো ও সাধারণ মানুষের জীবন মান উন্নয়নের জন্য।  পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় সমন্বিত সমাজ উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকার ও ইউনিসেফ এর আর্থিক সহায়তায় প্রকল্পের ৩য় পর্যায়ে ৩২০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে বাস্তবায়িত হয়েছে।

এ প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য অর্জনসমূহ হচ্ছে প্রত্যন্ত পার্বত্য এলাকার ১,৬৫,৩৪৩ পরিবারকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, পানি, পয়ঃব্যবস্থা ইত্যাদি মৌলিক সেবা প্রদান, প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৩টি প্রশিক্ষণকেন্দ্র মেরামতসহ ৫,১০৯ জন পাড়া কর্মীদের মৌলিক প্রশিক্ষণ, ৪৩৪২ জন পাড়াকর্মীদের সঞ্জিবনী প্রশিক্ষণ, ৪০৩ জন কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ, ৩২,৮৪০ জনকে চাকুরীকালীন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। শিক্ষা প্রকল্পভুক্ত ৩-৫ বছর বয়সী ১,৭৩,১৬৫ জন শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার জন্য প্রস্তুতকরণের লক্ষ্যে পাড়াকেন্দ্রে শিশু বিকাশ ও প্রাক-শিক্ষা  কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ৪০০০ পাড়া কেন্দ্রে  শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে।

বর্তমানে ৪০০০ পাড়া কেন্দ্রে ৫৪,০০০ শিশু প্রি-স্কুলে অধ্যয়নরত। পাড়াকেন্দ্র থেকে ২ লক্ষের বেশি শিশু প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। এছাড়া পার্বত্য চট্রগ্রাম এলাকায় ক্ষুদ্র ও পশ্চাদপদ নৃগোষ্ঠির মধ্যে প্রতি বছর ১০০০ জন শিক্ষার্থীর খাদ্য, আবাসন, পোশাক, পরিচ্ছদ, শিক্ষা উপকরণ বিনামূল্যে প্রাপ্তিসহ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষা লাভ করছে। বিদ্যালয়সমূহ থেকে এ পর্যন্ত ১১০০ শিক্ষার্থী এস,এস,সি পাশ করেছে। স্বাস্থ্য : প্রতিরোধযোগ্য রোগের সংক্রমণ হ্রাস এবং এনিমিয়া প্রতিরোধের লক্ষ্যে প্রকল্প এলাকার সকল শিশু, মহিলা ও গর্ভবর্তী মহিলাকে টিকা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও পাড়াকেন্দ্রে ৬-২৩ মাস বয়সী ৯৪,৭২৪ জন শিশুদের জন্য ভিটামিন-মিনারেল, কিশোরী ও গর্ভবর্তীদের আয়রন ট্যাবলেট প্রদান করা হয়েছে। ১,২২,৪৩৫ জন প্রসুতি মায়েদের জন্য ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণ, ৮১,৭১০ জন কিশোরীদের জন্য কৃমিনাশক বড়ি বিতরণ, ৫৩৪ জনকে উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও ২০৪৫ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পানি ও পয়: ব্যবস্থা উন্নয়ন  প্রকল্প এলাকায় ১২০টি নলকূপ স্থাপন ও সংস্কার, ৫,৪২৩টি স্বল্পব্যয়ী স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা সরবরাহ, ১,৩৫০ জন কেয়ার টেকার প্রশিক্ষণ ও টুলবক্স বিতরণ এবং ১,২০৫টি হ্যান্ড ওয়াসিং ডিভাইস স্থাপন করা হয়েছে। উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য ৪১৭.০০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৮ হতে ২০২১ মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলসমূহকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনার জন্যে মোট ৭৬০৬.৩১ (১ম সংশোধিত) লক্ষ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে জুলাই, ২০১৫-২০১৯ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় গুরুত্বপূর্ণ অর্জনসমূহ হচ্ছে ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ২০০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বান্দরবান জেলায় ২৩৬টি, রাঙামাটি জেলায় ১২০টি ও খাগাছি জেলায় ১২০টি ৬৫ওয়াট পিক ক্ষমতার সোলার হোম সিস্টেম সরবরাহ ও স্থাপন করা হয়। ৪৪০ জন উপকারভোগীকে সোলার সিস্টেমের রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবহারবিধি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ২৪৪৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বান্দরবান জেলায় ২১২৪টি, রাঙামাটি জেলায় ১৭৫৩টি ও খাগাছড়ি জেলায় ১৫৩৭টি ৬৫ ওয়াট পিক ক্ষমতার সোলার হোম সিস্টেম সরবরাহ ও স্থাপন করা হয়। ৩৪০০ জন উপকারভোগীকে সোলার সিস্টেমের রক্ষণাবেক্ষণের ও ব্যবহারবিধি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। সাজেক রুইলুই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাল্টিমিডিয়া সমৃদ্ধ শ্রেণিকক্ষের লক্ষ্যে ২৪টি ২৫০ ওয়াট পিক ক্ষমতার সোলার কমিউনিটি সিস্টেম সরবরাহ ও স্থাপন করা হয়। প্রকেল্পের আরডিপিপি‘তে আরও ৫০০০টি সোলার হোম সিস্টেম ৫৮৯০টি মোবাইল চার্জার এবং ১২ ওয়াট পিকের পরিবর্তে ৩২ ওয়াট পিকের ২৩১৫টি সোলার প্লান্ট স্থাপন। এছাড়াও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে পার্কত্য অঞ্চলের বাসিন্দাওে জীবন মান উন্নয়নে।

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা
জাতীয় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর