আজকের খুলনা
ব্রেকিং:
সিরাজগঞ্জে অটো রিক্সা ও মোটরসাইকেল মুখোমুখী সংঘর্ষে নিহত ২ সাতক্ষীরায় কলেজ ছাত্রের মৃতদেহ উদ্ধার, আটক ১ মিয়ানমারের আপত্তি গ্রহণযোগ্য নয়, মামলা চলবে : আইসিজে সীমান্তে বিএসএফের হাতে ঝরলো ৪ বাংলাদেশীর প্রাণ পদ্মা সেতুতে বসানো হলো ২২ তম স্প্যান চট্টগ্রাম-৮ আসনে নবনির্বাচিত এমপি মোছলেম উদ্দিন হাসপাতালে চবিতে সংঘর্ষের জেরে শাটল ট্রেন বন্ধ, ২০ ছাত্রলীগ কর্মী আটক

শুক্রবার   ২৪ জানুয়ারি ২০২০   মাঘ ১১ ১৪২৬   ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

আজকের খুলনা
সর্বশেষ:
নারায়ণগঞ্জে ধর্ষককে পালাতে সহায়তা করায় যুবলীগ নেতা বহিষ্কার নোয়াখালীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতা নিহত সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত ইউজিসির রাজধানীতে ফেসবুকে করুণ স্ট্যাটাস দিয়ে পুলিশ সদস্যের আত্মহনন যশোরে গরু চোর সন্দেহে গণপিটুনি, নিহত ১
৪৫৪

ডুমুরিয়ায় কিশোরী রূপার মৃত্যু নিয়ে গুঞ্জন! হত্যা নাকি আত্মহত্যা?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

খুলনার ডুমুরিয়ায় কিশোরী রুপা খাতুনের মৃত্যু নিয়ে গুঞ্জন উঠেছে। ঘটনাটি স্রেফ আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা, তা নিয়ে চলছে ব্যাপক গুঞ্জন।

বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যানের নিজস্ব ইটের ভাটার পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া মৃতদেহটি ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে আরেকটি স্থানে উদ্ধার দেখিয়ে পুলিশ আরো বেশী রহস্যের সৃষ্টি করেছে। এলাকাবাসির অভিযোগ, ধর্ষণের পর হত্যা করে সুকৌশলে ইটভাটায় রুপা খাতুনের মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়। খুনীদের রক্ষা করতে পুলিশ মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাস্থল এজাহারে ভিন্ন দেখিয়েছে। 

মোড়েলগঞ্জ উপজেলার কামলা গ্রামের রফিকুল ইসলামের মেয়ে রুপা খাতুন ডুমুরিয়া উপজেলার শরাফপুর ইউনিয়নের তৈয়বপুর গ্রামে তার নানা মফিজ সরদারের বাড়িতে থেকে পড়াশুনা করতো। স্থানীয় বানিয়াখালি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল সে।

স্থানীয়রা জানান, গত শুক্রবার দিবাগত রাতে তৈয়বপুরের বাড়ি থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে শাহাপুরস্থ সেতু ব্রিক্স নামক ইটের ভাটায় তার ঝুলন্ত মৃতদেহ পাওয়া যায়। ইটের ভাটাটি বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান এজাজ আহমেদ এর। ভোর নাগাদ রুপা খাতুনের পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে না জানিয়েই লাশটি মিনি ট্রাকযোগে বাড়ি নিয়ে যায়। অপমৃত্যু ও ধর্ষণের অভিযোগ ওঠায় পুলিশ তৈয়বপুর থেকে লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য খুমেক হাসপাতালে পাঠায়।

এদিকে, পুলিশ এজাহারে উল্লেখ করে, ‘রুপা খাতুনের মরদেহ শুক্রবার রাতে শরাফপুর ইউনিয়নের তৈয়বপুর গ্রামে নানা বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়, ইউডি মামলা নং ৪৪/১৯, তারিখ ০৬/০৯/২০১৯।’

পুলিশের এজাহারের মৃত্যুর স্থান শাহাপুর ইটভাটা না দেখিয়ে শরাফপুর ইউনিয়নের তৈয়বপুর দেখানোর কারণে আরো বেশী রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ধর্ষণের পর হত্যা করে তাকে ইটভাটায় ঝুলিয়ে রাখা হয়, কিন্তু অর্থের বিনিময়ে খুনীদের রক্ষা করতে পুলিশ এজাহারে প্রকৃত ঘটনাস্থল গোপন করে। হত্যার আগে রুপা খাতুনকে ধর্ষণ করা হয়ে থাকতে পারে বলেও এলাকাবাসির অভিযোগ। এঘটনায় এলাকার প্রভাবশালীরা জড়িত। ঘটনার পর তারাই রুপার পরিবারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে লাশ শাহাপুর থেকে তৈয়বপুর পাঠিয়ে দেয়। ট্রাক চালক ও রুপার পরিবারের সদস্যদের যথাযথভাবে জিজ্ঞাসা করলে প্রকৃত বিষয়টি জানা যাবে।    

ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বিপ্লব জানান, ধর্ষণের অভিযোগ ওঠায় ও মৃত্যুটি রহস্যজনক মনে হওয়ায় ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে বলা যাবে এটি ধর্ষণ পূর্বক হত্যা নাকি আত্মহত্যা।

তিনি আরো জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, শাহাপুরে রুপা খাতুন আত্মহত্যা করে। তার পরিবার খবর পেয়ে ওই রাতেই লাশটি তৈয়বপুর নিয়ে যায়। পুলিশ সেখান থেকে লাশটি উদ্ধার করে।  

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডুমুরিয়া-ফুলতলা সার্কেল) সজিব খান জানিয়েছেন, রুপা খাতুনের মৃত্যুর বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে তার মৃত্যুর সঠিক কারণ। ধর্ষণ ও হত্যার মতো ঘটনা হয়ে থাকলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।  

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা
এই বিভাগের আরো খবর