• বুধবার   ২৮ অক্টোবর ২০২০ ||

  • কার্তিক ১৩ ১৪২৭

  • || ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

আজকের খুলনা

নফসের খাহেশাত থেকে নিজকে বাচানোর উপায়...

আজকের খুলনা

প্রকাশিত: ২৭ আগস্ট ২০২০  

মাঝে মাঝে আমরা নফসের খাহেশাত এর সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যাই। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছি যে, মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা আমাদের যা দিয়েছেন বা যেভাবে রেখেছেন তাই উত্তম।

আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআনুল কারিমের সূরা আল বাকারার ২৮৬তম আয়াতে ইরশাদ করেন,

‘আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোনো বোঝা চাপিয়ে দেন না।’

আর তাই মানুষের চাহিদাগুলো মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা খুবই সংক্ষিপ্ত করে দিয়েছেন, মানুষ চাইলেও তা বাড়াতে পারবে না!

যেমন: দুই বেলার খাবার সে একসঙ্গে খেতে পারবে না, দুই জায়গায় একই সময়ে অবস্থান করতে পারবে না, দুইটি বিছানায় একই সময়ে ঘুমাতে পারবে না, দুই জোড়া জুতা একসঙ্গে পরিধান করতে পারবে না, ইত্যাদি......

এখানে এটা পরিষ্কার হলো, যদি কেউ সারা দুনিয়ার বাদশাহিও হাতের মুঠোয় পেয়ে যায় তবুও সে তার চাহিদা বা প্রয়োজনকে এক রতি বাড়াতে পারবে না!

যদি বাড়াতে চায় তাহলে হয়তো সে মরবে নয়তো পাগল হয়ে যাবে।

যদি সে কয়েক বেলার খাবার এক সঙ্গে খেতে চায় এবং চেষ্টা করে, তবে নিঃসন্দেহে পেট ফেটে মরবে, যদি দুই জোড়া জুতা একসঙ্গে পরিধান করার চেষ্টা করে অথবা কোনোভাবে করেই ফেলে, তবে মানুষ তাকে পাগল বলবে মাথাখারাপ বলবে!

যদি সে তার ২০ তলা বাড়ির ৮০টি বিছানায় একসঙ্গে ঘুমাতে চায় তবে তা পারবে না, যদি সে একেকটি বিছানায় ১০ মিনিট করে পিঠ লাগানো শুরু করে দেয়, তবে সারা রাত পার হয়ে যাবে, সে তার সবগুলো বিছানায় পিঠও লাগাতে পারবে না! 

একসময় ক্লান্তি নিয়ে বেহুশ হয়ে যাবে, গোটা রাত্রিতে এক মিনিটও সে ঘুমাতে পারবে না, কেননা, ঘুমানোর জন্য তো একটি বিছানাই যথেষ্ট ছিল!! কিন্তু তারপরও মানুষ কত পেরেশান! কত নির্বোধ! নফসের ধোকায় সে জরুরতকে ভুলে খাহেশাতকেই জরুরত বানিয়ে নিয়েছে!

যে কারণে তার জরুরত কোনোদিনও পুরা হবার নয়, সে যত বেশি পাবে তার চাহিদা পুরা হবে না বরং এই খাহেশাতের তীব্র পিপাসা তাকে আরো বেশি অভাবী বানিয়ে দেবে!

১০০ তলা বিল্ডিং বানানোর পরও ছাদের ওপরে রড আর পিলারগুলো খাড়া হয়ে থাকবে, অর্থাৎ ১০০ তলা দিয়েও হবে না আরো লাগবে!! হাজার, হাজার কোটি টাকার মালিক, মিল, ফ্যাক্টরি ইন্ডাস্ট্রির মালিক হওয়া সত্বেও সে আরো বেশি কিছু পাবার নেশায় পেরেশান হয়ে যাবে!!

কোনো ব্যক্তি যদি তীব্র পিপাসায় সমুদ্রের লবণাক্ত পানি পান করে, তবে তার পিপাসা নিবারণ হবে না বরং আরো বেশি তীব্র হয়ে যাবে। সে যদি পিপাসা মেটানোর জন্য পূনরায় লবণাক্ত পানিই পান করতে থাকে, তবে তার পিপাসা আরো বেশি তীব্র হবে, এভাবে যদি সে তার পিপাসা নিবারণের জন্য লবণাক্ত পানি পান করতেই থাকে, এক সময় তো পেট ফেটে মরে যাবে তবুও তার পিপাসা নিবারণ হবে না বরং সে আরো বেশি পিপাসা নিয়ে মরবে!!

তেমনি: কেউ যদি নফসের ধোকায় জরুরতকে খাহেশাত বানিয়ে ফেলে, আর খাহেশাতকে জরুরত মনে করতে থাকে, তবে গোটা দুনিয়া তার হাতের মুঠোয় পাওয়া সত্বেও তার চাহিদা মিটবে না বরং সে খাহেশাতের নেশায় অভাব আর পেরেশানী নিয়েই মরবে!

খোদ নবীজি (সা.) বলেন, আমার উম্মতকে যদি দুটি স্বর্ণের ময়দান দেয়া হয়, তবুও সে তৃতীয়টির আশা করবে!! এজন্য, জরুরত আর খাহেশাতের পার্থক্যটা ভালো মতো বুঝতে হবে, একেবারে ভালো মতো বুঝতে হবে, নয়তো নফসের ধোকায় দুনিয়া আখেরাত দুটোই বরবাদ হয়ে যাবে!!

খাহেশাতের থেকে নিজকে বাচানোর একটাই উপায়, তা হলো- সব হালতে আল্লাহ তায়ালার নিয়ামত সমূহের প্রতি দিল থেকে শুকরিয়া আদায় করা!

আর তা তখনই সম্ভব হবে, যখন দুনিয়ার লাইনে নজর নিচের দিকে থাকবে, অর্থাৎ আমার চেয়েও অভাবী, আমার চেয়েও অসহায়, আমার চেয়েও যারা বেশি কষ্টে আছে, তাদের দিকে যখন দেখবো, তাদেরকে নিয়ে যখন চিন্তা করতে থাকবো, তখন আমার প্রতি আমার রবের এহসানগুলো বুঝে আসবে, আর তখন হৃদয়ের গহীন থেকে বেরিয়ে আসবে আলহামদুলিল্লাহ! আমার রব আমাকে অন্যদের চেয়ে হাজার গুন ভালো রেখেছেন!! 

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা