• রোববার   ০৫ জুলাই ২০২০ ||

  • আষাঢ় ২১ ১৪২৭

  • || ১৪ জ্বিলকদ ১৪৪১

আজকের খুলনা
২১৬

পিঁয়াজের পর লবন কারসাজি : সরকারকে বিব্রত করার গভীর নীলনকশা

আজকের খুলনা

প্রকাশিত: ১৯ নভেম্বর ২০১৯  

সরকারকে বিব্রত করার গভীর নীলনকশায় এবার যুক্ত হলো ‘লবন কারসাজি’। এর আগে পিঁয়াজ নিয়ে এই মিশনে নেমেছিল একটি সিন্ডিকেট। এখন সেই একই সিন্ডিকেট লবনের মূল্য বাড়িয়ে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থার জায়গাতে চির ধরাতে চাইছে। তবে সরকার আগাম কঠোর ব্যবস্থা নেয়ায় ‘লবন কারসাজি’ কার্যত ব্যর্থ হতে বসেছে। বিচ্ছিন্নভাবে দেশের কয়েকটি জায়গায় ব্যবসায়ীরা লবনের দাম বাড়িয়ে দিলেও আইন শৃংখলা বাহিনীর তাৎক্ষনিক অভিযানে তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশে পর্যাপ্ত লবনের মজুদ রয়েছে, তাই লবন সংকটের কোনো কারণ নেই। এরফলে জনগণ অনেকটাই আশ^স্ত হয়েছে।    


পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দেশে পিঁয়াজের সরবরাহ ও মজুদ সন্তোষজনক হলেও একটি সিন্ডিকেট অবৈধ মজুদদারীর মাধ্যমে ক’দিন আগে পিঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দিয়েছিল। আমদানীকারকদের গুদামে হাজার হাজার টন পিঁয়াজ থাকলেও তারা তা গুদামেই রেখে দেয়। সাধারণত, বাংলাদেশে অক্টোবর-নভেম্বর মাসে পিঁয়াজের দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে থাকে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পিঁয়াজের দাম আড়াই শ’ টাকার উপরে নিয়ে যাওয়া হয়। স্বাভাবিকভাবেই অনাকাঙ্খিত এ চক্রান্ত মোকাবেলার জন্য সরকার বা দেশের মানুষের তেমন কোনো পূর্ব প্রস্তুতি ছিল না। বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে, এ সিন্ডিকেটের উদ্দেশ্য ছিল, পিঁয়াজের দাম জনগণের ক্রয় সীমার বাইরে নিয়ে গেলে জনঅসন্তোষ সৃষ্টি হবে সরকারের বিরুদ্ধে, একই সাথে বাড়তি মুনাফা লুটা যাবে। বাড়তি মুনাফা লুটতে কিছুটা সফল হলেও সিন্ডিকেটটি সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট করতে পারেনি। সংকট দেখা দিতেই সরকার বিভিন্ন দেশ থেকে দ্রæত পিঁয়াজ আমাদানীর ব্যবস্থা নেয়। একই সাথে বিভিন্ন বাজার ও আড়তে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান চালানো হয়। সরকারের কঠোর ব্যবস্থার কারণে এক পর্যায়ে মজুদদার সিন্ডিকেটটি তাদের গুদামে থাকা বিপুল পরিমান পিঁয়াজ নদনদী খাল বিলে ফেলে দিতে বাধ্য হয়। যার সচিত্র প্রতিবেদন বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। 


পিঁয়াজ কান্ডের পর নতুন নীলনকশায় ওই সিন্ডিকেট লবনের মূল্য বৃদ্ধির চেষ্টা করছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারের অব্যহত উন্নয়ন এবং দূর্ণীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণে একটি মহল সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ রয়েছে। এই মহলের সাথে রয়েছে কিছু রাজনৈতিক দলের নেতা, যারা জনগণের কাছে উপেক্ষিত কিন্তু ক্ষমতার জন্য লালায়িত। তাদের ধারণা, কোনো আন্দোলন করে বর্তমান সরকারকে হঠানো যাবে না। কারণ বিপুল জনপ্রিয়তা ও জনসমর্থন রয়েছে আওয়ামীলীগ সরকারের প্রতি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ষড়যন্ত্র করে বারবার বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র প্রমানের চেষ্টাকারী এই সিন্ডিকেট সুপরিকল্পিতভাবে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি, আইন শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোসহ নানা ধরণের নাশকতা ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তারাই ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের সাথে হাত মিলিয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চাইছে।
লবন নিয়ে কারসাজি রুখতে সরকার প্রয়োজনী সব ব্যবস্থাই গ্রহণ করেছে। আইন শৃংখলা বাহিনীকে মাঠে নামানো হয়েছে। খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। কোথাও অতিরিক্ত দামে লবন বিক্রি করলে তা সাথে সাথে জানানো জন্য হটলাইন খোলা হয়েছে। অবৈধভাবে লবন মজুদদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে ভ্রাম্যমান আদালতগুলোকে। লবন নিয়ে কোনো গুজবে কান না দেয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে জনগণকে সতর্ক করা হয়েছে। কাজেই আশা করা যাচ্ছে, নিমক নিয়ে নিমক হারামি করতে পারবে না দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীরা।    
 

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা
জাতীয় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর