আজকের খুলনা
ব্রেকিং:
তিস্তা নদীশাসনে বড় প্রকল্প নেয়া হচ্ছে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গারা যেন ভোটার হতে না পারে : সিইসি জিয়াউর রহমান দেশে প্রথম জুয়া চালু করেছিলো : হানিফ ছাত্রলীগ-যুবলীগই নয়, আ.লীগের অনেকেও নজরদারিতে: কাদের রাজশাহীর চারঘাট স্লুইচগেটের নিচে ৪টি গলিত মরদেহ ভেসে এসেছে, ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছেছে

শুক্রবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৫ ১৪২৬   ২০ মুহররম ১৪৪১

আজকের খুলনা
সর্বশেষ:
খুলনা মহানগরে ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারী আটক চাঁদপুরে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু সোনাইমুড়ীতে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার মধুপুরে ট্রাকচাপায় ভ্যান চালক নিহত চাঁপাইনবানগঞ্জে যুবকের কবজি কাটার ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ গ্রেপ্তার ৪
২৯৬

ডুমুরিয়ায় কিশোরী রূপার মৃত্যু নিয়ে গুঞ্জন! হত্যা নাকি আত্মহত্যা?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

খুলনার ডুমুরিয়ায় কিশোরী রুপা খাতুনের মৃত্যু নিয়ে গুঞ্জন উঠেছে। ঘটনাটি স্রেফ আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা, তা নিয়ে চলছে ব্যাপক গুঞ্জন।

বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যানের নিজস্ব ইটের ভাটার পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া মৃতদেহটি ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে আরেকটি স্থানে উদ্ধার দেখিয়ে পুলিশ আরো বেশী রহস্যের সৃষ্টি করেছে। এলাকাবাসির অভিযোগ, ধর্ষণের পর হত্যা করে সুকৌশলে ইটভাটায় রুপা খাতুনের মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়। খুনীদের রক্ষা করতে পুলিশ মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাস্থল এজাহারে ভিন্ন দেখিয়েছে। 

মোড়েলগঞ্জ উপজেলার কামলা গ্রামের রফিকুল ইসলামের মেয়ে রুপা খাতুন ডুমুরিয়া উপজেলার শরাফপুর ইউনিয়নের তৈয়বপুর গ্রামে তার নানা মফিজ সরদারের বাড়িতে থেকে পড়াশুনা করতো। স্থানীয় বানিয়াখালি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল সে।

স্থানীয়রা জানান, গত শুক্রবার দিবাগত রাতে তৈয়বপুরের বাড়ি থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে শাহাপুরস্থ সেতু ব্রিক্স নামক ইটের ভাটায় তার ঝুলন্ত মৃতদেহ পাওয়া যায়। ইটের ভাটাটি বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান এজাজ আহমেদ এর। ভোর নাগাদ রুপা খাতুনের পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে না জানিয়েই লাশটি মিনি ট্রাকযোগে বাড়ি নিয়ে যায়। অপমৃত্যু ও ধর্ষণের অভিযোগ ওঠায় পুলিশ তৈয়বপুর থেকে লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য খুমেক হাসপাতালে পাঠায়।

এদিকে, পুলিশ এজাহারে উল্লেখ করে, ‘রুপা খাতুনের মরদেহ শুক্রবার রাতে শরাফপুর ইউনিয়নের তৈয়বপুর গ্রামে নানা বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়, ইউডি মামলা নং ৪৪/১৯, তারিখ ০৬/০৯/২০১৯।’

পুলিশের এজাহারের মৃত্যুর স্থান শাহাপুর ইটভাটা না দেখিয়ে শরাফপুর ইউনিয়নের তৈয়বপুর দেখানোর কারণে আরো বেশী রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ধর্ষণের পর হত্যা করে তাকে ইটভাটায় ঝুলিয়ে রাখা হয়, কিন্তু অর্থের বিনিময়ে খুনীদের রক্ষা করতে পুলিশ এজাহারে প্রকৃত ঘটনাস্থল গোপন করে। হত্যার আগে রুপা খাতুনকে ধর্ষণ করা হয়ে থাকতে পারে বলেও এলাকাবাসির অভিযোগ। এঘটনায় এলাকার প্রভাবশালীরা জড়িত। ঘটনার পর তারাই রুপার পরিবারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে লাশ শাহাপুর থেকে তৈয়বপুর পাঠিয়ে দেয়। ট্রাক চালক ও রুপার পরিবারের সদস্যদের যথাযথভাবে জিজ্ঞাসা করলে প্রকৃত বিষয়টি জানা যাবে।    

ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বিপ্লব জানান, ধর্ষণের অভিযোগ ওঠায় ও মৃত্যুটি রহস্যজনক মনে হওয়ায় ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে বলা যাবে এটি ধর্ষণ পূর্বক হত্যা নাকি আত্মহত্যা।

তিনি আরো জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, শাহাপুরে রুপা খাতুন আত্মহত্যা করে। তার পরিবার খবর পেয়ে ওই রাতেই লাশটি তৈয়বপুর নিয়ে যায়। পুলিশ সেখান থেকে লাশটি উদ্ধার করে।  

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডুমুরিয়া-ফুলতলা সার্কেল) সজিব খান জানিয়েছেন, রুপা খাতুনের মৃত্যুর বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে তার মৃত্যুর সঠিক কারণ। ধর্ষণ ও হত্যার মতো ঘটনা হয়ে থাকলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।  

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা
এই বিভাগের আরো খবর