আজকের খুলনা
ব্রেকিং:
করাচি থেকে আসলো পেঁয়াজের প্রথম চালান করাচি থেকে ৮২ টন পিঁয়াজ নিয়ে ঢাকায় পৌছেছে কার্গো বিমান বগুড়ায় যুবলীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা রাজধানী সুপার মার্কেটের আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ২৯টি ইউনিট ময়মনসিংহে ৭০০০ কেজি লবণ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪ রাজধানীতে ধর্মঘট প্রত্যাহার, যান চলাচল স্বাভাবিক প্রস্তুত এনসিটিবি, চলতি মাসেই শতভাগ নতুন বই

বুধবার   ২০ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৬ ১৪২৬   ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

আজকের খুলনা
সর্বশেষ:
খুলনার সহকারী কর কমিশনারের জামিন নামঞ্জুর নোয়াখালীতে আ’লীগের সম্মেলনে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১০৪ কসবায় ট্রেন দুর্ঘটনা : ৫ সুপারিশ তদন্ত কমিটির রিফাত হত্যা মামলায় চার্জ গঠন ২৮ নভেম্বর ভারতে ব্যাংক জালিয়াতি, বাংলাদেশিসহ আটক ৪ আগামী তিনদিনে তাপমাত্রা আরো কমবে দেশব্যাপী চলছে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিকদের কর্মবিরতি কর্মবিরতি প্রত্যাহার, বরিশালে বাস চলাচল স্বাভাবিক সাতক্ষীরায় সড়ক দুর্ঘটনায় ভ্যান চালক নিহত ধর্মঘট প্রত্যাহারের আহ্বান যাত্রী কল্যাণ সমিতির
২২৬

তারেকের ওপর অতিষ্ট খোকা পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন

ঢাকা অফিস

প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০১৯  

তারেকের ওপর অতিষ্ট হয়ে সাদেক হোসেন খোকা বিএনপি থেকে পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। 

শুধু বিএনপি নয়, রাজনৈতিক অঙ্গনে যারা খোঁজখবর রাখেন তারা সবাই জানেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার সঙ্গে সাদেক হোসেন খোকার সম্পর্কে টানা’পোড়েন ছিল। সাদেক হোসেন খোকা যেমন তারেকের নেতৃত্ব মেনে নিতে পারেননি, তেমনি তারেক জিয়াও সাদেক হোসেন খোকাকে পছন্দ করতেন না। সাদেক হোসেন খোকাকে নেতৃত্ব থেকে সরানোর জন্য তারেক জিয়া সব চেষ্টাই করেছিলেন। কিন্তু খোকার জনপ্রিয়তা এবং খালেদা জিয়ার স্নেহের কারণে শেষ পর্যন্ত তারেক জিয়া বিএনপি থেকে খোকাকে সরিয়ে দিতে পারেননি। কিন্তু তারেক জিয়া এবং খোকার মধ্যে অনেকগুলো বিষয়ে প্রকাশ্যে বিরোধ ছিল। এই বিরোধের জন্য প্রকাশ্যে ঝগড়া এবং বাহাসের মত ঘটনা ঘটে, যা এখনো বিএনপিতে কান পাতলেই শোনা যায়। এই বিরোধে ৫টি বাহা’স অত্যন্ত আলোচিত। এই বাহাসগুলোগুলো হলো;


২০০১ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুকে অসম্মান করা: ২০০১ সালে বিএনপি যে নির্বাচনী প্রচার কৌশল নিয়ে এসেছিল সেখানে আক্রমন করা হয়েছিল জাতির পিতা শেখ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। কিন্তু নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির বৈঠকে সাদেক হোসেন খোকা এই ব্যাপারে আপত্তি উত্থাপন করেছিলেন। তিনি ওই নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাতে বলেছিলেন যে, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যদি আমরা কটূক্তি এবং সমালোচনা বন্ধ করি তাহলে আওয়ামী লীগও জিয়াউর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি এবং সমালোচনা করবে। ওই বৈঠকে খোকা এটাও বলেছেন যে, বঙ্গবন্ধু এবং জিয়াউর রহমানকে সবকিছুর উর্ধ্বে রাখা হোক। ওই বৈঠকে তারেক জিয়ার সঙ্গে খোকার উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। তারেক জিয়া তাকে আওয়ামী লীগের দালাল হিসাবে চিহ্নিত করেন। সাদেক হোসেন খোকা তাকে নাবালক রাজনীতিবিদ হিসাবে অভিহিত করেন।


হাওয়া ভবনে যাওয়া নিয়ে খোকা-তারেক বিতর্ক : সাদেক হোসেন খোকা ছিলেন সেই রাজনীতিবিদদের একজন যিনি কখনো হাওয়া ভবনে যেতেন না। এ নিয়ে তারেক জিয়ার সঙ্গে তার মনোমালিন্য চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সাদেক হোসেন খোকা দাপ্তরিক কাজে গিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার জন্য। সে সময় তারেক জিয়া বেগম খালেদা জিয়ার কক্ষে প্রবেশ করে বেগম খালেদা জিয়াকে ভর্ৎ’সনা করেন। তিনি সিটি করপোরেশনের কাজ কিভাবে হচ্ছে? আওয়ামী লীগের লোক কিভাবে পাচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন করতে থাকেন। তিনি হাওয়া ভবনে কেন যান না, তাতে তার কি সমস্যা তা নিয়ে উচ্চ’স্বরে কথা বলতে থাকেন। জবাবে বেগম খালেদা জিয়ার সামনেই সাদেক হোসেন খোকা বলেন, দরকার হলে রাজনীতি ছেড়ে দেবো কিন্তু হাওয়া ভবনের রাজনীতি করি না। আমি খালেদা জিয়া এবং জিয়াউর রহমানের রাজনীতি করি। অন্য কারো রাজনীতি করি না। আমি কারো ক্রীতদাস নই আর হাওয়া ভবন কোন রাজনৈতিক কার্যালয় নয়। রাজনৈতিক কার্যালয় ছাড়া আমি যাবো না। বেগম খালেদা জিয়ার মধ্যস্থতায় এই বি’তর্কের অবসান ঘটলেও মনোমা’লিন্যের অবসান ঘটেনি।


একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলা : একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনাটি যখন ঘটে তখন খোকা ছিলেন সিটি করপোরেশনে। এই ঘটনা ঘটার পরপরই নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে তিনি চলে আসেন। সেখানে তিনি তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরকে ডেকে আনেন। বাবর এসে এই ঘটনার আদ্যোপান্ত বর্ণনা দেন। বাবরের কাছে সেদিনই তিনি শোনেন এই ঘটনার পেছনে রয়েছে তারেক জিয়া। খোকা তারেক জিয়াকে তীব্র ভর্ৎসনা এবং গালাগালি করেন। এরপর বেগম খালেদা জিয়া সঙ্গে দেখা করার জন্য ক্যান্টনমেন্টের বাসায় দেখা করতে যান সাদেক হোসেন খোকা। সেখানে গিয়ে তিনি তারেক জিয়াকে সন্ত্রাসী রাজনীতির জন্য দায়ী করেন। এর পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন। তারেক জিয়াকে স্পষ্ট করে বলেন, এই কাজটি আপনি ঠিক করেননি। তারেক জিয়া তাকে ভর্ৎসনা করেন এবং তাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। ওইদিন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ না করেই সাদেক হোসেন খোকা ফিরে আসেন।

বিএনপির নেতৃত্ব প্রসঙ্গ : সাদেক হোসেন খোকা সবসময় চেয়েছিলেন বিএনপিতে তরুণ নেতৃ’ত্ব গড়ে উঠুক। যারা তরুণ তৃণমূল থেকে বিএনপির আদর্শের রাজনীতি করে তাদেরকে রাজনীতিতে নিয়ে আসার পক্ষ’পাতিত্বে ছিলেন খোকা। তারেক জিয়া ছিলেন তার বিপরীত। তারেক জিয়া সবসময় তার অনুগতদের থেকে নেতৃত্ব গঠন করতে চেয়েছিলেন। এনিয়ে তারেকের সঙ্গে সাদেক হোসেন খোকার ২০১১ সালে তী’ব্র বাদানুবাদ হয় বলেও জানা গেছে। দুজন টেলিফোনে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করেন। সে সময় তারেক জিয়া সাদেক হোসেন খোকাকে দল ছাড়ার জন্য বলেন। এর পরপরই সাদেক হোসেন খোকা বেগম খালেদা জিয়ার কাছে পদত্যা’গপত্র দিয়েছিলেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার অনুরোধে এই পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করে নেন।


২০১৪ সালের নির্বাচন : ২০১৪ সালে নির্বাচনের ব্যাপারে সাদেক হোসেন খোকা ছিলেন নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে। তিনি বেগম খালেদা জিয়াকে অনুরোধ করেছিলেন নির্বাচনে যেন বিএনপি যায়। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া অনড় অবস্থানে ছিলেন। এরপর তিনি বেগম খালেদা জিয়া যাতে রাজি হয় এজন্য তারেকের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছিলেন। কিন্তু তাদের কথোপকথন সুখের ছিল না। দুই জনই পরস্পর পরস্পরকে দোষারোপ করেন। 

এসমস্ত প্রকাশ্য বি’রোধ ছাড়াও দুজনের মধ্যে অনেকগুলো বিষয়ে দ্বন্দ্ব ছিলো। যেগুলো হয়তো ইতিহাসের অন্ধ’কারেই থেকে যাবে।

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা
এই বিভাগের আরো খবর