• শুক্রবার   ১০ এপ্রিল ২০২০ ||

  • চৈত্র ২৬ ১৪২৬

  • || ১৬ শা'বান ১৪৪১

আজকের খুলনা
সর্বশেষ:
শবে বরাতের মাহাত্মে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানব কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে হবে:প্রধানমন্ত্রী ২৪ ঘণ্টায় ১১২ জনের করোনা শনাক্ত, মৃত ১ মানবিক আচরণের আহ্বান মানবাধিকার কমিশনের খুলনায় সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখায় ৩০ জনকে জরিমানা শবেবরাতে একাকী ইবাদত রাসুলের সহিহ হাদিস থেকে প্রমাণিত:আল্লামা শফী বঙ্গবন্ধু নিয়ে কটুক্তির অভিযোগে ইবি শিক্ষার্থী বহিষ্কার মাজেদের প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত হচ্ছেন জাবেদ পাটোয়ারী শবেবরাতে আজ ঘরে থেকেই ইবাদত করার আহ্বান খুলনা জেলা লক ডাউন ঘোষণা
২৪০

ডুমুরিয়ায় কচুর লতি চাষে শুভ’র ভাগ্য বদল

আজকের খুলনা

প্রকাশিত: ৬ জানুয়ারি ২০২০  

কচুর লতির চাষাবাদে অল্প দিনে ভাগ্য বদলাতে শুরু করেছে ডুমুরিয়ার কলেজ পড়–য়া শুভ। যে বয়সে আর দশটা ছেলে-মেয়ে খেলাধুলা আর পড়ালেখায় সময় কাটিয়েছে। কিন্তু সেই সময়ে শুভ কাটিয়েছে পড়ালেখা, টিউশনি আর ক্ষুদ্র ব্যবসায়। নানা প্রতিকুলতায়ও থেমে না থেকে মায়ের উৎসাহে এগিয়েছেন পথ। আজ আর চাকরি নয়, তার আশা কৃষি ক্ষেত্রে সফল হবেন, এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান বাড়াবেন।

কচুর লতিতে ভাগ্য বদলাতে শুরু করেছে ডুমুরিয়া উপজেলার মোঃ মনিরুজ্জামান শুভ। ৫ম শ্রেণিতে পড়াকালীন সময়ে বাবা মারা যায়। তখন মা বেসরকারি সংস্থায় বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রমে কাজ করে চালিয়েছে দুজনের সংসার। মায়ের বয়স কম থাকায় আত্মীয়-স্বজনেরা তাকে দ্বিতীয় বিয়ে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু মা একমাত্র সন্তানের দিকে তাকিয়ে আর বিয়ে করেননি। মায়ের ইচ্ছা, শত কষ্টের মাঝে করতে হবে পড়ালেখা। এসএসসি পর্যন্ত পড়ালেখার পাশাপাশি চলে টিউশনি। এইচএসসিতে পড়ার সময় হলুদের বীজ, কচুর বীজ এবং রসুনের ব্যবসা শুরু করেন শুভ। পরে টার্কির খামার। প্রতিটি ব্যবসায় সে সফল হয়। এখন সে পড়ছে বিএল কলেজে মাস্টার্স। বাড়ির পাশের যৌথভাবে ১৮ বিঘা জমি লিজ (হারি) নিয়েছে। বছরে প্রতি বিঘা জমির হারি বাবদ দিতে হয় ১০ হাজার টাকা। নিজের বলতে রয়েছে বসতিসহ প্রায় দেড় বিঘা জমি জায়গা। গত বছরের আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে শুর করে লতিরাজ কচুর চাষাবাদ। যশোর থেকে ১৮ হাজার চারা কচু কেনেন। জমিতে রোপণসহ তার চারা প্রতি খরচ হয় প্রায় আড়াই টাকা। ১ বিঘা জমিতে আড়াই ফুট দূরে দূরে লাগানো হয় চারা। প্রতি বিঘায় সাড়ে ৪ হাজার চারা রোপণ করা হয়েছে। চারা রেপণের ৪৫ দিনের মাথায় গাছে লতি গজায় আর ৭০ দিন পর থেকে বিক্রি শুরু হয়। ৫ বিঘা জমিতে করেছেন লতিরাজ কচুর চাষাবাদ। এখন প্রতি সপ্তাহে ৬ থেকে ৮ মণ লতি বিক্রি করছেন। প্রতি মণ ৮শ টাকা দরে। নতুন চারাও তৈরি করেছেন প্রায় ৩০ হাজার। বাকী ১০ বিঘা জমিতেও চাষ করবেন কচু।

ডুমুরিয়া সাজিয়াড়া এলাকার মোঃ মনিরুজ্জমান শুভ জানান, চাকরি করলে দূরে চলে যেতে হবে, তাই আর চাকরি নয়। মায়ের পাশে থেকে কৃষি কাজ করবো। এলাকার দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান যোগাবো। আমি কখনও হতাশ হইনি। এগিয়েছি সামনে।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মোসাদ্দেক হোসেন জানান, লতিরাজ কচু চাষাবাদ করে শুভ সফল। অনেকের হয়তো অনেক কিছু আছে কিন্তু তারা কিছুই করতে পারে না। আবার শুভর মতো অনেকে রয়েছে, যাদের মনের বলই তাদেরকে সামনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা
খুলনা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর