• শুক্রবার   ১৮ জুন ২০২১ ||

  • আষাঢ় ৪ ১৪২৮

  • || ০৯ জ্বিলকদ ১৪৪২

আজকের খুলনা

ফরহাদ রেজার বিধ্বংসী ব্যাটে জয়রথ সচল দোলেশ্বরের

আজকের খুলনা

প্রকাশিত: ৭ জুন ২০২১  

কেনো তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটের অনেক কার্যকর ক্রিকেটার? মধ্য ত্রিশে দাঁড়িয়ে তা আবার চোখে আঙুল দিয়ে প্রমাণ করলেন ফরহাদ রেজা। সোমবার শেরে বাংলায় দলের চরম প্রয়োজনের মুহুর্তে ১১ বলে ২৭ রানের ঝড়ো ইনিংস উপহার দিয়ে প্রাইম দোলেশ্বরের জয়ের নায়ক ফরহাদ রেজা।

লক্ষ্য ছোট ছিল না, জিততে প্রয়োজন ছিল ১৬৩ রান। যেখানে শেষ ওভারে দরকার ছিল ১২ রানের। শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের পেসার সুমন খানের করা ঐ ওভারের দ্বিতীয় বলে লং অনের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে হিসেব সহজ করে ফেলেন দোলেশ্বর অধিনায়ক।

সেই ওভারের পরের ডেলিভারিটি ছিল ফুলটস। ফাইন লেগ আর ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগের মাঝখান দিয়ে চার হাঁকিয়ে স্কোর সমান করে ফেলেন ফরহাদ রেজা। পরের বলে লং অনে পাঠিয়ে সিঙ্গেল নিয়ে প্রাইম দোলেশ্বরকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন অধিনায়ক।

ফরহাদ রেজার ব্যাটে চড়ে পাওয়া ৪ উইকেটের জয়ে জয়রথ সচল থাকল প্রাইম দোলেশ্বরের। ব্রাদার্স ইউনিয়নের সঙ্গে প্রথম ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়ার পর এটা প্রাইম দোলেশ্বরের টানা তৃতীয় জয়।

ওভারপিছু ৮ রানের বেশি তাড়া করতে গিয়ে শুরু থেকেই জয়ের পথে ছিল প্রাইম দোলেশ্বর। ব্যক্তিগত ১৩ রানে জীবন পাওয়া সাইফ হাসান দলকে কক্ষপথেই রাখেন। ইনিংসের ৬.৫ ওভারে পেসার মোহর শেখের বলে তুলে মারতে গিয়ে আকাশে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন সাইফ হাসান। তখন তার রান ছিল ১৩।

কিন্তু শাইনপুকুর অধিনায়ক তৌহিদ হৃদয় তা ধরে রাখতে পারেননি। ঐ জীবন পেয়ে তেড়েফুড়ে খেলতে থাকেন সাইফ। মাত্র ৩৫ বলে ৫০ রানের দারুণ ইনিংস খেলে দলকে এগিয়ে দেন অনেকটা। মাত্র ৩৪ বলে চারটি বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে হাফসেঞ্চুরি ছোঁয়ার পরের বলেই বোল্ড হয়ে যান সাইফ।

তিনি প্রথম ছক্কা হাঁকান পেসার সুমন খানের বলে সোজা ব্যাটে। তারপরের ছক্কাটি আসে অফস্পিনার রবিউল ইসলাম রবির শর্ট বলে পুল করে। গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের সামনে গিয়ে আছড়ে পড়ে সেই বিশাল ছক্কা। তার পরের ছক্কা দুটি বাঁহাতি স্পিনার তানভির ইসলামের বলে। প্রথমটি স্লগ সুইপ করে ডিপ মিডউইকেটের ওপর দিয়ে। আর পরের ছক্কাটি ছিল শর্ট বলে পুল করে ডিপ মিডউইকেটের ওপর দিয়ে।

ঠিক পরের বলে আবার পুল খেলতে গিয়ে বোল্ড। ঐ ডেলিভারিটি ঠিক পুল খেলে ছক্কা হাঁকানোর মত শর্ট ছিল না। তারপর প্রাইম দোলেশ্বরকে ম্যাচে ধরে রাখেন দুই ম্যাচ উইনার শামিম পাটোয়ারি (১৬ বলে ২২) আর ফজলে মাহমুদ রাব্বি (৩৩ বলে ৪১)। অনেক পরিণত আর অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের গায়ে যে তকমা লাগেনি, দুই মৌসুম না যেতেই সেই ম্যাচ উইনারের তকমা লেগেছে তরুণে শামিম পাটোয়ারির গায়ে।

আজ শেরে বাংলায় চাঁদপুরের এ ২০ বছরের সাহসী যুবার সামনে সুযোগ ছিল ম্যাচ জিতিয়ে বিজয়ীর বেশে সাজঘরে ফেরার। প্রথমে পেসার সাব্বির হোসেনকে আর পরে ইফতেখার সাজ্জাদ রনিকে লং অনের ওপর দিয়ে একজোড়া বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে সে সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন শামিম পাটোয়ারি।

কিন্তু বেড়ে যাওয়া লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে গিয়ে একটু বেশি চালিয়ে খেলতে যান শামিম। পেসার মোহর শেখের বলকে এক্সট্রা কভারের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ডিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। তারও আগে মোহর শেখের বলে লং অফে সাব্বির হোসেনের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ফজলে রাব্বিও।

এরপর উইকেটে এসেই রান আউট হয়ে যান মার্শাল আইয়ুব (০)। তারপর বাকি কাজটুকু সারেন অভিজ্ঞ ফরহাদ রেজা। নিজের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস ও আস্থা রেখে শেষ ওভারে গিয়ে ছক্কা ও বাউন্ডারি হাঁকিয়ে প্রকৃত ম্যাচ উইনারের মত দল জিতিয়েই সাজঘরে ফেরেন প্রাইম দোলেশ্বর অধিনায়ক। তাদের ড্রেসিংরুম আর ডাগআউটে তখন আনন্দের ফল্গুধারা।

এর আগে শাইনপুকুরের শুরুটা দেখে মনে হচ্ছিল রান বন্যায় ভাসবে শেরে বাংলা। পয়েন্ট তালিকায় আবাহনী ও মোহামেডানের পর তিন নম্বরে থাকা প্রাইম দোলেশ্বরের বিপক্ষে বড়সড় স্কোর গড়ে তুলবে শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব। শেষ পর্যন্ত বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করাতে না পারলেও, দোলেশ্বরের সামনে ১৬৩ রানের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় শাইনপুকুর।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম (১৬ বলে ২৫) আর সাব্বির হোসেন (১৯ বলে ৩৬) শুরু করেছিলেন ঝড়ের গতিতে। ঢাকার ক্লাব ক্রিকেট তথা ঘরোয়া আসরের অভিজ্ঞ ও সফল যোদ্ধা ফরহাদ রেজাকে বেদম মেরে শুরু করেন শাইন পুকুরের দুই তরুণ ওপেনার।

কিন্তু ৪.৩ ওভারে ৪৯ রানে উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর থেকেই রান গতি কমে যেতে থাকে। অফস্পিনার শামিম পাটোয়ারির বলে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে আউট হন তানজিদ তামিম। বলের পেছনে শরীর না নিয়ে বড় শট খেলার চেষ্টা ব্যর্থ হয় বাঁহাতি তামিমের। আকাশে ওঠা ক্যাচ নিজের বলে নিজেই পিচের ৫ গজ দূরে দাড়িয়ে ধরে ফেলেন শামিম পাটোয়ারি।

এরপর সাব্বির আরও অল্প কিছুক্ষন উইকেটে থেকে কিছু বড় শট খেলেন, দুটি বিশাল ছক্কাও হাঁকান। কিন্তু ডানহাতি পেসার রেজাউর রহমান রাজার বলে পুল খেলতে গিয়ে আকাশে তুলে দেন সাব্বির। তার ১৯ বলে খেলা ৩৬ রানের ইনিংসটি শেষ হবার পর থেকেই রান গতি স্লথ হয়ে যায়।

তারপরও হাল ধরেন রবিউল ইসলাম রবি আর মাহিদুল ইসলাম অংকন। রবি (৩৬ বলে ৩৪) সেভাবে হাত খুলে খেলতে না পারলেও, অংকন ৩২ বলে ৪৪ রানের এক আক্রমণাত্মক ইনিংস খেলেন। সেই ইনিংসের ওপর ভর করেই ২০ ওভার শেষে ১৬২ (৭ উইকেটে) রানের লড়িয়ে পুঁজি পায় শাইনপুকুর।

ইনিংসের শেষ বলে তুখোড় ফিল্ডার শামিম পাটোয়ারির দারুণ ক্যাচের শিকার হন অংকন। ফরহাদ রেজার বলে তুলে মেরেছিলেন শাইন পুকুরের উইকেটকিপার কাম মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। ডিপ মিড উইকেট থেকে অনেক দূর দৌড়ে শেষ মুহুর্তে সামনে শরীর ফেলে অসাধারণ দক্ষতায় ক্যাচ ধরে অংকনকে ফেরান শামিম পাটোয়ারি।

ম্যাচে ঐ একটি উইকেটই পেয়েছেন ফরহাদ রেজা। তার ৪ ওভার থেকে ৪৮ রান তুলে নিয়েছেন শাইন পুকুরের তরুন ব্যাটসম্যানরা। দারুন ক্যাচ লোফাই শুধু নয়, বল হাতেও নিজেকে মেলে ধরেছেন তরুন শামিম পাটোয়ারি। ৪ ওভারে ২১ রানে দুই উইকেট দখল করেছেন তিনি। এছাড়া পেসার রেজাউর রহমানও দুই উইকেট (৪ ওভারে ২২ রান দিয়ে) শিকারী।

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা