• বুধবার   ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ||

  • ফাল্গুন ৬ ১৪২৬

  • || ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

আজকের খুলনা
সর্বশেষ:
কদমতলীতে গ্যাস লাইনে বিস্ফোরণ, দগ্ধ ২ আজীবন বহিষ্কার যবিপ্রবির দুই শিক্ষার্থী স্কুলব্যাগে ফেনসিডিল বহনকালে ৩ মাদক ব্যবসায়ী আটক খুলনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতারণা চক্রের ৫ সদস্য গ্রেফতার রাজধানীর সদরঘাটে লেডিস মার্কেটে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ২ ইউনিট প্রধানমন্ত্রীকে খুনের হুমকি, তারেকসহ ৯ জনের নামে মামলা
২০৯৭

ফিরে দেখা : সড়ক উন্নয়নে সরকারের সফলতা

আজকের খুলনা

প্রকাশিত: ৮ জানুয়ারি ২০২০  

বঙ্গবন্ধু কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। রুপকল্প ২০২১ এবং একশ’ বছরের ডেল্টা প্লানকে সামনে রেখে দূর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। উন্নয়নের মহান রুপকার, গণতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনার দূরদর্শী চিন্তাধারা ও যুগোপযোগী বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে দেশ থেকে দূর হয়েছে ক্ষুধা-দারিদ্র্য-বেকারত্ব। শিক্ষা, কৃষি, শিল্প, ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ, নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাসহ দেশের প্রতিটি সেক্টরে হয়েছে অভূতপূর্ব উন্নয়ন। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল। 

সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়ন :

সারাদেশে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতাধীন ২১ হাজার ৩০২ কিলোমিটার জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং জেলা সড়ক, ৪ হাজার ৪০৪টি সেতু এবং ১৪ হাজার ৮৯৪টি কালভার্ট রয়েছে। ২০০৯ থেকে জুন ২০১৮ পর্যন্ত সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কর্তৃক উন্নয়ন খাতের আওতায় ৪ হাজার ৩৩১ কিলোমিটার মহাসড়ক মজবুতিকরণসহ ৫ হাজার ১৭১ কিলোমিটার মহাসড়ক প্রশস্তকরণ করা হয়েছে। অনুন্নয়ন খাতের আওতায় ৪ হাজার ৮৬৯ কিলোমিটার মহাসড়ক কার্পেটিং ও সীলকোট, ১ হাজার ৮৯২ কিলোমিটার ডিবিএসটি এবং ৮ হাজার ১৫৮ কিলোমিটার ওভার লে করা হয়েছে। ৪১৭ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক চারলেন বা তদূর্ধ্ব লেনে উন্নীত করা হয়েছে। দেশের অর্থনীতির লাইফ-লাইন খ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের ১৯০ কিলোমিটার চারলেনে উন্নীত করা হয়েছে; ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক চারলেনে উন্নীত করা হয়েছে। ক্সনবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক চারলেনে উন্নীত করা হয়েছে। রংপুর মহানগরীর বিভিন্ন সড়ক চারলেনে উন্নীত করা হয়েছে। চট্টগ্রাম-হাটহাজারী সড়ক ডিভাইডারসহ চারলেনে উন্নীত করা হয়েছে। কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ দৃষ্টিনন্দন মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ।

যাত্রাবাড়ি-কাঁচপুর সড়ক আট লেনে উন্নীতকরণ। এটি দেশের প্রথম আটলেন মহাসড়ক। গত দশ বছরে এ বিভাগ ২৭৬টি প্রকল্প সমাপ্ত করেছে এবং ৩৪১টি নতুন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। বর্তমানে ২০১৮-১৯ অর্থ-বছরে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অধীন ১৩৯টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এ সময়ে ৯টি ফ্লাইওভার/ওভারপাস ও ৭টি আন্ডারপাস নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ফেনীর মহিপালে ছয়লেনের ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় ফেনীর ফতেহপুর, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার, ইলিয়টগঞ্জ ও চট্টগ্রামের কালুশাহ মাজার এলাকায় তিনটি রেলওয়ে ওভারপাস, কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় আন্ডারপাস নির্মাণ করা হয়েছে।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে নির্মিত হয়েছে মাওনা ফ্লাইওভার। এছাড়া ঢাকা মহানগরীতে বনানী রেলওয়ে ওভারপাস, মিরপুর থেকে এয়ারপোর্ট রোড পর্যন্ত মো. জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভার, কুমিল্লা শহরে শাসনগাছা ফ্লাইওভার, টঙ্গীতে আহসান উল্যাহ মাস্টার ফ্লাইওভার, চট্টগ্রাম বন্দর সংযোগ ফ্লাইওভার ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এ সময়ে ৯১৪টি সেতু ও ৩ হাজার ৯৭৭টি কালভার্ট নির্মাণ/পুনঃর্নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে শহিদ বুদ্ধিজীবী সেতু, সুলতানা কামাল সেতু, শেখ লুৎফর রহমান সেতু, শেখ কামাল সেতু, শেখ জামাল সেতু, শেখ রাসেল সেতু, সোনাতলা সেতু, এলাসিন সেতু, কাজির বাজার সেতু, আচমত আলী খান সেতু, শাহ আমানত সেতু, ওয়াজেদ মিয়া সেতু, থানচি সেতু, রুমা সেতু, তিস্তা সেতু, শহিদ আব্দুর রব সেরনিয়াবত সেতু, বড়দহ সেতু, সানন্দবাড়ি সেতু, বিরুলিয়া সেতু, চৌফলদী সেতু, শহিদ শেখ ফজলুল হক মনি সেতু ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ঢাকা-আরিচা জাতীয় মহাসড়কের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক সরলীকরণ করা হয়েছে। এছাড়া, সারাদেশের মহাসড়কে ১৪৪টি দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁক চিহ্নিত করে ইতোমধ্যে ১৩০টি নিরসন করা হয়েছে। ঢাকা মহানগরী ও তৎসংলগ্ন এলাকার যানজট নিরসনে ও পরিবেশ উন্নয়নে উত্তরা ৩য় পর্ব হতে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত ২০.১০ কিলোমিটার দীর্ঘ বাংলাদেশের প্রথম এলিভেটেড মেট্রোরেল-এর নির্মাণ কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। এতে ১৬ স্টেশন থাকবে এবং উভয়দিকে ঘন্টায় ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন করা যাবে। ঢাকা মহানগরী ও পার্শ্ববর্তী এলাকা’র আরবান ট্রান্সপোর্টের চাহিদা ও পরিধি ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) এর উদ্যোগে ২০০৫ সালে প্রণীত ২০ বছর মেয়াদী স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান-এসটিপি সময়োপযোগী করে আরএসটিপি ২০১৫-৩৫ প্রণয়ন করা হয়েছে। একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিদ্যমান আইন, বিধিমালা, নীতিমালা ও গাইডলাইনস সংশোধন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জন করে সংস্কার এবং আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন আইন, বিধিমালা, নীতিমালা ও গাইডলাইনস প্রণয়ন করা হয়েছে ও হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় মোটরযানের এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালা-২০১২, টোল নীতিমালা, সওজ’র ভূমি ব্যবস্থাপনা ও ইজারা নীতিমালা, মেট্রোরেল আইন-২০১৫, বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) আইন-২০১৬, রাইড শেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা ২০১৭ ইত্যাদি প্রণয়ন ও জারি করা হয়েছে। কর্মিদের শাস্তির ব্যবস্থা রেখে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ সংসদে পাশ করা হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসকল্পে বিআরটিএ’র নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় ২০০৯ থেকে জুন ২০১৮ পর্যন্ত ২ লাখ ৮৬ হাজার ৬৭৪ জন পেশাজীবী গাড়ি চালককে দক্ষতা উন্নয়ন ও সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। বিআরটিএ’র সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এর কার্যক্রম সুচারুরূপে পরিচালনার সুবিধার্থে ২০১০ সাল থেকে মোটরযানের যাবতীয় কর ও ফি অনলাইন ব্যাংকিং পদ্ধতিতে আদায়, ২০১১ সাল থেকে ইলেক্ট্রনিক চিপযুক্ত ডিজিটাল স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স, ২০১২ সাল থেকে মোটরযানে রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ নাম্বারপ্লেট এবং রেডিও ফ্রিক্যুয়েন্সি আইডেনটিফিকেশন (আরএফআইডি) ট্যাগ সংযোজন, ২০১৪ সাল ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (ডিআরসি) এর কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। মোটরযানের ফিটনেস স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরীক্ষাপূর্বক ফিটনেস সার্টিফিকেট ইস্যুর লক্ষ্যে মিরপুরস্থ মোটরযান পরিদর্শন কেন্দ্র (ভিআইসি) প্রতিস্থাপনপূর্বক গত ৩০ অক্টোবর ২০১৬ তারিখ হতে চালু করা হয়েছে। ক্সবিআরটিএ’র সকল ডিজিটাল সার্ভিসের ডাটা ব্যাক-আপসহ নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখার উদ্দেশ্যে বিআরটিএ-তে একটি আন্তর্জাতিক মানের ডাটাসেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। ট্যাক্সিক্যাব সার্ভিস আধুনিকায়ন ও সেবার গুণগতমান বাড়াতে প্রণয়ন করা হয়েছে

ট্যাক্সিক্যাব সার্ভিস গাইডলাইন ২০১০ এর আওতায় অনুমোদিত দু’টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঢাকা মহানগরী ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ৪০০ ট্যাক্সিক্যাব চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরীতেও ট্যাক্সিক্যাব সার্ভিস চালুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দশ বছরে বিভিন্ন ধরনের ৯৫৮টি বাস বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি) এর বাস বহরে সংযোজন করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণপরিবহন সেবার পরিধি বৃদ্ধির জন্য আরও ৬০০টি বাস ও ৫০০টি ট্রাক সংগ্রহের কার্যক্রম প্রায় সমাপ্তির পথে। আব্দুল্লাহপুর-মতিঝিল রুটে চলাচলকারী বিআরটিসি’র ১৬টি বাসে ওয়াইফাই সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। বিআরটিসি’র মহিলা বাস সার্ভিস সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে ১৪টি রুটে ১৭টি বাস দ্বারা মহিলা বাস সার্ভিস পরিচালিত হচ্ছে। ক্সএছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে চালু করা হয়েছে স্কুল বাস সার্ভিস। ক্সমতিঝিল-আব্দুল্লাহপুর ও মতিঝিল-নবীনগর রুটের এসি বাসের যাত্রীগণ কর্তৃক বাসের অবস্থান, আসন সংখ্যা ও অন্যান্য তথ্যাদি সহজে অবহিত হওয়ার জন্য মোবাইল এ্যাপস ‘কতদূর’ চালু করা হয়েছে। বিআরটিসি’র আব্দুল্লাহপুর-মতিঝিল রুটে চলাচলরত এসি বাসসমূহে, গুলশান সার্কুলার রুটে চলাচলরত ঢাকা চাকা’র এসি বাস এবং হাতিরঝিল চক্রাকার বাস রুটে স্মার্ট কার্ড (র‌্যাপিড পাস) ব্যবহার শুরু হয়েছে। বিআরটিসি’র ১৩টি ডিপো, ১টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ৩টি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এর মাধ্যমে জানুয়ারি ২০০৯ থেকে জুন ২০১৮ পর্যন্ত মোট ৪৯ হাজার ৭১৩ জন যুবক ও যুব মহিলাকে মোটর ড্রাইভিং, মোটর মেকানিক, ওয়েল্ডিং ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা
উন্নয়ন বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর